ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত: ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল ৫শ’ শয্যায় উন্নীত হবে

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও

প্রকাশিত: ১৭:৪৭, ১ মার্চ ২০২৬; আপডেট: ১৭:৪৮, ১ মার্চ ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত: ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল ৫শ’ শয্যায় উন্নীত হবে

ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালকে ৫শ’ শয্যায় উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জেলার মানুষের জন্য মানসম্মত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

রবিবার সকালে ঠাকুরগাঁও ২৫০শয্যার জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।   

মন্ত্রী মির্জা ফখরুল জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হাসপাতালের অবকাঠামো ও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি অপরিহার্য।

তিনি বলেন, হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখা, চিকিৎসা সরঞ্জাম বৃদ্ধি এবং সেবার মান উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন, হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক কর্তৃপক্ষ চাহিদাপত্র পাঠালে তা দ্রæত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রোগী ও স্বজনদের চলাচল সহজ করতে একটি লিফট স্থাপনের বিষয়েও জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারি নীতিমালায় রয়েছে ৩ বছরে বেশি একজন ডাক্তার একই কর্মস্থলে  কর্মরত থাকতে পারবের না কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ে ৫/৭ বছর ধরে কয়েকজন ডাক্তার কর্মরত রয়েছেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিষয়টি আমরা দেখব, দায়ীত্ব গ্রহণের কেবল ১০-১২ দিন হলো আস্তে আস্তে সবকিছু নিয়মের মধ্যে আনা হবে।” 

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি’র বাবা সমাজ সংস্কারক ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা রুহুল আমিন এর ৩০তম ইন্তেকাল বার্ষিকী ও ১০৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপি ও মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি পরিষদের যৌথ আয়োজনে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল মন্তব্য করে বলেন, আজকে আমরা একটা ক্রান্তিলগ্নে বাস করছি, আমাদের চিন্তা ভাবনাগুলো কেমন যেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে। আজকে সেই চিন্তা ভাবনাগুলোকে একত্রিত করতে হবে।

এসময় তিনি আরও বলেন, সমাজকে গড়ে তুলতে হলে আজকে অবশ্যই নারীদের সামনে সমানভাবে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে একটি গোষ্ঠী নারীদের পর্দার আড়ালে আটকে রাখতে ও দূরে ঠেলে দিতে চায়। কিন্তু আমরা মনে করি সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে এবং নারীদের অংশগ্রহণ প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। আসুন সবাই মিলে বাংলাদেশকে একটা ভালোবাসার রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলি। এ সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁর মরহুম বাবা মির্জা রুহুল আমিনের কর্মময় জীবন তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করেন।         

এ অনুষ্ঠানে শিক্ষা, ক্রীড়া, সমাজসেবা, নারী উদ্যোক্তা ও সংস্কৃতি বিষয়ে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচ জন ব্যক্তিকে সম্মাননা স্মারক এবং তিনটি ক্যাটাগরিতে কেরাত প্রতিযোগিতায় দশ জন প্রতিযোগীর হাতে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট এবং নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

এরও আগে মির্জা রুহুল আমিনের আত্মার মাগফেরাত কামনায় কোরআনখানী, কবর জিয়ারত এবং পরবর্তীতে দোয়া করা হয়। এই ইফতার  মাহফিলে জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় পাঁচ হাজার মুসল্লী উপস্থিত ছিলেন।

রাজু

×