ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১

কক্সবাজারে নারী ও নিষ্পাপ দুই শিশু কারাগারে, ক্ষোভ এলাকাবাসীর

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার

প্রকাশিত: ১১:৪৩, ২২ মার্চ ২০২৩; আপডেট: ১২:০১, ২২ মার্চ ২০২৩

কক্সবাজারে নারী ও নিষ্পাপ দুই শিশু কারাগারে, ক্ষোভ এলাকাবাসীর

নারী ও শিশু

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনার জেরে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ঘটে যাওয়া ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে না পেয়ে তার স্ত্রী ও দুই শিশুকে ধরে এনে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। 

টাকার লোভে এ অমানবিক কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ঈদগাঁও থানার এসআই গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২১ মার্চ) সকালে ঘটনাটি ঘটেছে জালালাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব ফরাজী পাড়া এলাকায়। 

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান রাশেদ জানান, গতকাল পূর্ব ফরাজী পাড়া এলাকায় প্রতিবেশী মৃত নজীর আহমেদের ছেলে শাহজাহান ও মৃত আবু শামার ছেলে হারুন অর রশীদের মধ্যে নলকূপের পানি চলাচল নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় শাহাজাহান নামের এক যুবক হারুন অর রশীদকে নখ কাঁটার যন্ত্র দিয়ে আঘাত করে। হারুন অর রশীদকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা হাসপাতালে পাঠায়। 

পরে খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানার এসআই গিয়াস উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিকেলে শাহাজাহানের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় শাহাজাহানকে না পেয়ে তার স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিনসহ দুগ্ধজাত এক শিশু এবং ২ বছরের আরও এক শিশুকে থানায় নিয়ে আসে। পরে ভিকটিম হারুন অর রশীদের স্বজনদের থানায় ডেকে নিয়ে নাটকীয় কায়দায় মামলা রেকর্ড করে আদালতে সোপর্দ করে। 

এসআই গিয়াস উদ্দিন জানান, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শাহজাহানের স্ত্রীকে আটক করে আনা হয়েছে। পরে ভিকটিম হারুন অর রশীদের পরিবার মামলা দায়ের করলে সে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে।

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান রাশেদ জানান, ঘটনাটি মীমাংসা যোগ্য, পুলিশ অতিরঞ্জিত করে নিরীহ স্ত্রী এবং নিষ্পাপ দুই শিশুকে ধরে এনে আদালতে সোপর্দ করেছে। এটি অমানবিক নিষ্ঠুরতা। স্বামী, পিতার দোষে নিরীহ বাচ্চাদের ধরে এনে মামলা দায়ের করাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

এ বিষয়ে জানতে ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মো: গোলাম কবির  বলেন, ভিকটিমের পরিবার এজাহার জমা দিয়েছে। এজাহারের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে। বাচ্চাদের বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় রাখা হয়েছে। 

এদিকে স্ত্রীসহ বাচ্চাদের ধরে এনে আদালতে সোপর্দ করার ঘটনায় ফুঁসে ওঠেছে মানবাধিকার কর্মীরা। 

এসআর

×