ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

ব্যাটারি পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে সিসা, হুমকীতে  পরিবেশ

মোঃ মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ

প্রকাশিত: ১২:১৩, ৭ আগস্ট ২০২২

ব্যাটারি পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে সিসা, হুমকীতে  পরিবেশ

ত্রিপাল টানিয়ে শ্রমিকরা কাজ করছে ও টিলার নিচে ফেলা হচ্ছে ব্যাটারির বর্জ্য

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলে উপজেলায় ব্যাটারি পুড়িয়ে অবৈধভাবে একটি কারখানায় সিসা তৈরির খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকার রুপাইছড়া রাবার বাগানের পাশে সেগুন টিলায় এই কারখানার অবস্থান। সিসা তৈরির কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে আশেপাশের এলাকার মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এ কারখানায় রাতের আঁধারে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করা হয়। এতে ব্যাটারির অ্যাসিডের তীব্র গন্ধে ভারী হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা। কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার সহকারী ম্যানেজার বলছেন, সেগুন টিলায় কিছু জমি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রায় ৫ মাস পূর্বে যোগদান করেন। এ কাজ তাঁরা সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় করেই করছেন। প্রশাসন বলছে, এই এলাকায় এ ধরনের তালিকাভুক্ত কোনো কারখানা নেই। এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


জানা যায়, সেগুন টিলার একটি ঝুঁকিপূর্ণ টিলায় ত্রিপাল টানিয়ে শ্রমিকরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করছে। শ্রমিকরা ব্যাটারি থেকে সিসা সংগ্রহ করে আলাদা করছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে পুরাতন ব্যাটারি সংগ্রহ করে এখানে আনা হয়। রাতে এসব ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করা হচ্ছে। 


সরেজমিনে দেখা গেছে, টিলার উপরে ত্রিপাল টানিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শ্রমিকেরা কাজ করছেন। কেউ পুরোনো ব্যাটারির ওপরের অংশ খুলে প্লেট (ব্যাটারির ভেতর থাকা পাত) বের করছেন। কেউ ব্যাটারি থেকে অ্যাসিড বের করে সংরক্ষণ করছেন। আর সেই সাথে ব্যাটারি পুড়ানোর পর বর্জ্য টিলার নিচে ফেলা হচ্ছে। ব্যাটারীর অ্যাসিডের পানি ছড়িয়ে পড়ছে পাহাড়ি ছড়ায়। এ পানি নদী ও হাওড়ে প্রবেশ করছে। 


শ্রমিকরা বলেন, আমরা ১০ থেকে ১৫ জন ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করার জন্য বগুড়া থেকে এখানে এসেছি। কাজের ভিত্তিতে মজুরিতে কোনো দিন ৩০০ টাকা, আবার কোনো দিন ৪০০ টাকা পাই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, রাত হলে এখানে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করার বিকট শব্দ শোনা যায়।


কারখানার সহকারী ম্যানেজারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংবাদিক কেরে আয় বুঝি। নাম ও মুঠোফোনের নাম্বার দিয়ে যান। পরে যোগাযোগ করা হবে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের নাম লিখে রাখেন। এখানে ব্যাটারি কোথা থেকে আনা হয় জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে মাল এখানে আসে। এ কারখানার মালিক জিয়া সাহেবের বাড়ি ঢাকায়। তিনি ভাল মানুষ। এখানে ভাল কাজ করা হচ্ছে।   


রুপাইছড়া রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, রাতে ব্যাটারি পুড়ানো হয়। ধোঁয়ায় প্রায় এক কিলোমিটার কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে রাবার বাগানের উপর বিরাট প্রভাব পড়েছে। প্রভাব পড়ছে আশেপাশেও। 


হবিগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের কাছে এই এলাকায় এই ধরনের তালিকাভুক্ত কোনো কারখানা নেই। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। 

টিএস