ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

খাদ্য সংকটে মানুষ

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, হাওড়ে নতুন আতঙ্ক ‘আফাল’

জনকণ্ঠ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০০:১৮, ২৩ জুন ২০২৪

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, হাওড়ে নতুন আতঙ্ক ‘আফাল’

বন্যাকবলিত ছাতকে নৌকা করে পারাপার হচ্ছে মানুষ

সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হয়েছে। তবে বন্যাকবলিত এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। খেটে খাওয়া মানুষ খাদ্য সংকটে ভোগছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ ব্যবস্থা অপ্রতুল। বৃষ্টি ও উজানের ঢল কমায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। একইসঙ্গে নদ-নদীর পানিও কমেছে। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সিলেটে ফের বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বন্যাকবলিত সিলেট নগরীর খাল ও ছড়া পরিদর্শন করে সিটি মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, নগরীর ভেতর ২৩টি ছড়া আছে। ১৯৫৬ সালের ম্যাপ ধরে আমরা কাজ করব। নগরীর সমস্ত ছড়া উদ্ধার ও খনন করে সুরমা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করব এবং সুরমা নদী খনন করা হবে। শুধু সিটি করপোরেশন এলাকা খনন করলে হবে না। উৎপত্তি স্থল থেকে খনন কাজ করতে হবে।
অন্যদিকে বন্যার আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই হাওড়ে শুরু হয়েছে নতুন আতঙ্ক আফাল (ঢেউ)। দুশ্চিন্তায় দিশাহারা হাওড়পাড়ের মানুষ। একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করে জীবন যাপন করছে সাধারণ মানুষ। উজানের পানি এসে নি¤œাঞ্চলের বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়া দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই হাওড়ে আবার নতুন করে শুরু হয়েছে আফাল। 
উত্তরের নীলফামারি, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরে পানি কমেছে। কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে গাইবান্ধায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতার।
শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে সিলেট আবহাওয়া অফিস। সিলেট শহরে সুরমা নদীর পানি কমে বর্তমানে বিপৎসীমার তিন সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন বাসা বাড়ি থেকে নামতে শুরু করেছে পানি। কিছু এলাকায় পানি কমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে অনেক পরিবার বাড়িতে চলে গেছেন। বিপাকে পড়েছেন এখনো যারা আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। সিলেট শহর এলাকার ড্রেন, ছড়া, খাল পরিষ্কার না থাকা এবং এক ড্রেনের সঙ্গে অন্য ড্রেনের সংযোগ না থাকায় পানি নামছে না। ড্রেনের ময়লা উপরে উঠে এসে দুর্গন্ধময় পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন বাসা বাড়িতে জমে আছে ময়লা পানি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ১২ ঘণ্টায় সিলেট পয়েন্টে সুরমার পানি কমেছে ১২ সেন্টিমিটার। এ ছাড়া গত ১২ ঘণ্টায় সারি, গোয়াইন, ডাউকির নদীর পানি কমেছে ১০-১৫ সেন্টিমিটার। কমেছে কুশিয়ারা নদীর পানিও। তবে এখনো জেলার ৯ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি। প্রায় ৪০০ আশ্রয়কেন্দ্রে ২৫ হাজার মানুষ অবস্থান করছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে শনিবার দুপুরে বন্যার সর্বশেষ পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে বর্তমানে সিলেটে ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৪৪৫ জন বন্যাকবলিত। এর মধ্যে মহানগরে ৩০ হাজার। বর্তমানে মহানগরের ১৩টি ওয়ার্ড জেলার ১০৭টি ইউনিয়নে বন্যার পানি রয়েছে। তবে ধীরে ধীরে নামছে সে পানি। 
সিলেটে বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে আছে ২২ হাজার ৬২৩ জন। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে। পৌঁছানো হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধপত্র। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে গত ২৭ মে সিলেটে আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে জেলার সব উপজেলার সাড়ে ৭ লাখ মানুষ আক্রান্ত হন। সেই বন্যার পানি পুরোপুরি নামার আগেই ১৫ জুন ফের কবলিত হয় সিলেট। 
সিলেটে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার এই পর্যায়ে আবারও ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস মানুষকে আতঙ্কিত করছে। বৃষ্টি শুরু হলে দুর্ভোগ বেড়ে যাবে। ইতোমধ্যে বানের পানি কমাতে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে কাদা পানি থাকা সত্ত্বেও বসতভিটায় গিয়ে উঠেছে মানুষ। 
সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট ও সিলেট সদর উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণে সিলেট জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার হাইটেক পার্ক, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার জন্য সারীঘাট এলাকায় ঘণ্টায় ৬০০ লিটার ক্যাপাসিটি সম্পন্ন দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এ প্লান্টের মাধ্যমে গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, সদর উপজেলায় বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সকল উপজেলায় বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ ॥ পানি ধীরে কমায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। জেলা শহরের কিছু কিছু জনবসতি ও সড়কে এখনো পানি রয়েছে। এসব আবাসিক এলাকার ঘরবাড়িতে এখনো পানি থাকায় দুর্ভোগে আছেন বানভাসিরা। গত ৪৮ ঘণ্টায় মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে স্বস্তি ফিরেছে মানুষের মনে। তা ছাড়া উজানে অর্থাৎ ভারতের চেরাপুঞ্জিতে মাত্র ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা।

জেলা শহরের পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ নতুনপাড়ার কিছু কিছু বাড়িঘরে এখনো পানি আছে। শান্তিবাগ, হাছননগরের কিছু অংশ, কালীপুর, ওয়েজখালীর কিছু অংশ, তেঘরিয়ার কিছু অংশ, পশ্চিম হাজীপাড়া, মল্লিকপুর ও নবীনগরে কিছু এলাকার নৌকা ছাড়া চলাচল করা যাচ্ছে না। 
একই অবস্থা জেলার অন্য বানভাসি হাওড়াঞ্চলের গ্রামের অধিবাসীদের। বেশির ভাগ কাঁচা বাড়িঘরের ভিটের মাটি হাওড়ের আফালে (ঢেউ) ভেঙে গেছে। ভেঙে গেছে গ্রামীণ কাঁচা সড়কগুলো। 
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, পানি সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিও কম হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। চেরাপুঞ্জিতে কম হয়েছে বৃষ্টিপাত। ওই সময়ে মাত্র ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে উজানে। 
শাল্লা (সুনামগঞ্জ) ॥ বাড়ির চারদিকে পানি থাকায় দুশ্চিন্তায় হাওড়পাড়ের মানুষ। বাড়িগুলো টিকিয়ে রাখতে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে এলাকাবাসী। নতুন উপদ্রব হয়ে দেখা দিয়েছে ‘আফাল’। এই আফালই এখন হাওড় এলাকার মানুষের আতঙ্কের নাম। তাই আতঙ্কের পাশাপাশি দুর্ভোগেও পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। রাক্ষুসে হাওড়ের উত্তাল এই ঢেউয়ের (আফাল) কবল থেকে রক্ষায় চলছে তাদের জীবনযুদ্ধ।

নানা কৌশলে বসতভিটা রক্ষায় কাজ করেও কোনোমতে আটকাতে পারছেন না বাড়ির ভাঙন। শাল্লা উপজেলার বড় বড় হাওড়ের পাড়ে বসবাসরত মানুষের চোখের সামনেই ঘরবাড়ি বিলীন হচ্ছে। কেড়ে নিচ্ছে তাদের যক্ষের ধন।
কিছুতেই রক্ষা করা যাচ্ছে না ঘরবাড়ি। তাদের শেষ ভরসাস্থল মাথাগোঁজার ঠাঁইটি এখন কেড়ে নিতে চায় আফাল। তাই নানাভাবে আফালের কবল থেকে রক্ষা পেতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে তারা। কিন্তু সব চেষ্টাই যেন ব্যর্থ হওয়ার উপক্রম। ইতোমধ্যে আফালের আগ্রাসীর থাবায় বিলীনের পথে উপজেলার শতাধিক বাড়িঘর। হঠাৎ এমন দুর্ভোগে ভিটেমাটি হারানোর দুশ্চিন্তায় তারা নির্বাক। 
সরজমিনে ছায়ার হাওড়, কালিয়াকোটা, ভান্ডারবিল, বরাম হাওড় এলাকায় গেলে চোখে পড়ে মানুষের এমন দুর্দশার চিত্র। ওই এলাকার অধিকাংশ লোকজনই ঘরবাড়ি ফেলে কোনো জায়গায় যেতে চাচ্ছেন না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলউদ্দিন বলেন, এখন সময়টাই হচ্ছে হাওড়পাড়ের মানুষের জন্য বিপজ্জনক। পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে হাওড়ে বড় বড় ঢেউ সৃষ্টি হয়। আর এই ঢেউয়ের কারণে বাড়িঘর বেঁধেও রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এ বিষয়ে পিআইও অফিসের সঙ্গে কথা বলা হবে। আগামী মৌসুমে ভাঙন এলাকা চিহ্নিত করে প্রতিরক্ষা দেয়ালের ব্যবস্থা করা হবে।
মৌলভীবাজার ॥ মনু, ধলাই নদীর পানি সব জায়গায় বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর পানি শনিবার বিকেলে বিপৎসীমার ১৩ সেমি ওপর দিয়ে এবং জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ১.৯৩ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অধিকাংশ আশ্রয় কেন্দ্রে যেন স্থান সংকুলান হচ্ছে না। অপরদিকে ত্রাণের জন্য চলছে হাহাকার। 
তবে বন্যাকবলিত এলাকার প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে বাড়ছে ভিড়। বন্যায় দুর্ভোগে সবচেয়ে বেশি পড়েছে কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখার মানুষ। জেলার ৭ উপজেলার ৪৯ ইউনিয়নের ৬৩ হাজার ২৫০ পরিবারের প্রায় ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। এ পর্যন্ত জেলায় সদর উপজেলায় বানের পানিতে ডুবে ১ শিশু ও ১ কিশোর মারা গেছে। বড়লেখা উপজেলায় বানের পানিতে ডুবে ১ মেয়ে শিশু মারা গেছে। 
পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, জেলার কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে মনু, ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 
কুড়িগ্রাম ॥ জেলার ১৬টি নদ-নদীর পানি কমলেও তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্রসহ ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকার নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকা থেকে পানি অনেক ধীরগতিতে নামছে। সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছে গবাদিপশুগুলো।

পানির মধ্যে থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সেই সঙ্গে চলছে তীব্র খাদ্য সংকট। কুড়িগ্রাম জেলায় রয়েছে ৪০৫টি চর-দ্বীপচর। এসব এলাকার মানুষ পুরোপুরি শ্রমের ওপর নির্ভরশীল। টানা বৃষ্টি আর উজানের পানিতে প্রায় ৬ দিন থেকে বন্দি থেকে কর্মসংকটে পড়েছে। এসব পরিবার খাদ্য সংকটে পড়েছে। যে পরিমাণ ত্রাণ পেয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। 
লালমনিরহাট ॥ তিস্তার পানি কমলেও ভোগান্তি এখনো কমেনি নদী তীরবর্তী নি¤œাঞ্চলের মানুষের। শুক্রবার সকাল থেকে পানি কমে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। সদর উপজেলার গোকুন্ডা, কালমাটি, আদিতমারী উপজেলার গোবর্ধন, চর এলাকা ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘরে এখনো পানি রয়েছে। পানিতে ডুবে আছে আমন ধানের বীজতলাসহ অনেক ফসলি জমি।

নদীর চর ও নিম্নাঞ্চলে পানিতে তলিয়ে যাওয়া রাস্তা জেগে উঠলেও জমে আছে কাদামাটি। ফলে এখনো যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি। কিছুটা উঁচু বাড়িঘর থেকে পানি নেমে গেলেও ঘরে বাইরে জমে আছে কাদামাটি। ফলে তাদের চলাচলে কষ্ট হচ্ছে। এখনো অনেক বাড়িতে নলকূপ, টয়লেট পানিতে তলিয়ে আছে। নদীর পানি কমাতে কোনো কোনো পয়েন্ট দেখা দিয়েছে। সরকারি-বেসরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়নি অভিযোগ এসব বানভাসি মানুষের।
নীলফামারী ॥ নীলফামারী ও রংপুরে তিস্তার পানি কমতে শুরু করলেও দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। নীলফামারীর তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি শনিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ভাটিতে কাউনিয়া পয়েন্টে ওই সময় বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে ডালিয়া পয়েন্টে শুক্রবারের চেয়ে ১৪ সেন্টিমিটার ও কাউনিয়া পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার পানি কমেছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুরের তত্ত্বাবধয়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। কিছু কিছু এলাকায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। এই ভাঙন রোধ করার চেষ্টা চলছে।
গাইবান্ধা ॥ তিস্তা নদীর পানি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছে। এ ছাড়া জেলার ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানিও ধীরগতিতে বাড়ছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যে জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা অববাহিকার নিুাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
গাইবান্ধার পাউবোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী শনিবার বেলা ১২টায় কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি জেলার ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২২ সেন্টিমিটার ও করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পানি বৃদ্ধির ফলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি চরে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে নদীগর্ভে।
গত ১০ দিনের ব্যবধানে উপজেলার কাপাসিয়া, হরিপুর, শ্রীপুর ও চন্ডিপুর ইউনিয়নে অন্তত অর্ধশতাধিক বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। 
গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক জানান, উজানের ঢলে গাইবান্ধার সবকটি নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে সুন্দরগঞ্জের তিস্তার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। তবে দু-একদিনের মধ্যে পানি কমা শুরু হবে।

×