শনিবার ৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

গাইবান্ধায় আজও নির্মিত হয়নি স্মৃতিসৌধ

  • বধ্যভূমির পাশেই ছিল টর্চার সেল

৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক হানাদার বাহিনী তৎকালীন গাইবান্ধার বিভিন্ন স্থানে পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে। অথচ স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরেও এ জেলার সেসব টর্চার সেল ও বধ্যভূমিগুলোতে যথাযথ মর্যাদায় আজও স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়নি।

সে সময় এই মহকুমা শহরের অন্যতম টর্চার সেল এবং বধ্যভূমি ছিল জেলা শহরের গাইবান্ধা স্টেডিয়াম (তৎকালীন হেলালপার্ক) সংলগ্ন কফিল শাহর নির্মাণাধীন গুদাম। বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী হেলালপার্ক প্যাভিলিয়নে ক্যাম্প স্থাপন করে পার্শ্ববর্তী কফিল শাহর নির্মাণাধীন গুদাম ঘরকে নির্যাতন সেল হিসেবে ব্যবহার করে। প্রতি রাতেই বিভিন্ন স্থান থেকে নিরীহ লোকজন ধরে এনে পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা নৃশংসভাবে তাদের হত্যা করে মাটি চাপা দিয়ে রাখত। বিভিন্ন স্থান থেকে মেয়েদের ধরে এনে সেখানে দিনের বেলা বেঁধে রাখা হতো। আর রাতে তাদের ওপর চলত পাশবিক নির্যাতন। এক সময় যখন তারা নির্যাতন আর বর্বরতার কারণে মরণাপন্ন হয়ে পড়ত তখন গুলি করে নয়ত পেটে বেয়েনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হতো। অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে আটক করে অমানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাদের হত্যা করে সেখানে পুঁতে রাখা হয়। শুধু কফিল শাহর নির্মাণাধীন গুদাম চত্বরই নয়, এর পার্শ্ববর্তী এলাকা স্টেডিয়ামের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে এবং হেলালপার্ক সংলগ্ন লাইনের ধারে শত শত নারী-পুরুষকে গুলি অথবা বেয়নেট চার্জ করে হত্যার পর মাটি চাপা দিয়ে পুঁতে রাখা হয় এই টর্চার সেলের আশপাশেই।

’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে কুখ্যাতি অর্জন করা এই টর্চার সেলটি এখনও বধ্যভূমির মর্যাদা পায়নি। এখনও সেখানে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মারক চিহ্ন হিসেবে গড়ে ওঠেনি কোন স্মৃতিস্তম্ভ। শুধু ২৬ মার্চ এবং বুদ্ধিজীবী দিবসে শহীদদের স্মরণে এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে মোমবাতি প্রজ্বলন করে বধ্যভূমি সংরক্ষণ কমিটি তাদের স্মরণ করে।

এছাড়া পলাশবাড়ির সড়ক ও জনপদ বিভাগের রেস্ট হাউসের পেছনের গুদাম ছিল গাইবান্ধার অন্যতম টর্চার সেল ও বধ্যভূমি। এই রেস্ট হাউসে ক্যাম্প স্থাপন করে বর্বর পাক বাহিনী। তারা এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য বাঙালী নারী-পুরুষকে ধরে এনে নৃশংসভাবে হত্যা করে। গুদামের ঘরগুলোতে মেয়েদের বেঁধে রেখে তাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাত। এক পর্যায়ে তাদের হত্যা করে পুঁতে রাখা হয় ওই গুদামের আশপাশের জমিতেই। স্বাধীনতার দীর্ঘকাল পেরিয়ে গেলেও এই টর্চার সেল এবং বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

এছাড়া সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া, রেলওয়ে জংশনে পাক সেনারা ঘাঁটি গেড়ে ওই এলাকায় টর্চার সেল গড়ে তোলে। বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রেনযোগে সেখানে ধরে নিয়ে আসা হয় অসহায় নারী-পুরুষ। তারপর তাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে এক সময় গুলি করে হত্যা করা হয়। পুঁতে রাখা হয় রেল লাইনের আশপাশেই। এমনকি ১৯৭১ সালে লোকোশেডের কয়লার ইঞ্জিনের চুলিতে জীবন্ত মানুষ ঢুকিয়ে দিয়ে পুড়িয়ে মারারও বহু ঘটনা ঘটিয়েছে বর্বর পাক হানাদার বাহিনী। গাইবান্ধা জেলায় ৩০টিরও বেশি এমন টর্চার সেল ও বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া গেছে।

বধ্যভূমি সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক জিএম চৌধুরী মিঠু জানান, এসব বধ্যভূমি সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেয়া না হলে কালের বিবর্তনে একদিন হারিয়ে যাবে। অবিলম্বে সে সব স্থানে স্মৃতিসৌধ স্থাপন করা প্রয়োজন।

Ñআবু জাফর সাবু, গাইবান্ধা থেকে

শীর্ষ সংবাদ:
এখন অপার সম্ভাবনা ॥ এক সময়ের অবহেলিত, বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চল         রায়ার ইচ্ছা পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী         পেঁয়াজ আতঙ্ক কেটে গেছে, কেনার হিড়িক নেই         এটিএম জালিয়াতি কমেছে         পাত্র চাই বিজ্ঞাপন দিয়ে এক নারী হাতিয়েছে ৩০ কোটি টাকা         করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত কমেছে, বেড়েছে সুস্থতা         করোনা শনাক্তে এ্যান্টিজেন ও এ্যান্টিবডি টেস্ট চালুর পরামর্শ         টিকা থেকে মাস্ক বেশি কার্যকর ॥ সিডিসি         ভারি বৃষ্টি উজানের ঢল- ধরলার পানি বিপদসীমার ওপরে         করোনা উপসর্গে ঝালকাঠিতে গৃহবধূর মৃত্যু         অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাড়ছে মাদক পাচার, সেবন         আল্লামা আহমদ শফী আর নেই         পেঁয়াজ ভর্তি ট্রলার ভিড়েছে টেকনাফে         অর্থনৈতিক উন্নয়ন বেগবানে ৩৪ হাজার কোটি টাকার ফান্ড ঘোষণা এডিবির         করোনা ভাইরাসে আরও ২২ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৫৪১         করোনা ভাইরাস ॥ বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ছাড়াল সাড়ে ৯ লাখ, আক্রান্ত ৩ কোটির বেশি         অ্যাটর্নি জেনারেলের অবস্থার অবনতি, আইসিউতে স্থানান্তর         করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় কারিগরি কমিটির ৭ পরামর্শ         বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের নয় তিনি সারা বিশ্বের সম্পদ ॥ খাদ্যমন্ত্রী         ভিডিও কলে কথা বলে কিশোরীর ইচ্ছা পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী