ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একাব্বর আলী (৭০) হত্যার ঘটনার পর আসামিপক্ষের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি জমির ফসল তুলে নেওয়া এবং বোরো ধান রোপণে বাধা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে আসামিপক্ষের পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের মধ্য বেলকা গ্রামের ঝাঁকুয়াপাড়ায় পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে একাব্বর আলীর সঙ্গে ভাগি-শরিকদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধীয় জমিতে চাষাবাদ শুরু করলে একাব্বর আলী বাধা দেন। এ সময় তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নিহতের ছেলে নুর আলম মিয়া বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানা-এ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় জড়িত সন্দেহে আব্দুল মতিন মেম্বারের স্ত্রী মোছা. মর্জিনা বেগম (৫০), মৃত রুস্তম আলীর স্ত্রী মোছা. স্বপ্না বেগম (৪৮), মৃত আজিজল হকের স্ত্রী মোছা. নুরজাহান (৬৫) এবং মিজানুর রহমানের স্ত্রী মোছা. রেনু বেগম (৩৮)কে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে আসামিপক্ষের অভিযোগ, ঘটনার পর তাদের পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে গেলে সেই সুযোগে বাদীপক্ষের লোকজন বাড়িতে হামলা চালায়। তারা দাবি করেন, আব্দুল মতিন মেম্বারের বাড়িতে প্রায় ২৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এছাড়া তার তিন ছেলে— মিজবাহুর রহমান, মিজানুর রহমান ও মাজহারুল ইসলামের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে যথাক্রমে ৪৩ লাখ ৭ হাজার ১০০ টাকা, ৪২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ২৭ লাখ ৬৫ হাজার ৮০০ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ করা হয়েছে।
লুট হওয়া মালামালের মধ্যে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা, ফ্রিজ, আলমারি, ডাইনিং টেবিল, খাট, সোপাসেট, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, সেচ মেশিন, ধান-চাউল, ধান মাড়াই মেশিন, পুকুরের মাছ, এলইডি টিভি, কম্পিউটার, মোটরসাইকেল, গবাদিপশু ও গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রায় এক বিঘা জমির আলু তুলে নেওয়া হয়েছে এবং ১০-১২ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধে একাব্বর আলী নিহত হওয়ার ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। ঘটনার দিন রাতেই নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন প্রতিপক্ষের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় বলে জানা গেছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় এখনো আলাদা কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। হত্যা মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এম.কে








