১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

জবাবদিহিতা চাই

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী ২০২০
  • ইয়াসমীন আক্তার

যখন তখন অপরিকল্পিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে নাগরিক দুর্ভোগ অনেক পুরনো সমস্যা। নাগরিক সেবা দানকারী ওয়াসা, টেলিফোন, বিদ্যুত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানই মূলত এই কাজ করে থাকে। সিটি কর্পোরেশন থেকে অনুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করে সাধারণত রাস্তা কাটা হয়ে থাকে। কাজ শেষে সিটি কর্পোরেশন থেকে রাস্তা মেরামত করা হয়। প্রয়োজনে রাস্তা কাটা হলেও মেরামত কাজ পড়ে থাকে দিনের পর দিন। নাগরিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করলেও এ নিয়ে তেমন কারও মাথাব্যথা দেখা যায় না। সম্প্রতি ঢাকা ওয়াসা নগরীর অধিকাংশ রাস্তা কেটে তাদের পাইপলাইন বসানোর কাজ করেছে। গত কয়েক মাসেও এসব রাস্তা মেরামতের কোন উদ্যোগ নজরে আসেনি। মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে কারও কোন মাথাব্যথা রয়েছে বলে মনে হয় না।

রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির এই সমস্যা নিরসনে সবাই একমত। বার বার এ নিয়ে আলোচনা হয়। কোন কোন সময় গ্রহণ করা হয় কিছু সিদ্ধান্ত। কাজের কাজ কিছুই হয় না। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির এই দুর্ভোগ থেকে নাগরিকদের মুক্তি মিলে না। অপরিকল্পিত রাস্তা কাটা বন্ধ করার জন্য ২০০৩ সালে সড়ক খনন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এই নীতিমালা গত ষোলো বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১১ সালে সিটি কর্পোরেশন বিভক্ত হলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে যায়। এর মধ্যে সিটির আয়তন বৃদ্ধি পায়। রাস্তা খননের বিড়ম্বনাও বৃর্দ্ধি পায়। বছরজুড়ে দিনরাত যে কোন সময় সড়ক খননের কাজ বন্ধ করা হবে বলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বার বার ঘোষণা দিয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

পুরনো নীতিমালা বাতিল করে যুগোপযোগী করার জন্য ২০১৮ সালে উদ্যোগ নেয়া হয়। সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নানামুখী মতের কারণে এই নীতিমালা আর প্রণীত হয়নি। বর্তমানে কোন নীতিমালা না থাকায় একটি রাস্তা মাসের পর মাস ফেলে রেখে একই ঠিকাদারকে অন্য রাস্তা খনন করতে দেখা যায়। কাজ শেষে কোনমতে ইট-বালু দিয়ে দায়সারাগোছের মেরামত করেই ফেলে রাখা হচ্ছে মাসের পর মাস। এ নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও কোন প্রকার জবাবদিহিতা লক্ষ্য করা যায় না।

রাজশাহী থেকে

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী ২০২০

২৩/০১/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: