ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

উপকূলবাসীর দাবি

ত্রাণ নয়, টেকসই বাঁধ চাই

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ২২:২৫, ২৮ মে ২০২৪

ত্রাণ নয়, টেকসই বাঁধ চাই

রেমালে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবিতে উপকূলবাসীর মানববন্ধন

‘আর চাই না ভাসতে, এবার দিন বাঁচতে’, ‘উপকূলের কান্না, শুনতে কি পান না’ এমনই নানা স্লোগানে   উপকূলীয় এলাকার জানমালের নিরাপত্তার জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলের মানুষ।

রেমাল তাণ্ডবের একদিন পর  মঙ্গলবার  বিকেলে রেমাল বিধ্বস্ত  উপকূলের শত শত মানুষের অংশগ্রহণে শ্যামনগরের পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালী পয়েন্টে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের ওপর এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ষাটের দশকের বেড়িবাঁধ প্রায় অর্ধশত বছর ধরে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে।

এ কারণে সামান্য ঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের কথা শুনলেই আঁতকে ওঠে উপকূলের মানুষ। তারা ঝড়কে ভয় পায় না, ভয় পায় বাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হওয়াকে। উপকূলের মানুষকে বাঁচাতে টেকসই বেড়িবাঁধের বিকল্প নেই। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে না পারলে সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিন। বারবার নয়, একবারই মরতে চাই।

বক্তাদের অভিযোগ, উপকূলীয় এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকার কারণে গত কয়েকবছরে হাজারো পরিবারকে বাস্তচ্যুত হতে হয়েছে। উপকূলবাসী আয়োজিত এই মানববন্ধনে  মো. আব্দুল মাজেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, আবু তাহের, মোক্তার হোসেন, তরিকুল, স.ম ওসমান গনি সোহাগ, মাসুম বিল্লহ, নিসাত, রায়হান প্রমুখ।

আমতলী 
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমতলী, বরগুনা থেকে জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে পায়রা নদীসংলগ্ন আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া এলাকার এক কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে তিন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ওই তিন গ্রামের তিন শতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়ি, পুকুর, মাছের ঘের ও ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘর ভেঙ্গে গেছে। তারা এখন জোয়ার-ভাটার সঙ্গে যুদ্ধ করে দিনাতিপাত করছে। তাদের দাবি ত্রাণ নয়, টেকসই বাঁধ চাই। 
জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রেমালের তা-বে পায়রা নদী সংলগ্ন আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া এলাকার এক কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। এতে পানি প্রবেশ করে ঘোপখালী, উত্তর ঘোপখালী ও পশুরবুনিয়া গ্রাম তলিয়ে গেছে। ওই তিন গ্রামের মানুষ পানিতে ভাসছে। তাদের ঘর-বাড়ি ও পুকুর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিন শতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়ি পানির নিচে রয়েছে। তারা জোয়ার-ভাটার সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবন যাপন করছে। 
পশুরবুনিয়া গ্রামের আব্দুর রশিদ তালুকদার, মন্নান ফকির ও শাহিনুর বেগম বলেন, নতুন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে পানিতে সব তলিয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়সারা বাঁধ নির্মাণ করে। ওই বাঁধ বেশিদিন টিকে না। 
জাফর তালুকদার, আহসান চৌকিদার, মন্নান ফকির, সাইদুর রহমান, নেছার জোমাদ্দার বলেন, বন্যা হলেই প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ত্রাণ নিয়ে আসেন। দুইদিন পরে আর তাদের দেখা মেলে না। টেকসই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ না থাকায় আমাদের সারাবছর জোয়ার-ভাটার সঙ্গে যুদ্ধ করে থাকতে হয়। যদি সরকার টেকসই বাঁধ নির্মাণ করত তাহলে আজ এ অবস্থা হতো না।

প্রতিবছর পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়সারা বাঁধ দেয়। ওই বাঁধ একটু জোয়ার হলেই ভেঙে যায় আর এলাকার তিন গ্রামের মানুষ ভীষণ কষ্ট করি। আমরা ত্রাণ চাই না। আমরা টেকসই বাঁধ চাই। পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে চাই। 
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব মিয়া বলেন, পশুরবুনিয়া ভাঙনকবলিত এলাকায় ইতোমধ্যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নদী ভাঙন থেকে ওই এলাকা রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। শুকনো মৌসুমে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

×