ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০

শাহজাহান ওমরকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝালকাঠি

প্রকাশিত: ২১:৩৯, ২ ডিসেম্বর ২০২৩

শাহজাহান ওমরকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ভরপাশা ইউনিয়নের মনোয়ার শিকদারের চায়ের দোকানে নির্বাচনী আড্ডা

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর (বীর উত্তম) ঝালকাঠি-১ আসনে নৌকার প্রার্থী হওয়ায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিএনপিতে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ দেখিয়ে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রেস কনফারেন্স করে এবং ভিডিও বিবৃতি দিয়ে তাকে ভর্ৎসনা করেছেন দলটির স্থানীয়  নেতারা। তবে কিছু সংখ্যক ছাত্রদল ও যুবদলকর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে শাহজাহানের কুশপুতুল দাহ করেছে। ওমরের এমন সিদ্ধান্তে দলটিতে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলে তারা জানিয়েছেন। এদিকে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এই নেতাকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার স্থানীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

এই পরিস্থিতিতে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বিএনপি ছেড়ে চলে যাওয়ায় বিএনপির হাল ধরছেন রাজাপুরের বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম জামাল। ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর এখনো নির্বাচনী এলাকায় আসেননি। প্রতীক বরাদ্দের পরে এলাকায় আসতে পারেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে এবং তিনি এলাকায় ফিরে এলে পরিস্থিতি ভিন্ন রকমও হতে পারে।

দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছর বিএনপির রাজনীতি করার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার নিজ কার্যালয়ে প্রেস কনফারেন্স ডেকে দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর (বীর উত্তম)। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হয়ে ঝালকাঠি-১ আসনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। দলের ভাইস চেয়ারম্যানের এমন কর্মকা-ে তারা যেমন ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তেমনি হতাশও হয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, বিএনপির স্বার্থে কাজ না করে তিনি নিজের আখের গুছিয়েছেন। তিনি বিএনপি থেকে তিনবার সংসদ সদস্য হয়েছেন, হয়েছেন আইন ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী। 
আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় শাহজাহান ওমরকে নব্য মিরজাফর আখ্যায়িত করেছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন, সদস্য সচিব, জেলা বিএনপি, ঝালকাঠি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. খায়রুল আলম সরফরাজ বলেন, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমরের হাতে এক সময় লাঞ্ছিত হওয়ার কথা জানিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, হঠাৎ প্রার্থী পরিবর্তন হওয়াটা দলের নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না। তবে এখন দল যে সিদ্ধান্ত দেবে সে অনুযায়ী বাধ্য হয়ে কাজ করতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য এম মনিরুজ্জামান শাহজাহান ওমরের প্রার্থিতা নিয়ে বলেন, এই আসনে শাহজাহান ওমরকে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা মেনে নেবেন না। তাকে রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার জনগণ প্রত্যাখ্যান করবেন।

চায়ের কাপে ভোটের হাওয়া
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল ॥ এরই মধ্যে টের পাওয়া যাচ্ছে শীতের আমেজ। তার মধ্যে মাসখানেক পরই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একদিকে শীতের আমেজ, অন্যদিকে নির্বাচনের উত্তেজনা, দুই মিলে উপজেলাবাসীর দিনগুলো অন্যরকম হয়ে উঠছে। 
পড়ন্ত বিকেলে গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানের দৃশ্যই বলে দেয় নির্বাচনের আগমন। পাড়া-মাহল্লার চায়ের দোকানগুলোয় অনেকেই এসে বলে টিভিতে খবরের চ্যানেল ধরেন। নির্বাচনের খোঁজখবর দেখি। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দিয়ে আবার বলেছে স্বতন্ত্র হয়েও নির্বাচন করা যাবে। মনে হচ্ছে এবার নির্বাচন বিগত সময়ের চেয়ে বেশ জমে উঠবে।
এ উপজেলায় ১৪ ইউনিয়নের হাট-বাজার থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদের চায়ের দোকানগুলোয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পড়ন্ত বিকালে আড্ডায় হাজির হয়ে নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠছেন। উপজেলাবাসীর কাছে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ভোটে কার জনপ্রিয়তা কেমন। আর এখন এসব কথা সবচেয়ে বেশি শোনা যায় চায়ের দোকানে হাজির হলেই। কারণ সব পেশার মানুষ বসেন চায়ের দোকানে। অনেকে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে মেলান ভোটের নানা হিসাব-নিকাশ।
শনিবার বিকেলে ভরপাশা ইউনিয়নের মনোয়ার শিকদারের চায়ের দোকানে দেখা যায় ১০ থেকে ১২ জন কেউ দাঁড়িয়ে কেউ আবার দোকানের সামনে বসে চা পান করছেন আর নির্বাচনী আলোচনায় মেতে উঠেছেন। দোকানদার মনোয়ার শিকদার জানান, কয়েকদিন যাবৎ আমার দোকানে চায়ের ক্রেতা বেড়ে গেছে, জনগণের মুখে মুখে নির্বাচনের আলোচনা-সমালোচনা থাকবে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত। রিক্সাচালক সায়েম শরীফ বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমাগো চিন্তা নাই। যেই আসুক, আমগো কথা একটাই, জিনিসপত্রের দাম কমাইয়া দিবেন। মোরা যেন বৌ ছেলেমেয়ে নিয়ে খেয়ে-পরে বাঁচতে পারি। মোগো অবস্থার তো পরিবর্তন নাই। একদিকে পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানে নির্বাচন নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, অন্যদিকে চা-দোকানির চা বিক্রি নিয়ে ব্যস্ততা, শীত আমেজে চায়ের দোকানে নির্বাচনী আলোচনায় পড়ন্ত বিকালের পরিবেশকেই পাল্টে দিচ্ছে।

