১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দুষণের কারণে ঢাকার চারপাশের দীগুলো মারাত্মক হুমকির মুখে: পানিসম্পদমন্ত্রী


সংসদ রিপোর্টার ॥ দুষণের কারণে বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীগুলো মারাত্মক হুমকির মুখে। যা আমাদের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এ কথা জানান।

সরকারী দলের সদস্য বেগম পিনু খানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, বিগত কয়েক দশকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এসব নদীর পানি শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত তরল বর্জ্য, বিষাক্ত রাসায়নিক এবং মানব বর্জ্যে দূষিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল পরিবর্তন ও অব্যাহত পলি পড়ার কারণে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদীর ধারণ ক্ষমতা কমেছে। যমুনা নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া এই নদীর প্রবাহ শুস্ক মৌসুমে আরো কমে যায়।

একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পানি দূষণ ও অব্যাহত পলি পড়া বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঢাকার চারপাশের নদ-নদীগুলোতে ড্রেজিং শুরু হয়েছে। এছাড়া নদীতে পানি প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রায় সাড়ে ৯ শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

সরকারী দলের সদস্য জাহান আরা বেগম সুরমার প্রশ্নের জবাবে পানি সম্পদ মন্ত্রী সংসদে জানান, দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিগত সাত বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এসব প্রকল্পের আওতায় নদী ভাঙ্গন রোধে ৩১০ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য বেগম ওয়াশিকা আয়শা খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানান, চট্টগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কর্ণফুলী, হালদা, সাঙ্গু, মাইনী, চেঙ্গী ও ইছামতি নদী পার্বত্য এলাকা হতে উৎপত্তি হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। নদীগুলো দীর্ঘ পাহাড়ী পথ অতিক্রম করে প্রবাহিত হওয়ার ফলে প্রতি বছর বর্ষাকালে পাহাড়ী ঢলে প্রচুর পরিমাণে পলি নিয়ে আসে, ফলে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে নদীতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তাই এসব নদীগুলো ড্রেজিং করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: