ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সাক্ষাৎকারে কেসিসি মেয়র আব্দুল খালেক

তৃতীয়বার নির্বাচিত হয়ে উন্নয়ন কাজ শেষ করতে চাই

প্রবীর বিশ্বাস, খুলনা অফিস

প্রকাশিত: ০০:২৫, ১৮ এপ্রিল ২০২৩

তৃতীয়বার নির্বাচিত হয়ে উন্নয়ন কাজ শেষ করতে চাই

মেয়র আব্দুল খালেক

প্রজ্ঞা, প্রত্যয় ও দৃঢ়চেতার কোনো কমতি নেই। মেধা আর শ্রম দিয়ে নিজেকে অনেক আগেই কেন্দ্রে যোগ্য করে তুলেছেন। সমান জনপ্রিয়তা নগরী কিংবা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আশপাশের মানুষের কাছেও। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য থাকাকালীনও তিনি দেশবাসীর কাছে সমান সমাদৃত হয়েছিলেন। তাকে বলা হয় এ অঞ্চলের মাঠে থাকা রাজনীতিবিদদের অন্যতম প্রাণপুরুষ। আবার কেউ কেউ বলেন, প্রবীণ ও জনপ্রিয় এই নেতা সমমনাদের এক সুতোয় বেঁধে রেখেছেন।

এত গুণে গুণান্বিত মানুষটির এবারও প্রবল মনোবলের বিন্দুমাত্র ঘাটতি ছিল না দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে। অবশেষে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনের দলীয় টিকিটটি পেয়েই গেলেন। তিনি আর কেউ নন; তিনি খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। তালুকদার আব্দুল খালেক একটি নাম। যিনি খুলনা নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, দ্বিতীয়বারের মতো কেসিসির মেয়র, চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য (রামপাল-মোংলা, বাগেরহাট-৩), সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি খুলনা পৌরসভার কমিশনারও ছিলেন।

তিনি আবারও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আগামী ১২ জুন কেসিসির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য। আগামী নির্বাচন, নিজের প্রাপ্তিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জনকণ্ঠের প্রতিবেদকের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। নৌকা প্রতীক পেয়েই তিনি বললেন, আমার শুধু বিশ্বাসই নয়, আমার আস্থাও ছিল, এবারও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে। এই শহরের মানুষ পুনরায় নৌকা প্রতীককে ভোট দেবে। তৃতীয়বারের মতো মেয়র হবো আমি। কেননা আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিকল্পনা করে স্মরণকালের সর্বোচ্চ বরাদ্দ অনুমোদন করেছি। সেই ভাবে সবকিছু চলছিলও। উন্নয়ন কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে সুবৃহৎ কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস আমাদের সকল কাজে নুন ছিটিয়ে দিল, পিছিয়ে গেলাম মূল পরিকল্পনা থেকে। 
সে কারণেই গত পাঁচ বছরে শহরকে সেইভাবে সাজাতে পারিনি। তাই ধারাবাহিকভাবে কাজ শেষ করতে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার বিকল্প নেই। ২০১৮ সালে ভোট যুদ্ধের সময় হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়িয়ে সেবার মান বৃদ্ধি, সিটি গভর্নমেন্ট ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ, যাতায়াত ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, সিটি সেন্টার গড়ে তোলা, বিনামূল্যে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি, মাদকমুক্ত নগর, প্রতিটি ওয়ার্ডে ক্রীড়া উন্নয়নে উদ্যোগসহ ৩১টি অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি।

নগরবাসীকে জলজট থেকে নিষ্কৃতি দিতে অবৈধ দখলে থাকা ২২টি খালকে অবমুক্ত করা ছিল প্রবীণ এই নেতার অন্যতম চ্যালেঞ্জ। ছিল অপ্রশস্ত, ভাঙাচোরা সড়কের উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিনোদন কেন্দ্র স্থাপন, পরিচ্ছন্ন নগরীসহ নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ছিল ইশতেহারে। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, আটশত ও ছয়শত মোট ১৪শ কোটি টাকা আমি মোটা দাগে বরাদ্দ এনেছি। এর সঙ্গে রয়েছে আরও এক হাজার কোটি টাকা। 
এছাড়া সব মিলিয়ে আরও পাঁচশ’ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে ড্রেন ও রাস্তা উন্নয়নের কাজ এক-তৃতীয়াংশ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অন্যান্য অনেক কাজ করোনার কারণে শেষ করতে পারিনি। নির্বাচনী ইশতেহারের ছিল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেসিসিকে দুর্নীতিমুক্ত করা। কিন্তু পাঁচ বছরে তা শতভাগ সফল করতে পারেননি। তিনি জানান, আমি চেষ্টা করেছি। এজন্য নগরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

কেউ টাকা দিয়ে কাজ করাবে আর কেউ টাকা নেবেন দুজনেই সমান অপরাধী। তাই এ বিষয়ে আমি কোনো নালিশ শুনতে চাই না, এটা আমার কর্মকর্তারা সবাই জানেন। তবে এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সম্পন্ন করতে সময় লাগবে। আগামীতে নতুন প্রতিশ্রুতিতে নগরবাসীকে আবদ্ধ করতে চান না এই নেতা। তিনি জানান, তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়ে অসমাপ্ত কাজ শেষ করে শহরকে গড়ে তুলতে চাই তিলোত্তমা নগরী হিসেবে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই শহরের গুরুত্ব কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

তাই সুযোগ পেলে একটি মডেল শহর হিসেবে রূপান্তরিত করতে চান ৭১ বছর বয়সী আওয়ামী রাজনীতিতে বর্ণময় এই প্রবীণ নেতা। তিনি ১৯৫২ সালের ১ জুন তৎকালীন বৃহত্তর খুলনা জেলা আর বর্তমানে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মল্লিকেরবেড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার স্ত্রী হাবিবুন নাহার বর্তমানে বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী।
সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১৫ মে তারিখের নির্বাচনে তালুকদার আব্দুল খালেক নৌকা প্রতীকে এক লাখ ৭৪ হাজার ৮৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছিলেন এক লাখ ৯ হাজার ২৫১ ভোট। মেয়র পদে প্রার্থী ছিলেন পাঁচজন। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে হাতপাখা প্রতীকের মুজ্জাম্মিল হক ১৪ হাজার ৩৬৩ ভোট, জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান (লাঙ্গল) এক হাজার ৭২ এবং কাস্তে প্রতীকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মিজানুর রহমান ৫৩৪ ভোট পেয়েছিলেন।

এর আগে ২০১৩ সালের নির্বাচনে তালুকদার আব্দুল খালেককে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। তার আগের নির্বাচনে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে পরাজিত করেছিলেন তালুকদার আব্দুল খালেক। প্রায় ৪৫ বর্গকিলোমিটারের নগরীতে ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। ১৬ লাখে উপরে বসতি থাকলেও বর্তমানে ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার ৬৪০ জন। 

×