ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১

দুমকিতে খাস জমিতে ইটভাঁটি

হুমকিতে পরিবেশ ও আবাদি জমি

​​​​​​​সংবাদদাতা, দুমকি, পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ০০:১২, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

হুমকিতে পরিবেশ ও আবাদি জমি

.

পটুয়াখালীর সন্তোষদি এলাকার লোহালিয়া নদীর তীরে ফসলি জমিতে ইটভাঁটি গড়ে ওঠায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা ছাড়াই অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ব্রিক্সের বিষাক্ত ধোঁয়ার প্রভাবে ফসলহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইটভাঁটিতে কয়লার পরিবর্তে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে জ্বালানি কাঠ টায়ার। এতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে এলাকার জনসাধারণ। এসব রোধে প্রশাসনিক ৎপরতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন বাসিন্দারা।

সরজমিন দেখা গেছে, দুমকি উপজেলার সন্তোষদি মৌজায় লোহালিয়া নদীর তীরে সরকারি বন্দোবস্তের খাস ফসলি জমিতে গড়ে তোলা হয়েছেফেমাস ব্রিক্সনামের একটি ইটভাঁটি। আবাসিক আবাদি জমির পাশে নিষিদ্ধ হলেও বৈধ কাগজপত্র (লাইসেন্স) পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রবিহীন গড়ে ওঠা ইটভাঁটিতে দেদার পোড়ানো হচ্ছে জ্বালানি কাঠ টায়ার। ইটভাঁটির তিনপাশে আবাসিক এলাকা কৃষি জমি। স্থানীয় কৃষকদের আপত্তি সত্তে¡ ভাঁটিটি নির্মাণ করা হয়। ইটভাঁটি সংলগ্ন সন্তোষদির বাসিন্দা সৈয়দ জাকির হোসেন, বশির উদ্দিন মেম্বার, শাহিন ফকির, ছত্তার হাওলাদারসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এলাকাবাসীর বাধা অগ্রাহ্য করে প্রভাবশালী চক্রটি প্রশাসনকেম্যানেজকরে ইটভাঁটি নির্মাণ করেছেন। ভাঁটির চুল্লি জ্বালানো হলে আশপাশের মাটি গরম হয়ে যায়। চিমনি দিয়ে ধোঁয়ার সঙ্গে ছাই বেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে। অবস্থায় ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে আবাদি ফসলের।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স ফেমাস ব্রিকসের মালিক কাইয়ুম হোসেন বলেন, ইটভাঁটির লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রক্রিয়াধীন আছে। ইতোমধ্যে ভ্যাট, ট্যাক্স হয়ে গেছে। তাছাড়া এসব কাগজপত্র পেতে বছর খানেক সময় দরকার। যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই ইটভাঁটি নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, ইটভাঁটির কারণে দীর্ঘমেয়াদে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যায়। তা ছাড়া ফসলি জমিতে ইটভাঁটি কৃষির জন্য অশনিসংকেত। পবিপ্রবির পরিবেশ বিশেষজ্ঞদুর্যোগ ব্যবস্থাপনাঅনুষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর . আহাদ বিশ্বাস বলেন, ইটভাঁটির কয়লা পোড়ানো ধোঁয়ার সঙ্গে ছাই চারদিকে ছড়িয়ে ফসলের পাশাপাশি গাছপালা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। বিশেষত ড্রাম চুল্লিতে জ্বালানি কাঠে ইট পোড়ানো হলে পরিবেশ দূষণে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির পাশাপাশি ফসলহানির ঝুঁকি রয়েছে। তাই আবাদি জমিতে এমন ইটভাঁটি দ্র অপসারণ করা উচিত বলে অভিমত তার।

উপজেলার দায়িত্বরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনামিকা নজরুল বলেন, ফসলি জমিতে ইটভাঁটি করা ঠিক না, লাইসেন্সবিহীন ভাঁটিতে কোনোক্রমেই ইট পোড়াতে দেওয়া হবে না। তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্র ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

 

 

 

 

×