সদর পৌর শহরের নিশ্চিন্তপুর মহল্লার বাসিন্দা অদম্য নারী আসমা বেগম। তাঁর দুর্দশার গল্প শুনে টাকার চেক নিয়ে আসমার ভাঙা গোয়াল ঘরে হঠাৎ হাজির হলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা।
আসমা বেগম তার ছোট্র বাড়িতে গরু, মুরগি ও কবুতর পালন করেই সংসার চালাচ্ছিলেন। সেই আয়ের টাকায় চলছিল সংসার, পাশাপাশি দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার খরচও বহন করছিলেন তিনি। কিন্তু কিছুদিন আগে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে তার আয়ের প্রধান উৎস তিনটি গরুই মারা যায়। এতে এক মুহূর্তে যেন আকাশ ভেঙে পড়ে আসমার সংসার। বন্ধ হয়ে যায় মায়ের চিকিৎসাও।
এমন পরিস্থিতিতে আসমা দ্বিধা-সংকোচ কাটিয়ে কয়েকদিন আগে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা খুলে বলেন । সে সময় জেলা প্রশাসক তাকে আশ্বাস দেন পাশে থাকার।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ আসমার ভাঙা গোয়াল ঘরে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম ও সমাজসেবা দফতরের কর্মকর্তারা।
সেখানে সমাজসেবা অধিদফতরের বিশেষ তহবিল থেকে গরু কেনার জন্য আসমা বেগমের হাতে ৫০ হাজার টাকার একটি চেক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও বসতঘর মেরামতের জন্য আরও সহায়তার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।
সহায়তার চেক হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আসমা বেগম। অশ্রসিক্ত চোখে তিনি জানান, এই টাকা দিয়ে আবার একটি গরু কিনবেন, ঘর ঠিক করবেন এবং মায়ের চিকিৎসা আবার শুরু করবেন।
জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, কিছুদিন আগে আসমা আমার সঙ্গে দেখা করে তার কষ্টের কথা বলেছিল। তিনি পরিশ্রম করে সংসার চালান। কিন্তু গরুগুলো মারা যাওয়ায় তিনি বিপদে পড়েছেন। তার মা অসুস্থ এবং ঘরে রাখার মতো ভালো পরিবেশও নেই। তাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে কিছু সহায়তা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তাঁর পাশে থাকার চেষ্টা থাকবে।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন সংগ্রামী এই নারী।
রাজু








