বুধবার ৫ কার্তিক ১৪২৮, ২০ অক্টোবর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

সিরাজগঞ্জের দই চন্দনচুর ক্ষীরখাসা ভগবতী চন্দ্রকলা

খাবার শেষে দই আছে- যে কোন অনুষ্ঠানে এমন বাক্য অনেকেই ছুড়ে দেন প্রিয় বন্ধুর প্রতি। আবার খাবার শেষে দই দেয়া না হলে অনেকেই প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিয়ে বাড়ি কিংবা বড় কোন অনুষ্ঠানে দই নিয়ে এমন মুখরোচক আলোচনাও হয়। মিষ্টি দই, টক দই, পানচে দই, সাদা রঙের দই, লালচে রঙের দই- এমন হরেক রকমের দই বাজারে পাওয়া যায়। নামেও আবার রকমফের আছে। যেমন- চন্দনচুর দই, ক্ষীরখাসা দই, ভগবতী দই, চন্দ্রকলা দই। যে নামেই ডাকা হোক না কেন সিরাজগঞ্জের দই দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও মানুষের রসনা মেটাতে সক্ষম হয়েছে। ব্রিটিশ শাসনামলে অবিভক্ত ভারতের কলকাতায় বড় সাহেবদের অনুষ্ঠানে খাবারের টেবিলে সিরাজগঞ্জের দই অতিথিদের মন জয় করেছে। দেশ ভাগের পর পাকিস্তানের রাজধানী রাওয়ালপিন্ডি এবং করাচীতে সিরাজগঞ্জের দই ডাইনিং টেবিলে স্থান করে নিয়েছে। স্বাধীনতার পর বিমানে চড়ে সুদূর আমেরিকা এবং লন্ডনেও বাঙালীর রসনা মিটিয়ে আসছে। সিরাজগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন স্থানে দই তৈরি হয়। তবে কিছু কিছু স্থানের দই খুবই প্রসিদ্ধ। যেমন সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর, এনায়েতপুর থানার এনায়েতপুর ও গোপালপুর, শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী, পোরজনা এবং পোতাজিয়ার দই বিখ্যাত। সিরাজগঞ্জ সদরের বাগবাটি, গাড়ুদহ এবং শিয়ালকোল অঞ্চলের দই খুবই রুচি সমৃদ্ধ। বেলকুচির রাজাপুরের তরুণ ঘোষ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে জানাতে গিয়ে বললেন তারা তিন পুরুষ ধরে দই তৈরি করেন। ঠাকুরদাদা স্বর্গীয় ঝড়ু ঘোষ, বাবা স্বর্গীয় হারান ঘোষ এবং তিনি নিজেই ছোটবেলা থেকে দই তৈরি করে বড় বড় বিভিন্ন উৎসবে দই সরবরাহ করে থাকেন। অর্ডার অনুযায়ী দই তৈরি করা হয় কুড়ি মণ দই সরবরাহেরও নজির রয়েছে বলে জানালেন। শীত মৌসুমে দই সবচেয়ে কেনাবেচা হয় বলে তিনি জানান। কারণ হিসেবে বললেন শীতকালে খুব দ্রুত দুধ জমাট বাধে এবং সুস্বাদু বেশি হয়। প্রকারভেদে দই এর দামও কমবেশি হয়। কোথাও কোথাও কেজি দরে আবার কোথাও তা প্রতি খুটিদরে বিক্রি করা হয়। সরার দই বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি। সরার দই প্রতি কেজি আড়াই শ’ থেকে তিন শ’ টাকা এবং খুটির দই দুই শ’ থেকে আড়াই শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। আবার প্রতি কেজি দই ৬০ থেকে ৮০ টাকা দামেও বিক্রি হয়। দেশের প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা অমূল্য লাহিড়ীর বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুরে। তার নামানুসারে লাহিড়ী মোহনপুর নামে রেলওয়ে স্টেশন স্থাপিত হয়েছে। সেই লাহিড়ী মোহনপুরেও মিল্ক ভিটার একটি কারখানা গড়ে উঠেছিল। এখানে দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন করা হতো। এই কারখানার অনতিদূরে উপজেলার ‘সলপ’ নামের বর্ধিষ্ণু জনপদ ঘোলের জন্য বিখ্যাত। দইও তৈরি হয়। প্রতিবছর সলপে ঘোল উৎসব হয়। এই উৎসবে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উৎসাহীরা আসেন ঘোল খেতে। উৎসবে পাঁচ থেকে সাত মণ ঘোল বেচা কেনা হয়। একই সঙ্গে দইও। দই দিয়ে চিঁড়া মুড়িরও উৎসব হয়।

-বাবু ইসলাম, সিরাজগঞ্জ থেকে

শীর্ষ সংবাদ:
কঠোর ব্যবস্থা নিন ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ         ওমানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে থাকল বাংলাদেশ         আজ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী         ধর্ম নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করবেন না         কেন এই সহিংসতা উত্তর এখনও মেলেনি         ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধের ডাক ॥ সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মাঠে আওয়ামী লীগ         মাঝিপাড়ায় এখন সুনসান নীরবতা, আতঙ্ক কাটেনি         প্রধানমন্ত্রী নিজের হাতে সাজিয়েছেন ফরিদপুর         পিএসসির প্রশ্ন ফাঁসে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড         মুছা কালু ভোলা-তিন জনের গ্রেফতারেই খুলতে পারে জট         স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে আঘাত হানতেই সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস         একযুগে আরেকটি স্বপ্নপূরণ         রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে মরিয়া সরকার ॥ ফখরুল         বাংলাদেশের মানুষ তার ধর্ম পালন করবে স্বাধীনভাবে : প্রধানমন্ত্রী         করোনা : আরও এলো ২০ লাখ টিকা, বৃহস্পতিবার আসবে ৫৫ লাখ         প্রতিমাসে তিন কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী         করোনা : গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ৭         অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ         পীরগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একশ বান্ডিল টিন ও নগদ অর্থ বরাদ্দ         সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বাড়লো ৭ টাকা