ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সাগরে জাল ফেললেই মিলছে ইলিশ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশিত: ২১:৩৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

সাগরে জাল ফেললেই মিলছে ইলিশ

সাগরে ধরা পড়ছে ইলিশ, যা ফিশারি ঘাট থেকে চলে যাচ্ছে বিভিন্ন বাজারে

গভীর সমুদ্রের নোনা জলে জাল ফেললেই মিলছে ইলিশ। বঙ্গোপসাগর ও সন্দ্বীপ চ্যানেলে অমাবস্যার জো-তে এবার কাক্সিক্ষত ইলিশ শিকার করেছেন জেলেরা। মাছ ধরার নৌযান মালিক ও প্রান্তিক জেলেদের যে প্রত্যাশা ছিল অমাবস্যার জো-কে কেন্দ্র করে, তা পূরণ হলেও প্রাপ্তিতে ঘাটতি সাধারণ ক্রেতাদের। চট্টগ্রামের বাজার ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রেগুলো গত পাঁচদিন যাবত ইলিশে সরগরম। পাশাপাশি অন্যান্য সামুদ্রিক মাছেরও ভরপুর। তবে আশার কথা জাতীয় মাছ ইলিশের দাম কমেছে  কেজিতে দুইশ’ থেকে তিনশ’ টাকা। কিন্তু বাজারে দেখা যাচ্ছে ডিমওয়ালা ইলিশ ও জাটকার আধিক্য।

কেউ কেউ বলছেন, মৌসুমের পরিবর্তন ঘটায় ডিমওয়ালা ইলিশের আধিক্য। আবার অনেকে জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে শিকার করা জাটকাগুলো এখন বাজারে ছাড়ছে অসাধু বোট মালিককরা। উদ্বেগের বিষয় হলো সুপার শপ, অনলাইন এবং হোটেল-রেস্টুরেন্টের কাড়াকাড়িতে চট্টগ্রামের বাজারগুলো থেকে কম দামে ইলিশ কেনার সুযোগবঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
গত দুইদিন চট্টগ্রামের ফিসারিঘাট, কাট্টলীর রাসমনি হাট এবং রেয়াজুদ্দিন বাজার, কাজির দেউড়ি বাজার ও সাবএরিয়ায় ফুটপাতের বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। এরমধ্যে কাজির দেউড়ি এবং সাবএরিয়া বাজারে ইলিশের মূল্য ঢাকার বাজারকে হার মানায়। উচ্চবিত্তদের আনাগোনা বেশি থাকায় এই দুই বাজার থেকে সাধারণ ক্রেতাদের ইলিশ কেনা দুঃসাধ্য।
সরেজমিনে মঙ্গলবার দেশের বৃহত্তর পাইকারি মাছের আড়ত নতুন ফিসারিঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, জাটকা ইলিশ পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ টাকায়। মাঝারি আকারের পাঁচশ’ থেকে সাতশ’ গ্রাম ওজনের ইলিশের মান অনুযায়ী কেজি হাঁকা হয়েছে সাড়ে পাঁচশ থেকে সাতশ’ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে আটশ’ থেকে ১২শ টাকায়। এ ছাড়া সামুদ্রিক বড় আকারের দুই কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৪শ’ থেকে ১৫শ’ টাকায়। আড়তদাররা জানিয়েছেন, এ দর থেকে খুচরায় বড়জোর একশ’ টাকা বাড়তে পারে।

সোনালি যান্ত্রিক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক বাবুল সরকার বলেন, অমাবস্যার জো-তে ইলিশ ধরা পড়েছে এটা ঠিক। তবে আগের মতো না। আগের ১০ ভাগের এক ভাগও মাছ পড়ছে না। গত কয়েকদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ টন মাছ বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি বোটই গভীর সমুদ্র থেকে ইলিশ নিয়ে ফিরেছে। 
উত্তর চট্টলা উপকূলীয় জলদাস সমবায় কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি উপেন্দ্র জলদাস জানান, অমাবস্যার জো’তে ইলিশ মিলেছে। তবে আকারে ছোট। প্রতিদিনই মাছ ধরা পড়লেও  বেশিরভাগই ডিমওয়ালা।

×