গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গর্ভবতী স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভের ছয় মাসের সন্তান হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি মো. আবু সাঈদ ওরফে মিষ্টার (৩৮) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী ও গ্রেফতারকৃত আবু সাঈদ স্বামী-স্ত্রী। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে গত ৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ভুক্তভোগী তার স্বামীর বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।এরপর গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৫টার দিকে মামলাটি মীমাংসার কথা বলে আবু সাঈদ তার বাড়িতে ভুক্তভোগীকে ডেকে নেন। সেখানে গিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু ভুক্তভোগী মামলা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে আবু সাঈদ তার পেটে সজোরে লাথি মারেন।এতে গুরুতর আহত হয়ে ভুক্তভোগীকে দ্রুত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে তার গর্ভে থাকা ছয় মাসের অজাত সন্তান মৃত অবস্থায় গর্ভপাত হয়।
ঘটনার পর ওইদিনই ভুক্তভোগী বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় পেনাল কোডের ৩২৩/৩২৫/৩১৬/৩০৭/৩৫৪/১১৪/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৩)।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে আসামিকে গ্রেফতারে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, সিপিসি-৩ গাইবান্ধা এবং র্যাব-০৫, সিপিসি-৩ জয়পুরহাটের একটি যৌথ দল শুক্রবার (৭ মার্চ) রাত ১০টা ৫০ মিনিটে জয়পুরহাট জেলার কালাই থানার পাচী ইউনিয়নের পুনট পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সোনাতলা সাখইল গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু সাঈদ ওরফে মিষ্টারকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি হত্যা, ধর্ষণসহ সকল ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রাজু