নির্বাচনী আমেজ প্রত্যন্ত অঞ্চলে
সংবাদদাতা, সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ  ॥ আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যেই সাটুরিয়া-মানিকগঞ্জ-৩ আসনে ৯ প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। জাতীয় এই নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের মাঝে যেন বিরাজ করছে নানা কল্পনা-জল্পনা। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের এই আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সাটুরিয়া উপজেলার প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। ভোটারদের প্রত্যাশা একটাই- অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন। এই আলোচনা এখন চায়ের দোকানসহ উপজেলার সর্বত্র। জানা যায়, এই আসন থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক পঞ্চম বারের মতো আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

অন্যদিকে বিপরীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মফিজুল ইসলাম খান কামাল, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম রুবেল, তৃণমূল বিএনপির মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ,জাকের পার্টির দীন মোহাম্মদ খান, জাসদের সৈয়দ সারোয়ার হোসেন চৌধুরী, বিএনএমের এ খালেক দেওয়ান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের এম হাবিবুল্লাহ ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের সাবিনা ইয়াসমিন।

বিএনএফ প্রার্থী হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা 
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল, পটুয়াখালী ॥ পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসন থেকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক জোবায়ের হোসেন হয়েছেন  বিএনএফের সংসদ সদস্য প্রার্থী। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এ বিষয়ে জানার জন্য পটুয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. শাহনুর হকের মোবাইল ফোনে কল করলে বন্ধ পাওয়া যায়। জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, ‘জোবায়ের হোসেন আমাদের কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক। তবে তিনি যে বিএনএফ থেকে মনোনয়ন নিয়ে পটুয়াখালী-২ আসন থেকে নির্বাচন করছেন তা আমাদের জানা নাই।

এ বিষয়ে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ ছাড়াও তৃণমূল বিএনপি থেকে যিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তার নাম মাহাবুবুল আলম সবুজ। তিনি উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের আদাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাজনীতিতে একবারেই অপরিচিত মুখ। আর জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন মো. মহসীন হাওলাদার। তার বাড়ি বাউফল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। 
এ ছাড়া এ আসন থেকে দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁদের একজন হলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এভিআর বাংলাদেশ গ্রুপের চেয়ারম্যান, কেন্দ্রেীয় আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা  বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ও বীর উত্তম মরহুম সামসুল আলম তালুকদারের ছেলে হাসীব আলম তালুকদার। আরেকজন কালিশুরী ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ হাওলাদার। আওয়ামী লীগের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন  উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ এমপি।

বিএনএমে যোগ দিলেন আওয়ামী লীগ নেতা
নিজস্ব সংবাদদাতা, বোয়ালমারী, ফরিদপুর ॥  আলফাডাঙ্গায় আওয়ামী লীগ ছেড়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে (বিএনএম) যোগ দিয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ আলী বাশার। এদিকে বিএনএমের দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রথম ফরিদপুর-১ আসনে প্রবেশ করেন এবং আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলা তার নেতাকর্মী, সমর্থকদের সঙ্গে শাহ্ মোঃ আবু জাফর মতবিনিময় করেন। শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ফরিদপুর-১ আসনে বিএনএমের দলীয় প্রার্থী শাহ্ মোঃ আবু জাফরের সঙ্গে তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে যোগদান করেন।

এ সময় বিএনএমের দলীয় প্রার্থী শাহ্ মোঃ আবু জাফরের আলফাডাঙ্গায় আগমনে তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে অভিনন্দন জানান। এর সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ আলী বাশার বলেন, ফরিদপুর-১ আসনের বিএনএমের দলীয় প্রার্থী শাহ্ মোঃ আবু জাফরের আলফাডাঙ্গায় আগমন উপলক্ষে তাকে স্বাগতম ও অভিনন্দন জানিয়ে তার সঙ্গে থেকে নির্বাচন করব। কেন যোগদান করলেন এ প্রশ্নের বিষয়ে তিনি বলেন, নানা কারণ আছে। এই মুহূর্তে বিস্তারিত বলতে চাই না।

