৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

লকডাউনের কারণে ভারতে দরিদ্র মানুষের জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০২০, ০১:১৮ পি. এম.
লকডাউনের কারণে ভারতে দরিদ্র মানুষের জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে

অনলাইন ডেস্ক ॥ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে ভারতে মঙ্গলবার মাঝরাত থেকে যে দেশব্যাপী লকডাউন শুরু হয়েছে সেই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই শহরাঞ্চলের বহু মানুষ শপিং মল বা পাড়ার দোকানগুলিতে ভিড় করে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিসও কিনে নিচ্ছেন। তাদের ভয় দেরি হলে যদি ফুরিয়ে যায়! এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও কাঁচাবাজার পৌঁছানোই একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাইকারি বাজারগুলোতে কোনোভাবে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছাচ্ছে ঠিকই, তবে তা মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা নেই - কারণ শহরে সারা ভারতে এবং তারও আগে রবিবার বিকেলে যখন পশ্চিমবঙ্গের অনেকগুলি শহরে লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী - দুজনেই আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন যে মুদি দোকান বা সবজি বাজার খোলা থাকবে - তাই খাদ্য দ্রব্যের অভাব হবে না।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে অনেক দোকানেই পণ্য শেষ হতে শুরু করেছে - বাজারগুলিতে সবজি কম - যেটুকু থাকছে, তার দামও অনেক বেশি।

কলকাতার বৃহত্তম পাইকারি বাজার - কোলে মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির প্রধান কমল দে বলছিলেন সমস্যাটা কোথায়।

"এক তো ট্রেন বন্ধ, তাই ট্রাকে করে গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের অনেক বাড়তি খরচ করে শহরের পাইকারি বাজারে কৃষিপণ্য নিয়ে আসতে হচ্ছে। সেজন্য দাম তো বাড়ছেই। তাও কিন্তু তারা নিয়ে আসছেন বাজারে। সমস্যাটা হয়ে যাচ্ছে শহরের বাজারগুলোতে সেই সবজি পৌঁছানো।"

দক্ষিণ কলকাতার একটি রিকশা ইউনিয়নের নেতা সুশান্ত দেবনাথ বলছিলেন, "শহরে যারা রিকশা বা ভ্যান চালাতে আসেন, তাদের একটা বড় অংশই গ্রামে কাজ না পেয়ে চলে আসেন।"

"এখন ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে তারা আসতেও পারছেন না, আবার ওদিকে লকডাউন। আমরা জানি না এরা কীভাবে বেঁচে থাকবেন যদি না সরকার অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা করে। হয়তো করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে বেঁচে যাবেন এরা, কিন্তু অনাহারেই তো মারা যাবেন অনেকে।"

খাবার ছাড়াও বহু মানুষের প্রয়োজন চিকিৎসার। ওষুধের দোকান খোলা রাখা হচ্ছে ঠিকই শহরে, কিন্তু গ্রামের দিকে ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যধিতে যারা আক্রান্ত, তারা নিয়মিত ডাক্তার দেখাতে শহরে আসবেন কীভাবে, সেটা নিয়ে চিন্তায় আছে অনেকে। আবার জীবনদায়ী ওষুধ তারা যোগাড়ই বা করবেন কীভাবে গ্রামে বসে। সেটা তাদের একটা দুশ্চিন্তা। সরকার এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট ভাবে পরিকল্পনা ঘোষণা করে নি। তবে আজ মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকের পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকর এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন দারিদ্র সীমার নীচে থাকা ৮০ কোটি মানুষকে প্রতিমাসে সাত কেজি গম দু'টাকা দরে আর তিনটাকা কিলো দরে চাল দেওয়া হবে। আগামী তিন মাসের জন্য এই ব্যবস্থা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও দারিদ্রসীমার নীচে থাকা মানুষদের জন্য মাসিক এক হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদানের কথা ঘোষণা করেছেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০২০, ০১:১৮ পি. এম.

২৬/০৩/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: