ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

সাত কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি

বরিশালে ভাঙনের ঝুঁকিতে কৃষি জমি ও ঘরবাড়ি

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

প্রকাশিত: ২২:৩৪, ১৪ মার্চ ২০২৬

বরিশালে ভাঙনের ঝুঁকিতে কৃষি জমি ও ঘরবাড়ি

বরিশালে নদীর তীর ভাঙনে হুমকিতে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি

নদীঘেরা বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মেঘনার শাখা কালাবদর ও লতা নদী। নদীতীরবর্তী এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস, যাদের অধিকাংশরাই কৃষি ও মাছ শিকারের ওপর নির্ভরশীল। এসব মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ নদী ভাঙন।
নদীর প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী বাঁধ না থাকায় এবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েকশ’ একর কৃষিজমি ও ঘরবাড়ি। এছাড়া জোয়ারের পানির কারণে তাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় উপজেলার কাজিরহাট থানা এলাকার আন্দারমানিক ইউনিয়নের একতার বাজার থেকে আলীখাঁর হাট পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার নদী তীরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন থেকে তারা নদীভাঙন ও জোয়ারের পানির সাথে লড়াই করে কোনমতে টিকে আছেন। এ অবস্থায় একাধিক গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পরবে এ জনপদ। বিলীন হয়ে যাবে কৃষিজমি ও বসতভিটা।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আন্দারমানিক ইউনিয়নের একতার বাজার থেকে আলীখাঁর হাট পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার নদীতীরবর্তী এলাকায় কোন স্থায়ী বাঁধ নেই। তাই বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগে পরতে হচ্ছে আন্দারমানিক, আজিমপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষকে। নদীর ¯্রােত ও জোয়ারের পানির চাপে আশপাশের ছয়-সাতটি গ্রাম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক ইসমাইল হোসেন, আনিসুর রহমান, আবদুল কাদেরসহ অনেকেই জানিয়েছেন, নদীর পানির চাপে প্রতিবছর প্রায় চার থেকে পাঁচশ’ একর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি গ্রামে প্রবেশ করায় আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে চাষাবাদ বন্ধ করে দিয়েছেন।
একতার বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুম আসলেই আমরা আতঙ্কে থাকি। নদীর পানি গ্রামে ঢুকে যেমন ফসল নষ্ট হয়, তেমনি নদীভাঙন শুরু হয়। তিনি আরও বলেন, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভংগা গ্রামের আলীখাঁর হাট গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, সাত কিলোমিটার এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হলে কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ নদীভাঙন ও জোয়ারের পানির হাত থেকে রক্ষা পাবে। এতে কৃষিজমিও নিরাপদ থাকবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতীর রক্ষায় মাঝে মধ্যে অস্থায়ীভাবে মাটি কিংবা বালির বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। বরং বর্ষা মৌসুমে আবারো একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। যে কারণে একতার বাজার থেকে আলীখাঁর হাট পর্যন্ত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি জোয়ারের পানি গ্রামে প্রবেশ বন্ধ হবে। এতে রক্ষা পাবে বসতভিটা, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক।
আন্দারমানিক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান ও ইউপি সদস্য লিটন হাওলাদার বলেন, এলাকাবাসীর দাবিটি যৌক্তিক এবং দীর্ঘদিনের। নদীভাঙন ও জোয়ারের পানির কারণে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নদী ভাঙনরোধে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সেতু ও নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এবার কার্যকরী ভূমিকা রাখবেন।

প্যানেল হু

×