২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১২ ফাল্গুন ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

কৌশলে তেল চুরি, মিরপুরে পেট্রোল পাম্প সিলগালা

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তেল চুরিতে কৌশল অনেক। মাপেও কম, মানেও কম। দুয়ে মিলে হয় তেল চুরির ষোলকলা পূর্ণ। মিরপুরে এশটি পেট্রোল পাম্পে এমনই এক চুরির ঘটনা হাতেনাতে ধরে শাস্তি দেয়া হয়েছে। এক্কেবারে পেট্রোল পাম্পটা সিলগালা করার পর দেয়া হয়েছে মামলা। যার শাস্তি হবে কমপক্ষে দু’বছরের জেল।

বিএসটিআই এক সাংবাদিকদেরকে জানিয়েছে, বর্তমানে অন্যান্য সেক্টরেরর মতো এ সেক্টরেও চলছে তেল চুরির মহাযজ্ঞ। প্রতিদিনই রাজধানীসহ দেশব্যাপী চলছে এ ধরনের চুরি যা ভোক্তার পক্ষে ধরা সম্ভব নয়। লিটারে প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাংশ তেল কম দেয় পেট্রোল পাম্পগুলো। অভিনব কায়দায় হাজার হাজার লিটার জ্বালানি তেল চুরি করছে তারা। এভাবে ভোক্তাদের ঠকিয়ে লুটে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এ ধরনের বেশ কিছু অভিযোগ হাতে নিয়ে মাঠে নামে বিএসটিআই। রাজধানীর মিরপুরে পেয়েও যায় চোরচক্রকে। ১০ লিটার তেলে ৫৪০ মিলি লিটার কম দেয়ার দায়ে মিরপুরের শাহ্এলাকার মেসার্স স্যাম এ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড পেট্রোল পাম্প সিলগালা করে দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। পাশাপাশি পেট্রোল পাম্পটির বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। বিএসটিআই-এর সহকারী পরিচালক মোঃ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে পলিচালিত অভিযানে পেট্রোল পাম্পটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে প্রতিষ্ঠানটিকে সিলগালা কওে দেয়া হয়। বুধবার এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই এই তথ্য জানায়। অভিযানে আরও অংশ নেন বিএসটিআইয়ের পরিদর্শক মোঃ লিয়াকত হোসেন ও মোঃ বিল্লাল হোসেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই আরও জানায়, মিরপুর-২-এর মেসার্স স্যাম এ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড প্রতিদিন গড়ে আনুমানিক ৩৬ হাজার লিটার পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি করে। স্যাম এ্যাসোসিয়েটসের ৪টি ডিজেল ডিসপেন্সিং ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ৫৪০ মিলি লিটার, ৫৩০ মিলি লিটার, ৫২০ মিলি লিটার ও ৫০০ মিলি লিটার তেল কম পাওয়া যায়। এছাড়া ২টি অকটেন ডিসপেন্সিং ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ৪৪০ মিলি লিটার ও ৪১০ মিলি লিটার অকটেন কম এবং ২টি পেট্রোল ডিসপেন্সিং ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ৪৬০ মিলি লিটার ও ৪৭০ মিলি লিটার পেট্রোল কম দেয়া হয়।

এ অভিযানে এই রকম পুকুর চুরির ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় ‘ওজন ও পরিমাপ মানদ- আইন-২০১৮’ অনুযায়ী পেট্রোল পাম্পটিকে সিলগালা কওে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এর আগের দিন ঢাকা মহানগরীর উত্তরা ও গাজীপুর এলাকায় বিএসটিআই অভিযান পরিচালনা করে আরও ৩টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উত্তরার আজমপুর এলাকার মেসার্স কসমো ফিলিং স্টেশন এ্যান্ড সার্ভিস সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটির দু’টি অকটেন ডিসপেন্সিং ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ১৪০ মিলি লিটার অকটেন ও চারটি ডিজেল ডিসপেন্সিং ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ১৫০ মিলি লিটার, ১২০ মিলি লিটার, ১৯০ মিলি লিটার ও ২০০ মিলি লিটার ডিজেল কম দেয়া হয়। একই প্রতিষ্ঠান দু’টি সুপারটেক ও দু’টি হাইটেক ডিসপেন্সিং ইউনিট বিএসটিআইয়ের সিল ছাড়াই ব্যবহার করে আসছে। এছাড়া, উত্তরা তুরাগ এলাকার মেসার্স লতিফ এ্যান্ড কোং ফিলিং স্টেশন অকটেন ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ৩১০ মিলি লিটার এবং দুইটি ডিজেল ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ১৬০ মিলি লিটার ও ১৭০ মিলি লিটার তেল কম দেয় বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকার মেসার্স মুন স্টার ফিলিং স্টেশনের একটি অকটেন ও একটি ডিজেল ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ৬০ মিলি লিটার ও ৭০ মিলি লিটার তেল কম দেয়া এবং চারটি ডিসপেন্সিং ইউনিট অবৈধভাবে ব্যবহার করে আসছে। এ ধরনের কার্যক্রমে ওজন ও পরিমাপ মানদ- আইন লঙ্ঘন হওয়ায় একই আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০১৯

১৭/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অন্য খবর



শীর্ষ সংবাদ: