বান্দরবানের লামা উপজেলায় সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)–এর এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় চাঁদাবাজির অভিযোগে আরও একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে লুলাইং ইউনিয়নের মারাইত্তা বাজার এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি অস্ত্র প্রদর্শন করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা একজনকে আটক করে সেনাবাহিনীর লুলাইং ক্যাম্পে হস্তান্তর করেন।
আটক ব্যক্তি সরই ইউনিয়নের ঢেঁকিছড়া পাড়ার বাসিন্দা প্রেনপং ম্রো। সেনাবাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদা দাবির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মারাইত্তা বাজারসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাটির নিচে লুকানো একটি পিস্তল ও ১৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
এদিকে একই দিনে প্রেনপং ম্রোর ভাই তং পং মোরং গজালিয়া এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে তাকেও আটক করে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
আটক প্রেনপং ম্রোকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পাহাড়ে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাজাহান কামাল জানান, সেনাবাহিনী অস্ত্রসহ একজনকে থানায় সোপর্দ করেছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজু








