মুন্সীগঞ্জে নিখোঁজের ১৯ দিন পর মিশুকচালক সাকিল খালাসি (২৪) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সদর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরের চর রমজানবেগের মিলিটারি চক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। হত্যার সাথে জড়িত রাজন শেখ (২৫), ইমরান সরকার (১৯), শরীফ সুলতান আফসু (২৫) ও অটোরিকশাটির ক্রেতা ইউসুফ গাজীকে (৬০) গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত সাকিল মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চর হায়দ্রাবাদ এলাকার শাহীন খালাসী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিজের মিশুক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন ২৮ জানুয়ারি তাঁর বাবা মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর ২০১৫) করেন। এরপর দীর্ঘ ১৯ দিনেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজের সময় সাকিলের পরনে ছিল জিন্স প্যান্ট ও কালো জ্যাকেট। তিনি মাঝারি গড়নের, ছোট চুল ও শ্যামলা বর্ণের ছিলেন। নিখোঁজের পর একটি প্রতারক চক্র তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে দাবি করে পরিবারের কাছে হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রবিবার স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝোপঝাড় থেকে একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। স্বজনরা সেটিকে সাকিলের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন।
সোমবার মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম। তিনি জানায়, ইজিবাইক ছিনতাইকে কেন্দ্র করে সাকিলকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং ছিনতাইকৃত ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী মুন্সীগঞ্জ সদর থানা প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত তিনজন হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা এবং একজন লুন্ঠিত অটোরিকশা ক্রয়ের কথা স্বীকার করেছে। নিহত সাকিল খালসির পিতা শাহীন খালাসী বাদী হয়ে এই ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এ.এইচ