ময়মনসিংহ-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী পরিবর্তন দাবি
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ ॥ ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নীলুফার আনজুম পপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহমেদসহ স্বতন্ত্র ছয় প্রার্থী। শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান হয়। নীলুফার আনজুম পপি গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নীলুফার আনজুম পপি ও তার পরিবারসহ স্বজনদের কারও সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী প্রয়াত মাহবুবুল হক শাকিলের সহধর্মিণী হওয়ার সুবাদেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদও নেই পপির। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভুল বুঝিয়ে মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোনীত হওয়ার সময়ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আপত্তি করেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে আরও বলা হয়, গৌরীপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদল প্যানেল থেকে গত ১৯৯২ সালে পপি ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকা নির্বাচিত হন। পপির বাবা মরহুম আবুল হাশিম ছিলেন গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। পপির সহোদর দুই ভাই ও আপন চাচাসহ নিকটাত্মীয়রাও বিএনপি রাজনীতিতে পদধারী নেতা ছিলেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পপির বাবা ও ভাই এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করে খুনি মোশতাক সরকারকে স্বাগত জানিয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম  সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ হাসান অনু, স্বতন্ত্র প্রার্থী বাকসুর সাবেক নেতা অধ্যক্ষ আব্দুর রফিক, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজনীন আলম, গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী সোমনাথ সাহা ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদুজ্জামান সেলিম।

মুন্সীগঞ্জে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর
স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গোপন তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সোহানা তাহমিনা। শনিবার বিকেলে তিনি মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সফিউদ্দিন আহমেদ মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সোহানা তাহমিনা বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে আমি এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনযুক্ত কাগজ দাখিল করেছি। কিন্তু মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ রাশেদুজ্জামান এই সমর্থন তালিকা গোপন না রেখে ফাঁস করে দেয়। সেই তালিকা ধরে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাহিদ খান তাদের হুমকি দেন ও ভয়ভীতি দেখান। এর প্রেক্ষিতে আমি প্রতিকার চেয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছি।
টঙ্গীবাড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ রাশেদুজ্জামান জানান, অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। এ রকম কোন ঘটনা ঘটেনি। আর টঙ্গীবাড়ি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাহিদ খান বলেন, ‘ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাইনা।’ মনোনয়ন বাছাইয়ের আগেই কেন তার আশঙ্কা। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘তা হলে কি তালিকায় গলদ রয়েছে?’
জেলা নির্বাচন অফিসার বশির আহমেদ জানান, এটি অতি গোপনীয় বিষয়, তদন্তের পর সিলগালা করে রিটার্র্নিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাইয়ের সময়ই খোলা হয়। তাই আগে মন্তব্য করার সুযোগ নেই। রবিবার ৩ ডিসেম্বর দুপুরে এই আসনের যাচাই-বাছাই। 
অ্যাডভোকেট সোহানা তাহমিনা মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তিনি মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

মাদারীপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সশরীরে জবাব দেওয়ার নির্দেশ
নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর ॥ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে আদালতে তলব করা হয়েছে। আজ ৩ ডিসেম্বর সশরীরে হাজির হয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জানা গেছে, মাদারীপুর-৩ নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. আব্দুস সোবহান মিয়া গোলাপের বিরুদ্ধে ২ স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ করেন।

এই ঘটনায় নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি অভিযুক্ত আব্দুস সোবহান মিয়া গোলাপকে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি তলব করেছে এবং অভিযোগকারী স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা বেগম ও তৌফিকুজ্জামানকে সশরীরে হাজির হয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত বিষয়ের তথ্য প্রমাণ নিয়ে থাকতে বলা হয়েছে। অভিযোগকারী তাহমিনা বেগম সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি এবং কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। অপর অভিযোগকারী তৌফিকুজ্জামান কালকিনি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

যুগ্ম জেলা জজ আদালতের পেশকার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, ৩ জনকেই নোটিস করা হয়েছে। অভিযুক্তকে অভিযোগের বিষয় ব্যাখ্যা দানের জন্য বলা হয়েছে এবং অভিযোগকারীদের তথ্য-প্রমাণসহ হাজির হতে বলা হয়েছে। মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান বলেন, ইলেক্টরাল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে অভিযোগ প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে ইতোমধ্যেই।’

ফরিদপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে শোকজ
নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর ॥ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় ফরিদপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাল হোসেন মিয়াকে শোকজ করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। জামাল হোসেন মিয়া নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী রীগের সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে এবার নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফরিদপুর-২ আসনের জন্য গঠিত নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী জজ কাঞ্চন কুমার কুণ্ডু জামাল হোসেনকে এ নোটিস দেন। ফরিদপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের নাজির অনিমেষ সরকার জানান, নোটিসে সোমবার (৪ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে জামাল হোসেনকে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকালে আদালতের জারিকারক নোটিসটি নিয়ে নগরকান্দায় জামাল হোসেনকে পৌঁছে দিয়েছেন।
 বৃহস্পতিবার জামাল হোসেন মিয়া যানবাহনের বিশাল শোভাযাত্রাসহ সালথা উপজেলা পরিষদে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এতে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা-২০০৮ লঙ্ঘন হয়েছে বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
 এর আগে একই অভিযোগে ফরিদপুর-৪ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীকে শোকজ করে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। আদালতের নির্দেশ মেনে শুক্রবার নিক্সন চৌধুরী তার লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন। জামাল হোসেন মিয়া বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন এত লোক হবে, তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। নির্দেশনা অনুযায়ী আদালতে গিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করব।

×