ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০

মেহেরপুর-১

সম্ভাব্য প্রার্থী একাধিক হলেও বিভক্তি নেই বড় দুই দলে

রামিজ আহসান, মেহেরপুর

প্রকাশিত: ০০:০৯, ৬ এপ্রিল ২০২৩

সম্ভাব্য প্রার্থী একাধিক হলেও বিভক্তি নেই বড় দুই দলে

দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত মেহেরপুর-১

দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত মেহেরপুর-১ (মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর) আসন। তাই এ আসনটি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর তাই সব মনোনয়নপ্রত্যাশীও কাজ করে যাচ্ছেন সাধ্যমতো। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে মেহেরপুর ১ আসনের জয় পায় আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আসন বিএনপির ঘরে গেলেও তৎকালীন সংসদ সদস্য আহাম্মদ আলীর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে আসনটি পায় আওয়ামী লীগ।

২০০১ সালে বিএনপি আসনটি পুনরুদ্ধার করে তবে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে আসনটি চলে যায় আওয়ামী লীগের ঘরে। এর পর থেকে এই আসনটি আওয়ামী লীগের ঘরেই রয়েছে। বর্তমানে এই আসনের সংসদ সদস্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। 
আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মেহেরপুর-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন থেকেই নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাট ছোট শোডাউন, গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। 
অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এখনো আন্দোলনের মাঠে রয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে দলটির মধ্যে। তবে দাবি পূরণ হলে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি দিচ্ছে দলটির নেতাকর্মীরা। নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে দলকে সংগঠিত করছে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা।
মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলা নিয়ে মেহেরপুর-১ আসন গঠিত। এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৬৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ২১ আর মহিলা ভোটার ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৬৯ জন। এ আসনটিতে বরাবরই প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ আর বিএনপি থেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছে। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সময় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল জাতীয় পার্টি থেকে। তবে জাতীয় পার্টির অবস্থা একেবারেই করুণ হলেও বর্তমানে নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও মাঠে নেমেছে দলটির নেতাকর্মীরা। অন্যান্য দলের অস্তিত্ব রয়েছে খাতা-কলমে। প্রকাশ্যে তেমন কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় না তাদের।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকলেও এখন তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে মাঠে নেমেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে বিএনপি অনেকটাই ঘর গুছিয়ে নিয়েছে।  নেতাকর্মীরা বলছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে অংশগ্রহণ করবেন তারা। তবে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অভিমত, যে কেউই মনোনয়ন চাইতে পারেন। কে মনোনয়ন পাবেন তা নির্ধারণ করবে দলের হাইকমান্ড।
মেহেরপুর-১ আসনের বিগত নির্বাচনী ফলাফল থেকে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে আহাম্মদ আলী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রফেসর আব্দুল মান্নান ও বিএনপি থেকে আহাম্মদ আলীর বড় ছেলে মাসুদ অরুণ মনোনয়ন পান। সেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ অরুণ বিজয়ী হন। আহাম্মদ আলীর হাত ধরে ছাত্র মৈত্রী ছেড়ে তার অনুসারীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন মাসুদ অরুণ।

পরে তার পিতার মৃত্যুর পর তিনি বিএনপির হাল ধরেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন ও বিএনপি থেকে পুনরায় মাসুদ অরুণ মনোনয়ন পান। একই সঙ্গে জেলা জামায়াতের আমির আলহাজ ছমির উদ্দিনও নির্বাচনে অংশ নেন। ওই নির্বাচনে জয়নাল আবেদীন বিজয়ী হন। 
২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় ফরহাদ হোসেনকে। মনোনয়ন না পেয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হন তৎকালীন শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম। বিএনপি নির্বাচনে না যাওয়ায় এ দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। বিজয়ী হন ফরহাদ হোসেন। বর্তমানে তিনি মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ আসনটিতে দলের মধ্যেই নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব থাকলেও একক নেতা হিসেবে কর্মীদের সমর্থন আদায় করতে পারেনি অন্য কেউ। 
মেহেরপুর-১ (সদর ও মুজিবনগর) আসনে ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে ফরহাদ হোসেন সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এই আসনটিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এখন সন্ত্রাসী, অপরাধমূলক কর্মকান্ড, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম হ্রাস পেয়েছে। নদী খনন, মুজিবনগর বিশ^বিদ্যালয় অনুমোদন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণীয় করে রাখতে ‘স্বাধীনতা সড়ক’ নামে চেক পোস্টের কাজের উদ্বোধন করা হয়।

মুজিবনগর কমপ্লেক্সের উন্নয়নে ১০০০ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্ধ, রেল সংযোগের কার্যক্রম শুরু, স্কুল কলেজের ভবন উন্নয়নের কাজ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ, মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের ভবন উন্নিতকরণ, শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেশন সেন্টারের নির্মান কাজ শুরু করা হয়। 
২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকারের নবগঠিত মন্ত্রীসভায় জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে মনোনিত করা হলে তিনি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহন করেন।
এ বিষয়ে মেহেরপুর-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেই উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেখান থেকেই আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচনের জন্য আমাদের কর্মকান্ড শুরু করতে। আমরা তাই করেছি। এর আগে আমরা মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সম্পন্ন করেছি। তার আগে উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের কাউন্সিল সম্পন্ন করেছি। সেক্ষেত্রে দলের কাউন্সিলগুলো হয়েছে এবং দল সবসময় প্রস্তুত। 
সাবেক এমপি প্রফেসর আব্দুল মান্নান বলেন, আমার সঙ্গে তৃণমূল মানুষের সম্পর্ক ১৯৯১ সাল থেকে। যা এখনো বজায় রয়েছে। আমি শুধু গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন করিনি, পাশাপাশি মানুষের জীবন ব্যবস্থা উন্নতিকরণে কাজ করেছি। আমি যেহেতু শিক্ষক ছিলাম সেহেতু আমি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছি। জেলার তৃণমূলের নেতা কর্মীরা আবারো আমাকে এমপি হিসাবে দেখতে চায়। তাই তিনি মনোয়ন চাইবেন। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দেবেন।

সাবেক এমপি জয়নাল আবেদীন বলেন, আমরা আশা করছি, সব দল নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে। প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হবে। ২০০৮ সালে সব দলের অংশ গ্রহনে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে আমি জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলাম। মেহেরপুরে উন্নয়নে ব্যপক কাজ করেছি। আমি আশাবাদী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দেবেন। তবে দলের মধ্যে নেতৃত্বে প্রতিযোগিতা থাকবেই। এটা কোন দ্বন্দ্ব নয়।
সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী বলেন, আমি দীর্ঘসময় আওয়ামী লীগের সাধারণ ছিলাম, আমরা মাঠ থেকে এসেছি। আমার সঙ্গে তৃণমূল নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের কোন দ্বন্দ্ব নেই। জননেত্রী শেখ হাসিনা যে নির্দেশনা দিচ্ছেন সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। এই কারনে আমি আশা করছি আগামী নির্বাচনে আমি মনোনয়ন পাব। 
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইব্রাহীম শাহিন বলেন, দলের কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা, দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে নিয়মিত কার্যকলাপে অংশ নেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছি। দেশের উন্নয়ন তথা মেহেরপুরের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আমি মনোনয়ন চাইবো তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন তার হয়ে কাজ করবো।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ গোলাম রসুল বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তৃনমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাল ধরার মতো কেউই ছিল না। একমাত্র আমিই ছিলাম। এছাড়া ২০০৪ সালের বোমা হামলায় আমি প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলাম। সেই ক্ষত এখনো বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি। আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমি আশাবাদি প্রধানমন্ত্রী আামকে মনোনয়ন দেবেন। 
সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম বলেন, ছাত্র অবস্থায় থেকে আমি রাজনৈতি করে আসছি। তৃণমূলের নেতা কর্মীদের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ করছি। সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই আমি মাঠে থাকছি। আমি মনোনয়ন চাইবো। প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সদস্য এম.এ.এস ইমন বলেন, আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটাবো মেহেরপুরে। বেকারত্ব সমস্যা দূর করা, পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানো, শুধুমাত্র দৃশ্যমান অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি অদৃশ্যমান অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে নজর দিব।
এদিকে, বিএনপি’তে বড় ধরণের কোন কোন্দল না থাকলেও মনোনয়ন দৌঁড়ে দু’জনের নাম শোনা যাচ্ছে। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মাসুদ অরুণ এবং পেশাজীবি সংগঠন শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসচিব জাকির হোসেন। এছাড়া নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসলে আরো অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম সামনে আসবে। জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে জেলা আহ্বায়ক আব্দুল হামিদ মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মাসুদ অরুণ বলেন, আমরা (বিএনপি) ইতিমধ্যে ১০ দফা দাবী  ঘোষণা করেছি। আমরা চাই নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি জাতীয় নির্বাচন। যেখানে জনগন তার ভোটের অধিকার ফিরে পাবে। চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জনতার বিজয়ের মধ্য দিয়েই দল নির্বাচনে যাবে।

সেক্ষেত্রে মনোনয়নের বিষয়টি দলীয়ভাবেই সিদ্ধান্ত হবে। এই মুহূর্তে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং চলমান সংগ্রামকে এগিয়ে নেয়াই মূল লক্ষ্য আমাদের। মেহেরপুর জেলা বিএনপি অত্যন্ত সুসংগঠিত, দলের মধ্যে কোন  কোন্দল নেই, তবে কিছু ভিন্নমত আছে। ব্যাপক জনগনকে সংগঠিত করে যে সংগ্রাম চলছে সেটাই এক সময় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে আমাদের কাজে দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি। 
পেশাজীবি সংগঠন শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসচিব জাকির হোসেন বলেন, এই মুহূর্তে নির্বাচনের ভাবনার তেমন সুযোগ নেই। দেশের নির্বাচন হওয়ার পরিস্থিতি নেই। যদি সুষ্ঠু  নির্বাচনের পরিবেশ আসে তাহলে আমি অবশ্যই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেব। আমি পেশাজীবী সংগঠন শিক্ষকদের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী। 
জাতীয় পার্টির জেলা আহ্বায়ক আব্দুল হামিদ বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে আমি ও আমার নেতা-কর্মীরা ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করেছি। আগের তুলনায় জাতীয় পার্টি এখন অনেক গুছিয়ে এসেছে। নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ পেয়েছি। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।
তবে মেহেরপুর-১ আসনের সাধারণ ভোটাররা বলছেন, মনোনয়ন ঘোষণা হবার পর প্রার্থীদের আসল পরিচয় প্রকাশ পাবে। কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন, কেউ বিরোধিতা করবেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করলে আবারো আসনটি পেতে পারে আওয়ামী লীগ। 

×