ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

সরকারি মূল্যে সার মিলছে না, সিন্ডিকেটের দাপটে উৎপাদন ঝুঁকিতে

মো. রমজান আলী, জলঢাকা (নীলফামারী) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৯:২৩, ২ মার্চ ২০২৬

সরকারি মূল্যে সার মিলছে না, সিন্ডিকেটের দাপটে উৎপাদন ঝুঁকিতে

নীলফামারীর জলঢাকায় সরকারি হিসাব অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকা সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে কৃষকরা সরকারি দামে সার পাচ্ছেন না। সরকারিভাবে বরাদ্দ ও মজুত থাকার কথা থাকলেও স্থানীয় ডিলার ও খুচরা বাজারে সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২ মার্চ) উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে লক্ষ করা যায় মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা!সরকারি দামে সার না পেয়ে দিশেহারা কৃষকরা।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫‑২৬ অর্থবছরে সার বরাদ্দ যথেষ্ট দেওয়া হয়েছে; তবে মাঠ পর্যায়ে ডিলাররা ভর্তুকিপ্রাপ্ত সার সরাসরি কৃষকদের কাছে না দিয়ে তা খুচরা বাজারে উচ্চ দামে বিক্রি করছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডিলাররা টিএসপি, ডিএপি ও অন্যান্য নন‑ইউরিয়া সার খুচরা বাজারে প্রতি বস্তায় ৪০০‑৬০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছে বলে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন।

শৌলমারী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মবিন বলেন, “ডিলারের কাছে সার নেই বলে ফিরিয়ে দেবে, কিন্তু খুচরা দোকানে থাকলে দাম অনেক বেশি। আমরা গরিব, এত বেশি দামে কীভাবে সার কিনব?”

পৌর এলাকার কৃষক মহুবর রহমান বলেন, “ডিলারের পিছনে ঘুরেও সার পাই না। কিন্তু বেশি দাম দিলে ঠিকই পাওয়া যায়। সার এখন সোনার হরিণ হয়ে গেছে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরাদ্দ থাকলেও মাঠ পর্যায়ে কার্যকর তদারকি না থাকায় সিন্ডিকেট তৈরি হচ্ছে; ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যেতে পারে এবং ধানের ফলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে শুধু বরাদ্দ ও মজুত দেখানোই যথেষ্ট নয়, মাঠ পর্যায়ের কঠোর নজরদারি জরুরি।

এদিকে ডিলাররা দিনে অথবা গভির রাতে পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও জেলায় ব্লাকে সার বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতেছে।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং সকল অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি করেন।

রাজু

×