মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও তীব্র শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টা চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গতকাল (১৮ মার্চ ) বিকেলের দিকে হঠাৎ করে আঘাত হানা ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শত-শত বিঘা জমির ভুট্টা খেত নষ্ট হয়ে গেছে। এতে সম্ভাব্য ফলন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং অনেক কৃষক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ঝড়ের তাণ্ডবে অনেক ক্ষেতেই ভুট্টা গাছ ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পাশাপাশি শিলাবৃষ্টির আঘাতে ভুট্টার দানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ফলে চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের যে আশা করেছিলেন কৃষকেরা, তা মুহূর্তেই ম্লান হয়ে গেছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ভুট্টার ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই আশায় অনেকেই ধানের পাশাপাশি অধিক লাভের প্রত্যাশায় ভুট্টা চাষে ঝুঁকেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, চাষাবাদের খরচ মেটাতে অনেকেই ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। এখন ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা ঋণ পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, সময়মতো সহায়তা না পেলে তাদের আর্থিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা প্রদান করা হোক। তাদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা না পেলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, গতকালের শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের ফলনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে । আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্থ ফসল নিরূপনে ইতোমধ্যেই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। কৃষকদের ফসলের ক্ষতিগ্রস্থের ধরণ ও পরিমাণ দেখে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট জানানো হবে। তবে কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকারের সহায়তার বিষয়ে আলাপ করা হবে বলেও জানান তিনি।
রাজু








