৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

করোনা নিয়ে তরুণ প্রজন্মের উদ্যোগ

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০২০

সারতাজ আলীম

যখন এই প্রতিবেদনটি লেখা হচ্ছে ততক্ষণে করোনাভাইরাস কেড়ে নিচ্ছে আরও মানুষের প্রাণ। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এত দ্রুত কোন মহামারী মনে হয় আগে ছড়িয়ে পড়েনি। আপনি যখন কাগজের পাতা উল্টিয়ে করোনাভাইরাসের খবর পড়ছেন ঠিক তখনই একদল তরুণ রীতিমতো যুদ্ধ করছে। তাদের যুদ্ধ অদৃশ্য এক শত্রুর বিরুদ্ধে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য। আর মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য। বিগত কয়েকদিনে কয়েকটি তরুণ সংগঠনের কার্যক্রম চোখে পড়েছে যারা নিজেদের জীবনের তোয়াক্কা না করে করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করছে। এ রকম কিছু সংগঠনকে নিয়েই আজকের প্রতিবেদন। প্রায় সব সংগঠনই আর্থিকভাবে খুব দুর্বল এবং সবার সঙ্গেই কথা বলে জানা গেছে আর্থিক সহায়তা তাদের কার্যক্রম গতিশীল করবে।

বিদ্যানন্দ : এক টাকায় আহার, নির্বাচনী পোস্টার সংগ্রহ করে খাতা বানানোর মতো কাজ করে তারা আগেও আলোচনায় এসেছে। তবে তাদের এবারের কার্যক্রম আগের সব কাজকে ছাপিয়ে গেছে। তাদের স্বেচ্ছাসেবকরা জীবাণুমুক্তকরণ কেমিক্যাল নিয়ে নেমে পড়েছে শহরের গণপরিবহন এবং পাবলিক প্লেসগুলো জীবাণুমুক্ত করতে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় রেলস্টেশন, মসজিদ, বাস, ট্রেন, লঞ্চঘাটসহ বহু জায়গায় তারা রাসায়নিক ছিটিয়েছেন। স্থাপন করেছেন হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। এছাড়াও মাস্ক, চিকিৎসকদের পোশাক বানিয়ে বিতরণ করছেন তারা। প্রচুর চাহিদা থাকলেও নিজেদের সীমাবদ্ধতা আছে সংগঠনটির। এছাড়াও মহিলা ডাক্তার কিংবা নার্সকে আগামী এক মাস তাদের বাসন্তী নিবাস ক্যাপসুল হোটেলে থাকতে কোনরূপ মূল্য পরিশোধ করতে হবে না। থাকার পাশাপাশি সকাল, দুপুর এবং রাতের খাবারও বিনামূল্যে দেয়ার করার ঘোষণা দিয়েছে তারা। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাদের ব্যাপক প্রশংসা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে কাজ করতে চাইলে বা আর্থিক অনুদান দিতে চাইলে যে কেউ যোগাযোগ করতে পারেন ০১৮৭৮১১৬২৩০ নম্বরে।

ইয়ুথ লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে সামাজিক সংগঠনটি জনসাধারণের সচেতনতার জন্য ৩ হাজার লিফলেট বিতরণ করেছে। এছাড়াও রিক্সাচালক, শ্রমজীবী ও ফুটপাথের দোকানদার ৮০০ লোককে মাস্ক বিতরণ এবং হেক্সিসল দিয়ে হাত ধোয়ার পদ্ধতি শিখানোসহ হাত পরিষ্কার করার জন্য হেক্সিসল দেয়া হয়েছে। তারা জানান ইয়ুথ লক্ষ্মীপুর ওই সর্বদা মানুষের যে কোন মানবিক কাজে পাশে দাঁড়াতে চাই, সেটি করোনাভাইরাস হোক অথবা যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হোক। এছাড়া তাদের মাস্ক, হেক্সিসলসহ এ ধরনের কোন কার্যক্রমে কেউ সাহায্য করতে চাইলে করতে পারেন ০১৭৮৬৫০৭৮৯৮ নম্বরে।

জীবন এবং অপরাজিতা, রাঙ্গামাটি অপরাজিতা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পার্বত্য রাঙ্গামাটিতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান পরিচালনা করেছে। অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে করোনা সম্পর্কে সচেতনতামূলক কর্মশালা করেছে। মাঠপর্যায়ে মাস্ক বিতরণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনা সম্পর্কিত সচেতনতামূলক প্রচার করে যাচ্ছে। নারীদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে দুর্গম পাহাড়ী এলাকাসমূহে উরমহরঃু ইড়ী পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়ে সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং বিভিন্ন বস্তিতে স্যানিটারি প্যাড বিতরণ করেছে। নিজস্ব (বিনংরঃব (ড়ঢ়ড়ৎধলরঃধ.লরনড়হনফ.ড়ৎম) এ ঘরে বসে খুব সহজেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কতটুকু সেটা নির্ণয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বিন নধংবফ ধঢ়ঢ় তৈরি করে। অপরাজিতা বেশকিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ না হওয়ার কারণে প্রত্যেকটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বেশ বেগ পোহাতে হয়। সমাজের বিত্তবানরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে আমরা বিশ্বাস করি করোনা প্রতিরোধ করা অনেকটা সহজ হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতাই পারে সচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে। কেউ সাহায্য দিতে চাইলে, ০১৩১২১৫৪২৬৬ বা ০১৭১৫১৭৩৪৫০ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।

লাল সবুজ সোসাইটি : তাদের উদ্যোগে ঢাকা, বরিশাল, ঝালকাঠিতে মেডিক্যালের নার্স, এবং রাস্তায় দরিদ্র মানুষদের মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন শর্টফিল্ম, পোস্টার ইত্যাদির মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তাদের সামনের দিনগুলোর কার্যক্রম জানতে চাইলে তারা জানান- হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছে দেব, বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক পোস্টারিং মাইকিং চায়ের দোকানে ওয়ানটাইম কাপ ব্যবহারে সচেতনতা সৃষ্টি। সমাজিক দূরত্ব সম্পর্কে সচেতন করা। লাল সবুজ সোসাইটিকে কেউ যে কোন ধরনের সহযোগিতা করতে চাইলে যোগাযোগ করুন ০১৭৭১১৮৪৭৪৩ নম্বরে।

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০২০

২৪/০৩/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: