ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে খাপড়াভাঙ্গা নদী

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ০০:৩৮, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে খাপড়াভাঙ্গা নদী

মহিপুরে প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণ ও দখলে অস্তিত্ব হারাচ্ছে খাপড়াভাঙ্গা নদী

খাপড়াভাঙ্গা নদীর দুই তীর প্লাস্টিক-পলিথিনের দূষণে একাকার হয়ে গেছে। ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীকে স্থানীয় জেলেসহ সাধারণ মানুষ শিববাড়িয়ার চ্যানেল নামে চেনেন। আন্ধারমানিক নদীর সাগরের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু হয়ে এই নদীটি মিশেছে রাবনাবাদ চ্যানেলের সঙ্গে। দুই দিক দিয়েই এই চ্যানেল দিয়ে সাগরে যাওয়া-আসা করা যায়। মৎস্যবন্দর আলীপুর-মহীপুর এই নদীর দুই তীরে দুর্যোগকালীন হাজার হাজার মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে জেলেরা নিরাপদ আশ্রয় নেয়।

পোতাশ্রয় হিসেবে এটি খুবই প্রয়োজন জেলেদের জন্য। বর্জ্যরে পাশাপাশি পলির আস্তরণে এই নদীর অর্ধেকটা ভরাট হয়ে গেছে। জেলেরা জানান, আন্ধারমানিক নদীর প্রবেশদ্বারে বড় চর পড়ে গেছে। ভাটার সময় খাপড়াভাঙ্গা নদীতে প্রবেশ করতে সমস্যা হয়। বর্তমানে নদীর দুই তীরে দখল ছাড়াও পলিথিন-প্লাস্টিকের দূষণে একাকার হয়ে গেছে। ফ্রি-স্টাইলে নদীকে ভাগাড়ে পরিণত করছে জেলে, দোকানিসহ স্থানীয় লোকজন। আলীপুর-মহীপুর বন্দরের বাসিন্দাসহ শত শত দোকানি এই বন্দরের সকল বর্জ্য নদীতে ফেলছে।
নদী তীরে জেলেরা ফেলছে ছেঁড়া-কাটা জালের টুকরা। ফেলা হয় পচা মাছ। নদী তীরে গেলে চোখে পড়ে আবর্জনার পাশাপাশি প্লাস্টিক-পলিথিনসহ জালের ছেঁড়া-কাটা অংশ। শুধু তাই নয়, সমানে দুই তীরে দখলও চলছে। নদীটি পড়েছে অস্তিত্ব সংকটে। 
পরিবেশকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’র সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, দখল-দূষণ ও ভরাটরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে নদীটি জেলেরা দুর্যোগকালীন আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।  এখানকার মৎস্য ব্যবসায় চরম সংকট সৃষ্টি হবে।
মহীপুর বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডা. খলিলুর রহমান জানান, তারা একটি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য বলেছেন। 
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শংকর চন্দ্র বৈদ্য বলেন, মহীপুর-আলীপুর বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেবেন, যাতে নদীর তীরে কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা না হয়। আর নদী-খাল রক্ষায় ভূমি প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে।


সুন্দরবনসহ জলাভূমি রক্ষার দাবি
নিজস্ব সংবাদদাতা মোংলা থেকে জানান, প্লাস্টিক এবং শিল্পদূষণ ও দখলের কবল থেকে বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ জলাভূমি সুন্দরবনকে বাঁচাও। পরিবেশের ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য, কৃষি, মৎস্যসহ খাদ্য নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো জলাভূমি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে এই সুন্দরবন আমাদের মায়ের মতো আগলে রাখে। বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ জলাভূমি সুন্দরবনসহ দেশের সকল জলাভূমি রক্ষায় সরকারকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে মোংলার কাপালির মেঠ বিলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের আয়োজনে ‘সুন্দরবন বাঁচাও’ শীর্ষক মানববন্ধনে বক্তারা একথা বলেন। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাপা মোংলা আঞ্চলিক শাখার আহ্বায়ক নূর আলম শেখ। বক্তব্য রাখেন সিপিবি নেতা অধ্যাপক অসিত সরকার, সাবেক ছাত্রনেতা দুলাল দেবনাথ, বাপা নেতা নাজমুল হক, শেখ রাসেল, হাছিব সরদার, উন্নয়নকর্মী মো. শাহ আলম, ছবি হাজরা, মেহেদী হাসান বাবু প্রমুখ।

×