ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

জলঢাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি উৎপাদন, জনস্বাস্থ্যে শঙ্কা

মো. রমজান আলী, জলঢাকা (নীলফামারী) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৭:৪৯, ৪ মার্চ ২০২৬

জলঢাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি উৎপাদন, জনস্বাস্থ্যে শঙ্কা

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার টেংগনমারী এলাকায় গড়ে ওঠা “মেসার্স ভাই ভাই মুড়ি অ্যান্ড চিড়ামিল” নামের একটি মুড়ি কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় নীতিমালা উপেক্ষা করে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা এবং পরিবেশ দূষণের মাধ্যমে স্থানীয়দের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) সরেজমিনে কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, নীতিমালায় অটোমেটিক মেশিন ব্যবহারের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে লাকড়ির চুলায় মুড়ি ভাজা হচ্ছে। এতে নির্গত কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। কারখানার চিমনি বা ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে আধুনিক কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রতিদিন ধোঁয়ার কারণে তারা শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা ও গলাব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

কারখানার ভেতরেও দেখা গেছে অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। খোলামেলা জায়গায় মুড়ি প্যাকেটজাত করা হচ্ছে, যেখানে খাদ্য নিরাপত্তা বিধিমালা অনুসরণের দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। নেই পর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধা, স্বাস্থ্যসম্মত সংরক্ষণ ব্যবস্থা কিংবা মান নিয়ন্ত্রণের কার্যকর প্রক্রিয়া।

খাদ্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুড়ি একটি শুকনো খাদ্যপণ্য হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ তা ধোয়া ছাড়াই সরাসরি খেয়ে থাকেন। ফলে উৎপাদন ও প্যাকেটজাতকরণের সময় স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে ক্ষতিকর জীবাণু সরাসরি ভোক্তার শরীরে প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে ডায়রিয়া, খাদ্যে বিষক্রিয়া ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের আশঙ্কা বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে কারখানার মালিক মো. সাইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। তবে উৎপাদন পদ্ধতি ও নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দেননি।

এ প্রসঙ্গে জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন, জলঢাকা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, “এর আগেও কারখানাটিকে একবার জরিমানা করা হয়েছে। পুনরায় বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা না হলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত অব্যাহত থাকবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। সচেতন মহলের মতে, শুধু এই কারখানাই নয়—উপজেলার আরও কয়েকটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অবস্থাও বেহাল। নিয়মিত পরিদর্শন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণ এবং কঠোর আইন প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি। 

রাজু

×