ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

মোংলায় চলছে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট

প্রকাশিত: ১৫:৫৪, ২৭ নভেম্বর ২০২২

মোংলায় চলছে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি

বাগেরহাটের মোংলায় নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি

বাগেরহাটের মোংলা, মোরেলগঞ্জ, রামপাল ও শরণখোলায় চলছে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি। শনিবার (২৭ নভেম্বর) প্রথম প্রহরে ১০ দফা দাবিতে সারাদেশের মত এই জেলায়ও নৌযান শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করে। এর ফলে মোংলা বন্দরে বিদেশী জাহাজে আসা আমদানি করা বিভিন্ন পন্য নদী পথে পরিবহন বন্ধ রয়েছে। তেমনি শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ থেকেও কিন্তু যেমন দূরপাল্লার যাত্রীবাহী নৌযান ও পন্য পরিবহনকারী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতী চলমান থাকলে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে মোংলা বন্দরের আমদানী-রপ্তানীকারক ব্যাবসায়ীরা। আর উৎপাদন ব্যাহত হবে এখানকার শিল্প প্রতিষ্ঠানে বলে দাবী ব্যাবসায়ীদের।

নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ মোংলা শাখার যুগ্ন আহবায়ক মামুন হাওলাদার বলেন, দেশের সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু শুধু নৌযান শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা বাড়েনি। নৌযানের পন্য পরিবহনের ভাড়াও বৃদ্ধি করেছে কিন্তু নৌযান শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নী। বার বার মালিক পক্ষ ও সরকারের কাছে আবেদন করেও আমাদের কোন লাভ হয়নি। গত ১৯ নভেম্বর সরকার ও মালিক পক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কেউ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। যার ফলে আমরা এই কর্মবিরতীতে যেতে বাধ্য হয়েছি। ১০ দফা দাবী না মানা পর্যন্ত এ কর্মবিরতী অব্যাহত থাকবে।

নৌযান শ্রমিকদের দাবিগুলো হচ্ছে, নৌযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক দেওয়াসহ শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, খাদ্য ভাতা ও সমুদ্র ভাতার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন করা, দুর্ঘটনা ও কর্মস্থলে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা, চট্টগ্রাম থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে দেশের স্বার্থবিরোধী অপরিণামদর্শী প্রকল্প বাস্তবায়নে চলমান কার্যক্রম বন্ধ করা, বালুবাহী বাল্কহেড ও ড্রেজারের রাত্রিকালীন চলাচলের ওপরে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা শিথিল, নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস দেওয়াসহ ভারতীয় সীমানায় সব প্রকার হয়রানি বন্ধ, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন নীতিমালা ১০০ শতাংশ কার্যকর করে সব লাইটারিং জাহাজকে সিরিয়াল মোতাবেক চলাচলে বাধ্য করা, চরপাড়া ঘাটে ইজারা বাতিল ও নৌ-পরিবহন অধিদফতরের সব ধরনের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা বন্ধ করা।

টিএস

সম্পর্কিত বিষয়:

×