তরমুজ খেত পরিচর্যা করছেন কৃষক
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার তিস্তা নদীর বালুচরে এখন চোখে পড়ছে সবুজের সমারোহ। যে তিস্তা একসময় ধু-ধু বালুচর আর জনশূন্যতার হাহাকার ছড়িয়ে রাখত, সেই তিস্তার বুকেই এখন ফলছে তরমুজ। উপজেলার গোলমু-া ইউনিয়নের সাইফোন সংলগ্ন চর হলদিবাড়ি এলাকায় চরের কৃষকেরা আগাম তরমুজ চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুকনো মৌসুমে তিস্তার পলি ও বালু মিশ্রিত এসব জমি বছরের অধিকাংশ সময়ই অনাবাদী পড়ে থাকত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে তরমুজের লতা আর বড় বড় রসালো ফলে ভরে উঠেছে তিস্তার বালুচর। সাধারণত জানুয়ারি মাসে তরমুজের আবাদ শুরু হলেও স্থানীয় কৃষক তুহিন মিয়া ঝুঁকি নিয়ে গত ডিসেম্বরেই তরমুজের চাষ শুরু করেন। তার এ উদ্যোগ দেখে অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হন। বর্তমানে প্রায় ৭০ বিঘা জমিতে আগাম তরমুজের আবাদ হয়েছে। প্রতিটি তরমুজের ওজন ইতোমধ্যে গড়ে ২ থেকে ৩ কেজি ছাড়িয়েছে।
তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কৃষকদের কঠোর পরিশ্রম। তিস্তা নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় ছোট শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে পানি তুলে বালতিতে ভরে খেতে সেচ দিতে হচ্ছে তাদের। এতে বাড়ছে শ্রম ও উৎপাদন খরচ। কৃষকেরা জানান, তরমুজ রোপণের প্রায় ৯০ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা যাবে। এরপর একই জমিতে বাদাম চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে। স্বাদে মিষ্টি ও আকারে বড় হওয়ায় এসব তরমুজের চাহিদা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়ন ও সেচ সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ। আগামী বছরগুলোতে এই চরাঞ্চলে আরও উচ্চমূল্যের ফসল চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, এবারই প্রথম জলঢাকা উপজেলায় একসঙ্গে প্রায় ৭০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সেচ সুবিধা সহজ হলে ভবিষ্যতে তিস্তার বিস্তীর্ণ চরজুড়ে আরও বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।
চরাঞ্চলের কৃষকদের আশা, সরকারি সহায়তা ও সেচ সুবিধা বাড়লে তিস্তার বালুচর একদিন দেশের অন্যতম ফলনশীল কৃষি অঞ্চলে পরিণত হবে।
প্যানেল হু








