ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ভারি বৃষ্টিতে ব্রিজ দেবে রুমা-থানচি যান চলাচল বন্ধ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান

প্রকাশিত: ২২:১৯, ২৮ মে ২০২৪

ভারি বৃষ্টিতে ব্রিজ দেবে রুমা-থানচি যান চলাচল বন্ধ

রুমা-থানচি সড়কে ভারি বৃষ্টিতে ব্রিজ দেবে যান চলাচল বন্ধ

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ভারি বর্ষণে বেলি ব্রিজ দেবে রুমা ও থানচি উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে শহরের নিউ গুলশান এলাকায় একটি বাড়ির ওপর পাহাড় ধসে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও জেলা শহরের বালাঘাটা, কালাঘাটা, ক্যচিংঘাটাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে বান্দরবান সদর উপজেলার রুমা-থানচি সড়কের লাইমিপাড়া এলাকায় ভারি বৃষ্টির কারণে বেলি ব্রিজের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় গাইড ওয়াল ভেঙে ব্রিজটি দেবে যায়। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার রাত থেকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে বান্দরবান জেলায় থেমে থেমে ভারি বৃষ্টিপাত ও হাল্কা থেকে মাঝারি ঝড়ো হাওয়া বয়েছে। এতে বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ লাইনে গাছ ভেঙে পড়ে রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। 
মিলনছড়ি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রবিন্দু চাকমা জানান, ভারি বৃষ্টির ফলে মিলনছড়ি ক্যাম্প ও লাইমিপাড়ার মাঝামাঝি বেলি ব্রিজের দক্ষিণ পাশের একাংশ দেবে যাওয়ার কারণে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা আছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে জেলায় এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়-ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

রাঙ্গামাটিতে কাচালং সড়ক বন্ধ
নিজস্ব সংবাদদাতা রাঙ্গামাটি থেকে জানান, রেমালের প্রভাবে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিতে বাঘাইছড়ি উপজেলায় তিনটি গ্রাম তলিয়ে গেছে। এছাড়া মারিশ্যা-দিঘিনালা সড়কে ১০টি স্থানে পাহাড় ধসে সকাল থেকে সারা দেশের সঙ্গে বাঘাইছড়ির উপজেলার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গাছ ভেঙে পড়ে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞাান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের  সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে।

বাঘাইছড়িতে পাহাড় ধসের ঘটনায় সড়কের দুই পাশে আটকা পড়েছে বহু যানবাহন। এতে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এদিকে সাজেকের মাচালং ও বাঘাইহাট বাজার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাজেকে আটকা পড়েছে শতাধিক পর্যটক। বৃষ্টিপাতের ফলে কাচালং নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাঘাইছড়ির নিচু অঞ্চল তলিয়ে গেছে। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিরীন আক্তার পাহাড় ধসের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড় ধস ও নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

খাগড়াছড়িতে সাজেক সড়ক বন্ধ
পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি খাগড়াছড়ি থেকে জানান, পাহাড়ী ঢলে জেলা সদর ও দীঘিনালা উপজেলার বেশ কিছু এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী হাজারও পরিবার। রবিবার সন্ধ্যা থেকে ভারী বর্ষণে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বেড়ে রাত থেকে নিম্নাঞ্চলে ঢুকতে শুরু করে। জেলা শহরের মুসলিমপাড়া, মেহেদীবাগ, কালাডেবা, খবংপুড়িয়া ও দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়ন ও কবাখালী ইউনিয়নের দশটি গ্রামে পানিবন্দী হাজারও পরিবার।

এ দিকে সড়কে পানি জমে যাওয়ায় সাজেক ও রাঙ্গামাটির লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ভোরে আলুটিলা এলাকায় পাহাড় ধসে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। এদিকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-মারিশ্যা সড়কের একাধিক স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাঘাইছড়ির সঙ্গে সারা দেশের যান চলাচল বন্ধ আছে।

×