ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১

রূপগঞ্জের মোশা সহযোগীসহ গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৫৯, ১ জুন ২০২৩

রূপগঞ্জের মোশা সহযোগীসহ গ্রেপ্তার

রাবের হাতে গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জের মোশা বাহিনীর প্রধান শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া ও তার সহযোগী

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার হোতা শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশা বাহিনীর প্রধান মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া ওরফে মোশা ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এ  সময় তাদের কাছ থেকে বিদেশী অস্ত্র ও গুলি জব্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান। 
র‌্যাবের মুখপাত্র জানান, গত ২৫ মে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্থানীয় জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ ২০-২৫ জন গুরুতর আহত হয়। ওই ঘটনায় রূপগঞ্জ থানা পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা ও অন্য আরেকটি মামলা দায়ের করে ।
তিনি জানান, পরে বুধবার গভীর রাতে র‌্যাব-১১ ও র‌্যাব-১৩ এর যৌথ অভিযানে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী সীমান্ত এলাকা থেকে মোশা বাহিনীর প্রধান ও শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া ওরফে মোশা ও তার অন্যতম সহযোগী  দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে রূপগঞ্জের নাওড়া এলাকা থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা তাদের বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে।

র‌্যাব পরিচালক কমান্ডার মঈন জানান, মোশা তার বাহিনী নিয়ে রূপগঞ্জ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ধর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, জমি দখল, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তার দলের সদস্য সংখ্যা ৭০-৮০ জন। মোশারফের নেতৃত্বে এই সন্ত্রাসী দলের সদস্যরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, অবৈধভাবে জমি দখল, হুমকি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করত। কেউ চাঁদা দিতে রাজি না হলে মোশা বাহিনীর সন্ত্রাসীরা বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করত। এলাকার সাধারণ জনগণ মোশা বাহিনীর সন্ত্রাসীদের জন্য সব সময় আতঙ্কে থাকত। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র, প্রতারণা ও মাদকসহ বিভিন্ন মামলার তথ্য পাওয়া যায়।

তিনি জানান, গত ২৫ মে রূপগঞ্জের নাওড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার সৃষ্টি হলে মোশা বাহিনীর ৭০-৮০ জন সন্ত্রাসীরা এলাকায় শোডাউন, লোকজনকে মারধর এবং গুলিবর্ষণ করে। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে মোশা বাহিনীর সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করলে তার সহযোগীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চড়াও হয়ে অতর্কিত গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ৫/৬ জন পুলিশ সদস্যকে আহত করে মোশাকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান।
র‌্যাবের মুখপাত্র জানান, গ্রেপ্তারকৃত মোশারফ স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য সে ‘ মোশা বাহিনী’ নামে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, হত্যা, হত্যা চেষ্টা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অর্থের বিনিময়ে ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। বর্ণিত ঘটনার পর সে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী এলাকায় আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে আত্মগোপনে থাকাকলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য, চাঁদাবাজি, মাদক ও প্রতারণাসহ ৪০টির অধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায় এবং বিভিন্ন মেয়াদে সে একাধিকবার কারাভোগ করে।
এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত দেলোয়ার হোসেন স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে। তিনি মোশারফের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, হত্যা চেষ্টা, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় বিভিন্ন অপরাধে ৫টির অধিক মামলা রয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে একাধিকবার কারাভোগ করেছে গ্রেপ্তারকৃত দেলোয়ার। ওই ঘটনার পর তিনি মোশারফের সঙ্গে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী এলাকায় আত্মগোপনে চলে যান।
এক প্রশ্নে র‌্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন  জানান, র‌্যাবের ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে কাউন্সিলর মিজান-রাজীবসহ অন্য যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সবই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইন মেনে করা হয়েছে। 
তিনি জানান, ২০১৯ সালে আমরা অভিযান চালিয়েছি। তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে, এত দিনে র‌্যাব সদরদপ্তর, আদালত বা পুলিশ সদরদপ্তরে অভিযোগ জানাতে পারতেন। কিন্তু এতদিন পর তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করছেন! এটা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি হিসেবে করতে পারেন। কমান্ডার মঈন বলেন, তাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা তদন্তাধীন। আর আদালত বলতে পারবেন, কারা দোষী ছিলেন, কারা ছিলেন না। অভিযান আমরা পরিচালনা করেছি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং আইন মেনে। 
রবিবার ডিআরইউতে সংবাদ সম্মেলন করেন সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ও তারেকুজ্জামান রাজীব। তাতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের নামে তাদের ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন।

×