ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১

ক্যাডাররা নজরদারিতে ॥ কুসিক নির্বাচন

১০৫ কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ গ্রেপ্তার অভিযান কাল থেকে

মীর শাহ আলম, কুমিল্লা

প্রকাশিত: ২৩:৫৯, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

১০৫ কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ গ্রেপ্তার অভিযান কাল থেকে

কুসিক নির্বাচন

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণের ১০৫টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, এই ১০৫ কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে পুলিশের ভাষায় যা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, সংঘাত-ঝুঁকিমুক্ত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে  কাল শুক্রবার থেকে সকল ওয়ার্ডে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করা হবে। এ ছাড়া গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে টপমোস্ট সন্ত্রাসী-পলিটিক্যাল ক্যাডারদেরও।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) খন্দকার আশফাকুজ্জামান বুধবার জনকণ্ঠকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সিটির ১০৫ কেন্দ্রের সবগুলোই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগর এলাকায় যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হতে না পারে সেজন্য পুলিশের সবগুলো ইউনিট সতর্ক আছে।

এ ছাড়া পুলিশের তালিকাভুক্ত হাইপ্রোফাইলের সন্ত্রাসী ও পলিটিক্যাল ক্যাডারদেরও পুলিশ-গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, নজরদারিতে থাকা এসব সন্ত্রাসী-পলিটিক্যাল ক্যাডারের সংখ্যা শতাধিক হতে পারে। পুলিশ সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে।

এ সময় পুলিশ ছয় অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করেছে। এরমধ্যে কোতোয়ালি থানা পুলিশ একটি এলজি ও দুই রাউন্ড কার্তুজসহ একজনকে এবং সিটি এলাকার সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনটি পাইপগান ও চার রাউন্ড কার্তুজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। নির্বাচনকে ঘিরে বহিরাগত সন্ত্রাসীরাও যাতে সিটি এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে পুলিশের নজরদারি থাকবে।

এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে কোনো অবৈধ অস্ত্র যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে চৌদ্দগ্রাম, সদর দক্ষিণ, কোতোয়ালি, ব্রাহ্মণপাড়া থানা ও জেলা ডিবি পুলিশকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. ফরহাদ হোসেন জানান, যেহেতু প্রতিটি কেন্দ্রই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেহেতু প্রত্যেক কেন্দ্রে ছয়জন করে অস্ত্রধারী পুলিশ মোতায়েন রাখার জন্য জেলা পুলিশ প্রশাসনকে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি আনসার বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে প্রচারণার ৬ষ্ঠ দিনে প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা নগরজুড়ে চষে বেড়াচ্ছেন। যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে।
প্রার্থীদের প্রচার ও গণসংযোগ- 
ডা. তাহসিন বাহার সূচনা ॥ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাস প্রতীকের প্রার্থী- নগর আওয়ামী লীগ সমর্থিত ডা. তাহসিন বাহার সূচনা বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডের সালমানপুর, কোটবাড়ি, ২৩ নং ওয়ার্ডের চাঙ্গিনী এলাকায় গণসংযোগ করেন। পরে তিনি উত্তর চাঙ্গিনী, গন্ধমতি, ময়নামতি ও ১৬ নং ওয়ার্ড এলাকায় পৃথক উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি বলেন, আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতা আমার সঙ্গে থাকলে একটি সুন্দর সিটি করপোরেশন গড়ব।

আমার বাবাকে (এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার) ভালোবেসে-বিশ্বাস করে ভোট দিয়েছেন। তদ্রƒপ আপনারা যদি আমাকে বিশ্বাস করেন তাহলে আপনাদের ভোটের অমর্যাদা হবে না ইনশাআল্লাহ। আমার মেধা ও শিক্ষা কাজে লাগিয়ে আপনাদের সমর্থন নিয়ে নগরের উন্নয়ন করব। তরুণদেরকে তিনি প্রথম ভোটার হিসেবে উন্নয়নের প্রতীক বাস মার্কায় ভোট দেওয়ারও আহ্বান জানান। এ সময় তার সঙ্গে বিভিন্ন পেশার বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষসহ সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে। এতে মহানগর আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। 
মনিরুল হক সাক্কু ॥ টেবিল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু নগরীর ৩ নং ওয়ার্ডের শাসনগাছা ডাকবাংলো রোড, রেইসকোর্স এলাকায় গণসংযোগ করেন। পরে তিনি নগরীর ১৬ নং ওয়ার্ডের সংরাইশ ও ৭ নং ওয়ার্ডের গোবিন্দপুর এলাকায় উঠান বৈঠক করেন। তিনি বলেন, ২০২২ সালের নির্বাচনে আমি ৯৮৭ ভোটে জয়যুক্ত হয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে ৩৪২ ভোটে হারানো হয়েছে।

আমার কাছে কাগজ আছে। তবু আমি ফল মেনে নিয়েছি। এ উপনির্বাচনে আমি আবার প্রার্থী হয়েছি। আমার সঙ্গে আরও তিনজন প্রার্থী আছে। গতবার যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আপনারা এবারও কেন্দ্রে গিয়ে আমাকে ভোট দেবেন, আমি আপনাদের সেবা দেব।  
নিজাম উদ্দিন কায়সার ॥ ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার নগরীর রেইসকোর্স, শাসনগাছা, চকবাজার ও বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। আমি নির্বাচিত হলে সবার সঙ্গে সমন্বয় করে নগর উন্নয়নে স্বল্প-দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করব, যাতে জলজট ও যানজট না থাকে। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়।

পরিবর্তন করতে হলে আপনাদেরকে নতুনের দিকে এগিয়ে আসতে হবে। কুমিল্লা সিটিতে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে। নির্বাচিত হলে নগর ভবনকে ব্যবসায়িক ভবনে পরিণত হবে না।  
নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম ॥ হাতি প্রতীকের প্রার্থী নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম নগরীর চকবাজার, ছাতিপট্টিসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি বলেন, লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড বিঘিœত হচ্ছে। তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরকে আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণ আমার ডাকে সাড়া দিচ্ছে, জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

×