২০ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

প্রযুক্তির ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৯
  • রেজা নওফল হায়দার

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিমূলক সরকার, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, দ্রুত সেবা, কম খরচ, যুগোপযোগী মাধ্যম, টেকসই অর্থনীতি সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন ডিজিটাল পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে- মন্ত্রণালয়ে ই-সেবা চালু, থ্রিজি প্রযুক্তির মোবাইল পরিসেবা চালু, জাতীয় ই-তথ্যকোষের আনুষ্ঠানিক যাত্রা, তিন বছরের কর অবকাশ সুবিধাসহ হাইটেক পার্ক বাস্তবায়নাধীন, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড/আইসিটি এক্সপো, অনলাইনে জন্ম-মৃত্যুর নিবন্ধন, রেলওয়ে টিকেটিং সিস্টেম, অনলাইনে ভিসা প্রসেসিং ও যাচাই, ইপিআই ও আইটিইই সার্টিফিকেশন, জাতীয় ডেটা সেন্টার, ডট বাংলা ডোমেইন চালুর উদ্যোগ, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটি ৬.৫ গুণ বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল বৃদ্ধি করে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে রেমিটেন্স অর্জন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ফাইবার অপটিক ব্যাকবোন, সকল সরকারী কর্মকর্তাদের মাঝে কম্পিউটার ট্যাবলেট বিতরণ, শিক্ষার্থীদের মাঝে ল্যাপটপ কম্পিউটার বিতরণ, সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়াইফাই চালুর প্রক্রিয়া বাস্তবায়নাধীন, ইউআইএসসি থেকে মোবাইল ব্যাংকিং চালুর উদ্যোগ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সকল পাঠ্যপুস্তক নিয়ে ই-বুকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-ফাইলিং, মুখস্থবিদ্যার প্রচলিত পাঠদান রীতির বদলে প্রযুক্তিনির্ভর সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি চালু, তৃণমূলে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বীমাসেবা চালুর উদ্যোগ, জাতীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী পুরস্কার প্রবর্তন, বিনিয়োগের জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন চালু, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা চালু, জাতীয় ওয়েবপোর্টাল চালু, জাতীয় ই-তথ্যকোষ উদ্বোধন, জেলা ওয়েবপোর্টাল চালু, জেলা ই- সেবাকেন্দ্র চালু, উপজেলা ওয়েবপোর্টাল চালু, ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র চালু, বিমানের টিকেট ইউআইএসসির মাধ্যমে বিক্রয়ের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, ইউনিয়ন ওয়েবপোর্টাল চালু, অনলাইন জিডি ফিলিং, বাংলাদেশ গবর্নমেন্টের সকল ফরম অনলাইনে, একদিনে কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অনলাইনে এইচএসসিতে রেকর্ডসংখ্যক ছাত্রছাত্রী ভর্তি, আয়কর রিটার্ন ফরম অনলাইনে, অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স, অনলাইনে বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার তথ্য, কৃষি তথ্য সার্ভিস, পাসপোর্ট পরিষেবা, পরিষেবার বিল পরিশোধ, অনলাইনে হজের তথ্য, ইলেক্ট্রনিক দরপত্র পদ্ধতি শুরু, ডিজিটাল স্বাক্ষর পদ্ধতির প্রবর্তন, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ই-সেবা, মোবাইল ব্যাংকিং চালু।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এশিয়ার দেশগুলোতে ই-গবর্নমেন্ট কার্যক্রম দ্রুত প্রসার লাভ করছে। বিশ্বের ১৯৮ দেশের ই-গবর্নমেন্ট কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে বার্ষিক এই রিপোর্ট তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের টাবম্যান সেন্টার ফর পাবলিক পলিসি বিভাগ। রিপোর্ট অনুযায়ী ই-গবর্নমেন্টে প্রথম স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, দ্বিতীয় তাইওয়ান, তৃতীয় সিঙ্গাপুর এবং চতুর্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আগে দক্ষিণ কোরিয়ার স্থান ছিল ৮৬তম। তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে ৮৬ নম্বরে। আগে বাংলাদেশ ছিল ১১৫ তে।

তারপরই বিশাল অর্জন ফ্রিল্যান্সিংয়ে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পড়ালেখা শেষ করে পূর্ণকালীন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে অনেকেই আত্মপ্রকাশ করছেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ের সবচেয়ে ভাল দিক হচ্ছে পড়ালেখা শেষ করে একটা চাকরির জন্য বসে থাকতে হয় না।

ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে স্বল্প পুঁজিতে অনায়াসে একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো যায়। এ জন্য দরকার কয়েকটি কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ এবং আইটিতে দক্ষ জনবল, যা প্রতিবছরই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হচ্ছে।

দক্ষতার দিক থেকে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সাররা অন্যান্য দেশ থেকে খুব একটা পিছিয়ে নেই। জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস ওডেস্কের এক জরিপে দেখা যায় অনলাইন কর্মীদের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান অহঙ্কার করার মতো। বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সাররা মূলত ওডেস্ক, গেট-এ-ফ্রিল্যান্সার এবং রেন্ট-এ- কোডার এই তিনটি মার্কেটপ্লেসে বেশি কাজ করে থাকেন। এসব সাইটে বাংলাদেশীদের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন কয়েকজন ফ্রিল্যান্সার।

ওডেস্কে অনেকে ২৩টি কাজ করছেন যা থেকে প্রায় ২৩ হাজার ডলার আয় হয়। এ তালিকার নারী ফ্রিল্যান্সারও রয়েছেন। তিনি মূলত ডাটা এন্ট্রি নির্ভর কাজ করে থাকেন। তিনি এ পর্যন্ত ১৭ শ’ ঘণ্টার ওপর কাজ করে পাঁচ হাজার ডলারের ওপর আয় করেছেন।

প্রথম কাজ পেতে কত সময় লাগতে পারে তা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কাজে দক্ষতা, ইংরেজীতে সাবলীলভাবে যোগাযোগের বৈশিষ্ট্য এবং কোন ধরনের প্রজেক্টে বিড করছেন তার ওপর। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় এক মাসের মধ্যেই প্রথম কাজ পাওয়া যায়। অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সাররা একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। আমাদের দেশে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে মানিবকার্স এবং পেওনার ডেবিট মাস্টারকার্ড। দেখা যায় বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সাররা ২০ থেকে ৫০ ডলারের কাজের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। কয়েকজন আবার প্রথম প্রজেক্টে ২ থেকে ৪শ’ ডলার পেয়েছিলেন। বৈষম্যহীন সামাজ গড়তে ডিজিটাল বাংলাদেশ যেমন সত্যি তেমনি প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার অর্থনৈতিক মুক্তিতে রাখবে অবদান।

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৯

২৬/০৩/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

স্বাধীনতা দিবস বিশেষ আয়োজন ২০১৯



শীর্ষ সংবাদ: