ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

অল্প খরচে অধিক ফলন

মীরসরাইয়ে কৃষকদের আশার আলো জাগাচ্ছে সূর্যমুখী

সংবাদদাতা, মীরসরাই, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২২:৩৬, ১৪ মার্চ ২০২৬

মীরসরাইয়ে কৃষকদের আশার আলো জাগাচ্ছে সূর্যমুখী

মীরসরাইয়ে কৃষকদের নতুন আশার আলো জাগাচ্ছে সূর্যমুখী

সকালের কোমল রোদ উঠতেই হলুদ পাপড়িতে ভরে ওঠে মাঠ। সূর্যের দিকে মুখ তুলে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য সূর্যমুখী ফুল যেন হাসছে একসঙ্গে। আর সেই হাসিতেই আশার আলো দেখছেন চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো পরিচর্যায় ইতোমধ্যে অধিকাংশ গাছে ফুল ফুটেছে। এতে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। মাঝেমধ্যেই পোকামাকড়ের আক্রমণ ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে গাছ ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। কৃষি কর্মকর্তারা তাই নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষি সম্ভাবনার উর্বর জনপদ মীরসরাইয়ে ধান, সবজি ও সরিষার পাশাপাশি এখানকার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন বাড়ছে সূর্যমুখীর মতো বিভিন্ন অর্থকরী ফসলের আবাদও। কৃষি বিভাগের প্রদর্শনী প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন ৩০ জন কৃষক। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে ভোজ্য তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বিকল্প তেলবীজ ফসলের চাষ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ। সূর্যমুখী তেল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এর চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। সূর্যমুখীর বীজ থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি সবই পাওয়া যায়। 
কৃষি বিভাগের হিসাবে, প্রতি কেজি বীজ থেকে অন্তত আধা লিটার তেল উৎপাদন সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে ৭ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত বীজ উৎপাদন হয়। সে হিসাবে প্রতি বিঘায় ১৪০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত তেল পাওয়া যেতে পারে। বাজারে প্রতি লিটার সূর্যমুখী তেলের দাম প্রায় ৪০০ টাকা। 
ইছাখালী ইউনিয়নের চরশরত গ্রামের চাষি সমীর চন্দ্র দাশ জানান, কৃষি অফিসের প্রণোদনা পেয়ে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে ৪০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমুখী চাষ করেছি। সবকিছু ঠিক থাকলে খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি।’
ফলন শুধু কৃষকের জন্য নয়, দর্শনার্থীর জন্যও আকর্ষণীয়। হলুদ ফুলের সমারোহ দেখতে আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন। 
কেউ তুলছেন ছবি, কেউ পরিবার নিয়ে উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই রঙিন আয়োজন।
সূর্যমুখী ফুল দেখতে আসা স্থানীয় যুবক রয়েল ও রনজিত দাশ বলেন, ‘সব ধরনের ফুলই সুন্দর, কিন্তু ফসলি জমির মাঝখানে একসঙ্গে এত সূর্যমুখী ফুল ফুটতে দেখা সত্যিই দারুণ। পুরো মাঠটা যেন হলুদ কার্পেটের মতো দেখাচ্ছে।’
মীরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘অন্যান্য ফসলের তুলনায় সূর্যমুখী চাষে খরচ কম এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি। এছাড়াও লবনাক্ত জমিতেও চাষ করা যায় এই ফুলের। কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে আমরা প্রণোদনা কর্মসূচি চালু করেছি। ভবিষ্যতে মীরসরাইয়ে সূর্যমুখী চাষ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে মীরসরাইয়ের কৃষকদের জন্য সূর্যমুখী হতে পারে লাভজনক একটি বিকল্প ফসল। তখন বসন্ত এলেই উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ফুটবে সূর্যমুখীর হাসি-যা নতুন সম্ভাবনার গল্প বলবে গ্রামীণ অর্থনীতির।

প্যানেল হু

×