ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

নেত্রকোনা-২

বর্তমান প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক উপমন্ত্রীর লড়াই

সঞ্জয় সরকার, নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ২৩:৫৪, ৩ জানুয়ারি ২০২৪

বর্তমান প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক উপমন্ত্রীর লড়াই

আশরাফ আলী খান, আরিফ খান জয়

জেলা সদরের আসন হিসেবে পরিচিত নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরুর সঙ্গে সাবেক উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের নির্বাচনী লড়াই জমে উঠেছে। জয় নিশ্চিত করতে রীতিমতো মরিয়া হয়ে উঠেছেন তাদের কর্মী-সমর্থকরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের মিছিল, শোডাউন, সভা-সমাবেশ ও প্রচার। দুই প্রার্থীর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে সারা জেলাবাসীর চোখও এখন এ আসনটির দিকে।

জানা গেছে, নৌকার প্রার্থী সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু বর্তমান সংসদ ছাড়াও নবম সংসদের এমপি ছিলেন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ফুটবলার আরিফ খান জয় (ঈগল) ছিলেন নবম সংসদের এমপি এবং যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী। খসরু জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন দীর্ঘদিন। দলটির বর্তমান সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শামছুর রহমান লিটন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অসিত কুমার সরকার সজল, পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম খান, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার রায়সহ সিংহভাগ নেতাকর্মীই আছেন খসরুর সঙ্গে। অন্যদিকে জয়ও আওয়ামী পরিবারের সন্তান।

খেলোয়াড়ি জীবনের আগে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তার বড় ভাই নূর খান মিঠু বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। ছোট ভাই মাসুদ খান জনি জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক। আরেক ভাই সাইফ খান বিপ্লবও আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয়। ভাইদের পাশাপাশি জয়ের একটি নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠীও রয়েছে। তাদের নিয়ে দুই প্রার্থীই লড়ছেন সমানতালে।
প্রতিমন্ত্রী খসরু বলেন, ‘আমি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর অন্তত ২ হাজার জটিল ও দুস্থ রোগীকে ১০ কোটি টাকার অনুদান দিয়েছি। নদীভাঙনের শিকার ও গৃহহীনদের মাঝে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ের ঘর দিয়েছি অন্তত ১শ’ ৫০টি। বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠা করেছি একটি কলেজসহ পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া সমাজসেবা ভবনসহ অসংখ্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছি। সর্বোপরি নৌকা হচ্ছে উন্নয়নের প্রতীক।

বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার প্রতীক। তাই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতেই ভোটাররা আমাকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিচ্ছেন।’ অন্যদিকে সাবেক উপমন্ত্রী জয় বলেন, ‘আমি যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী হওয়ার পর নেত্রকোনায় আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ করেছি। আমার আমলেই শুরু হয় শেখ হাসিনা বিশ^বিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, আইটি পার্ক, ডায়াবেটিস হাসপাতাল, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কাজ। আগামী দিনে আমি ‘স্মার্ট নেত্রকোনা’ উপহার দিতে চাই। পরিস্থিতি বিবেচনায় সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, নির্বাচনী মাঠে দুজনেরই হাড্ডাহাড্ডি অবস্থা। শেষ পর্যন্ত কে পাবেন সংসদের টিকিট, তা এ মুহূর্তে বলা মুশকিল।
খসরু এবং জয় ছাড়াও আসনটিতে আরও পাঁচ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির আসমা আশরাফ, বিএনএম-এর এবিএম রফিকুল হক তালুকদার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আজহারুল ইসলাম খান, ইসলামী ঐক্যজোটের মো. ইলিয়াস ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সুব্রত চন্দ্র সরকার।

×