ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৩ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০

কলেজছাত্রকে পিটিয়ে গুরুতর আহত, ভিডিও ভাইরাল

নিজস্ব সংবাদদাতা, জামালপুর

প্রকাশিত: ১৯:৫৮, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

কলেজছাত্রকে পিটিয়ে গুরুতর আহত, ভিডিও ভাইরাল

কলেজ ছাত্র শাওন। ছবি : জনকণ্ঠ

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় কলাচুরির অপবাদ দিয়ে শাওন ইসলাম (২০) নামের কলেজছাত্র এক যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় পিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই যুবককে গুরুতর আহত অবস্থায় ইসলামপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। 

ভুক্তভোগী শাওন ইসলামপুর পৌরসভার পলবান্ধা উজানপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র আকরাম হোসেন নেদার ছেলে। সে উপজেলার বেলগাছা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড বিএম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। 

নির্যাতনের শিকার শাওনের চাচা সেলুনকর্মী মো. আলাউদ্দিন জানান, তার ভাতিজা গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় মোশারফগঞ্জ বাজার থেকে বাড়িতে ফিরছিল। রাত ৮টার দিকে পলবান্ধা তেঘরিয়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী সামিউল ইসলামের ছেলে আজিম ও তার সহযোগীরা শাওনকে ধরে জোরপূর্বক স্থানীয় সাবেক ভূমিপ্রতিমন্ত্রীর মাছের প্রজেক্টের ভেতরে নিয়ে যায়। নির্যতনকারীরা সেখানে একটি ভবনের দেয়ালের গ্রিলের সাথে শাওনকে পিঠমোড়া দিয়ে বেধে ফেলে। তার  চোখ, হাত-পা বেধে এবং মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। 

নির্যাতনকারীরা লাঠি দিয়ে শাওনের কোমড় থেকে পায়ের কব্জির ওপর পর্যন্ত পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে দিয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় গতকাল রবিবার রাতেই তাকে ইসলামপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মো. আলাউদ্দিন দাবি করে বলেন, নির্যাতনকারীরা আমার ভাতিজা শাওনকে কলাবাগানের কলা চুরির মিথ্যা অভিযোগে ধরে নিয়ে যায়। শাওন কলা চুরির ঘটনার সাথে জড়িত ছিল না। 

আমি নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মো. সামিউল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, নির্যাতনকারী আজিমের বাবা মাছ ব্যবসায়ী সামিউল ইসলাম রবিবার রাতে আমাকে ফোনে জানায় শাওনকে কে বা কারা গুরুতর আহত করে মাছের প্রজেক্টে ফেলে রেখে  গেছে। পরে তার পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে শাওনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কলাচুরির অপবাদ দিলেও শাওন কারো বাগান থেকে কলা চুরি করেনি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। এদিকে রবিবার সকাল থেকে কলেজছাত্র শাওনকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নৃশংস এই নির্যাতনের ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে সচেতনমহল থেকে। 

এদিকে কলেজছাত্র শাওনকে নির্যাতনের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে ইসলামপুর থানা পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন পলবান্ধা তেঘরিয়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী সামিউল ইসলামের ছেলে আজিম (১৮) ও সুরুজ্জামান আকন্দের ছেলে ফজলুল হক শেখ (৫০)। 

ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন তালুকদার জনকণ্ঠকে বলেন, কলেজছাত্র শাওনকে নির্যাতনের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নজরে আসার পর থেকেই পুলিশ তদন্তে নেমে জড়িতদের আটক করার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজিম ও ফজলুল হক শেখ নামের দু’জনকে আটক করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার শাওনের বাবা আকরাম হোসেন নেদা থানায় এসেছেন মামলা দায়ের করার জন্য। মামলাটি প্রক্রিয়াধীন। 

 

এস

×