মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৭ আগস্ট ২০১৭, ২ ভাদ্র ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

৬ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে অলস অর্থের পরিমাণ ৫২ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৬
  • অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ এক বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে অলস অর্থের পরিমাণ দেড় গুণ বেড়ে আড়াই গুণে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পুঞ্জীভূত খেলাপী ঋণ ও মূলধন ঘাটতি। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ‘ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম ২০১৫-১৬’-এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০১৬ সালের মার্চ শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬টি (সোনালী, জনতা, রূপালী, বেসিক, অগ্রণী ও বিডিবিএল) বাণিজ্যিক ব্যাংকে অলস অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোতে অলস অর্থের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে অলস অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ৩১ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় দেড় গুণ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি অলস অর্থ রয়েছে সোনালী ব্যাংকে। এ ব্যাংকে অলস অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ২৭ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। এর পরেই রয়েছে জনতা ব্যাংক। এ ব্যাংকে অলস অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ১৫ হাজার ৫৭০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অন্যান্যের মধ্যে রূপালী ব্যাংকে ৫ হাজার ১৬৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংকে ৩ হাজার ৪৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা, অগ্রণী ব্যাংকে ১ হাজার ১১৬ কোটি টাকা ও বিডিবিএল ব্যাংকে অলস অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২,৭৩৫ টাকা ॥ চলতি ২০১৬ সালের মার্চ শেষে ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের পুঞ্জীভূত খেলাপী ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৭২ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের মার্চ শেষে আলোচ্য ব্যাংকগুলোতে খেলাপী ঋণের পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে বেসিক ব্যাংক ছাড়া অন্য পাঁচটি ব্যাংকেই খেলাপী ঋণ বেড়েছে। এর মধ্যে জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকে খেলাপী ঋণ বেড়েছে বেশি। অন্যদিকে বেসিক ব্যাংকে খেলাপী ঋণ কমলেও পরিমাণের দিক থেকে এখনও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি খেলাপী ঋণ রয়েছে সোনালী ব্যাংকে। এ ব্যাংকের ব্যাংকের খেলাপী ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার কোটি টাকা (গত বছর একই সময়ে ছিল ৭ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা)। শতকরা হিসেবে ব্যাংকটিতে খেলাপী ঋণের পরিমাণ হচ্ছে মোট বিতরণকৃত ঋণের ২৩ দশমিক ১ শতাংশ।

খেলাপী ঋণের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বেসিক ব্যাংক। এ ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের অর্ধেকেরও বেশি খেলাপী। বেসিক ব্যাংকের খেলাপী ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৬ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। শতকরা হিসেবে এটা ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে ব্যাংকটির খেলাপী ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৭১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা (শতকরা হিসেবে ৫৭ শতাংশ)। অর্থাৎ এক বছরে ব্যাংকটিতে খেলাপী ঋণ কিছুটা কমেছে।

অন্যান্যের মধ্যে জনতা ব্যাংকের খেলাপী ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৫ হাজার ৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকা (গত বছর একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা), অগ্রণী ব্যাংকের ৪ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা (গত বছর একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা), রূপালী ব্যাংকের ১ হাজার ৫৮১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা (গত বছর একই সময়ে ছিল ১ হাজার ১৯০ কোটি টাকা) ও বিডিবিএল ব্যাংকের খেলাপী ঋণের পরিমাণ ৭৩৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা (গত বছর একই সময়ে ছিল ৪২৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা)। শতকরা হিসাবে এ ব্যাংকে খেলাপী ঋণের হার ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ।

মূলধন ঘাটতি বেড়েছে ৭৫৯ কোটি টাকা ॥ চলতি ২০১৬ সালের মার্চ শেষে অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬টি (সোনালী, জনতা, রূপালী, অগ্রণী, বেসিক ও বিডিবিএল) ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি বেড়েছে ৭৫৯ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি কমেছে এবং জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে গত ডিসেম্বরে (২০১৫) ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাওয়ার পরও বেসিক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি প্রায় ছয় গুণ বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০১৬ সালের মার্চ শেষে সোনালী ব্যাংকের ২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা (গত বছর একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা), বেসিক ব্যাংকের ১ হাজার ৪১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা (গত বছর একই সময়ে ছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা), জনতা ব্যাংকের ১ হাজার ৮৬ কোটি টাকা (অপরিবর্তিত), বিডিবিএল ব্যাংকের ৬০০ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ৪২৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা (অপরিবর্তিত) ও রূপালী ব্যাংকের ১৬০ কোটি টাকা (গত বছর একই সময়ে ছিল ৪৯১ কোটি ৩০ লাখ টাকা) মূলধন ঘাটতি রয়েছে।

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৬

২৭/০৬/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অর্থ বাণিজ্য



শীর্ষ সংবাদ: