ছবি: জনকণ্ঠ
সদর উপজেলার সালন্দর ইক্ষু খামারে রাস্তার পাশে রোপণকৃত পরিবেশবান্ধব বনজ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান পাঁচ শতাধিক গাছের চারা রাতের আঁধারে কে বা কারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে কেটে ফেলেছে। বুধবার ভোররাতের এ ঘটনায় এলাকায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসী প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করে তাকে গ্রেফতারসহ কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় কৃষক আবুল কালাম আজাদ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, তিনি প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তার লক্ষ্যে ইক্ষু খামার কর্তৃপক্ষ, বন বিভাগ ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে চুক্তি সাপেক্ষে দুই বছর আগে সালন্দর ইক্ষু খামারে রাস্তার পাশের ফাঁকা স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবেশবান্ধব বনজ বিভিন্ন প্রজাতির দশ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছিলেন। গাছগুলো বেশ বড় হয়ে উঠছিল এবং এলাকায় সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়রা প্রশংসাও করছিলেন। কিন্তু বুধবার ভোররাতে কে বা কারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পাঁচ শতাধিক গাছ কেটে সম্পূর্ণ নষ্ট করে ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় একটা পর্যন্ত তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন। তখন পর্যন্ত গাছগুলো কাটা হয়নি। বুধবার সকালে স্থানীয়দের কাছে গাছ কাটার খবর পেয়ে এসে দেখেন তার ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে। কে বা কারা কেন এই অমানবিক ও ঘৃণ্য কাজটি করেছে, তা তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না। কারও সঙ্গে তার এমন কোনো বিরোধ নেই যে, কেউ তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে শত্রুতা বশত গাছগুলো ধ্বংস করবে। তিনি প্রশাসনের কাছে দোষী ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে গ্রেফতারসহ কঠোর শাস্তির দাবি জানান। কাটা গাছগুলোর মধ্যে ছিল মেহগনি, আকাশমনি, কৃষ্ণচূড়া, শিমুলসহ অন্যান্য প্রজাতি।
এ ব্যাপারে সালন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে বুধবার সকালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত আবুল কালাম আজাদকে বন বিভাগ ও সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী ব্যক্তিকে আটকে প্রশাসনকে সহায়তার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রকৃতিবান্ধব গাছের সঙ্গে শত্রুতা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।
শহীদ








