মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ আগস্ট ২০১৭, ৭ ভাদ্র ১৪২৪, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

অসিদের ঘাম ঝরিয়ে ছাড়ল টাইগাররা

প্রকাশিত : ২২ মার্চ ২০১৬
  • বাংলাদেশ ৩ উইকেটে পরাজিত

মোঃ মামুন রশীদ ॥ ব্যাঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের দিকেই সবার দৃষ্টি। টি২০ বিশ্বকাপের একমাত্র ম্যাচ সোমবার। সুপার টেনের গ্রুপ দুইয়ের বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। দু’দল পরাজয় দিয়ে শুরু করায় এ ম্যাচে হারলেই সেমিফাইনালে ওঠার পথ কঠিন হয়ে যাবে। এমন ম্যাচে বাংলাদেশ দল দুই ক্রিকেটারের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আর তামিম ইকবালের অসুস্থতায় অচেনা এক একাদশে পরিণত হয়। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ কেমন করে সেটাও দেখার জন্য উন্মুখ হয়েছিল ক্রিকেট বিশ্ব। এমন ম্যাচেও দারুণ লড়াই করে শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে হেরে গেছে টাইগারারা। টস হেরে আগে ব্যাট করে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অপরাজিত ৪৯ এবং সাকিব আল হাসানের ৩৩ রানে ৫ উইকেটে ১৫৬ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ গড়ে টাইগাররা। জবাবে উসমান খাজার অর্ধশতকের পরও সাকিব ও মুস্তাফিজুর রহমানের দারুণ বোলিংয়ে ১৮.৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৭ রান তুলে জয় পায় অসিরা। এর সঙ্গে দুটি সহজ ক্যাচ মিস এবং ফিল্ডিং মিসটাও পরাজয় ডেকে আনে। তাই বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা আফসোসই করেছেন ম্যাচ শেষে, হয়ত পূর্ণ শক্তি নিয়ে নামতে পারলে গৌরবের জয়টা পাওয়াই যেত!

একাদশ দেয়ার পর চেনাই যাচ্ছিল না। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অচেনা দল দেখে এটিকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সারির দল হিসেবেও অভিহিত করলেন। নির্ভরযোগ্য পেসার তাসিকন আহমেদ ও স্পিনার আরাফাত সানি ত্রুটিযুক্ত এ্যাকশনের কারণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা পাওয়াতে দলে নেই। আর জ্বর ও পেটের সমস্যায় ভোগার কারণে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নির্ভরযোগ্য ওপেনার তামিম ইকবালও নেই! মানসিকভাবেই অনেকখানি পিছিয়ে থাকল বাংলাদেশ ম্যাচ শুরুর আগেই। স্বপ্নের বিশ্বকাপে বাঁহাতি অর্থোডক্স সাকলাইন সজীবের অভিষেক হওয়ার রাস্তা খুলে গেল, এমনকি প্রথমবার বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেন শুভাগত হোম চৌধুরীও। ইনজুরি কাটিয়ে বাংলাদেশ দলের সুসংবাদ হয়ে একাদশে ফিরলেন ‘কাটার’ মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান।

এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আগের ম্যাচগুলোয় ফ্ল্যাট উইকেট দেখা গেলেও এদিন তেমনটা দেখা যায়নি। উভয় দল প্রথম ম্যাচ হারের কারণে গ্রুপ-২ এ কিছুটা চাপের মুখেই মুখোমুখি হয়। হারলেই সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন অনেকখানি ম্লান হয়ে যাবে। এর মধ্যে আবার টস হারলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। শুরু থেকেই বাংলাদেশ দলের ওপর হামলে পড়লেন পেস অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন। আগের মতোই এদিনও ব্যর্থ হলেন সৌম্য সরকার (১), ফিরে গেলেন দ্বিতীয় ওভারে এবং দলীয় ২৫ রানের মাথায় ইনফর্ম সাব্বির রহমানকেও (১৭ বলে ১২) তুলে নিলেন ওয়াটসন। এর পরও পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে ৩৩ রান, খারাপ হয়নি বাংলাদেশের শুরুটা। একপ্রান্তে মোহাম্মদ মিঠুন ওপেনিং করতে নেমে বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই খেলছিলেন। তিনিও সাজঘরে ফেরেন ২২ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় ২৩ রান করে। কোন জুটি বড় হয়নি। আগের ম্যাচে রানে ফেরা সাকিব আল হাসান এদিনও দুর্দান্ত ব্যাটিং করছিলেন। সাকিব ৩ চার ও ১ ছক্কা হাঁকিয়ে ২৫ বলে ৩৩ রানের কার্যকরী একটি ইনিংস খেলেন।

চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের ভিত হয়ে গেছে ততক্ষণে। এর পর মাহমুদুল্লাহ এসে ঝড় তোলেন। ১৮তম ওভারে ১৫, ১৯তম ওভারে ১৭ এবং শেষ ওভারে ১২ রান তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ভাল একটি সংগ্রহ গড়ার পথ করে দেন মাহমুদুল্লাহ। তিনি ২৯ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ ৫ ওভারে ৫৬ রান তোলে বাংলাদেশ মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে। মুশফিকুর রহীমের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ৫১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তিনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫৬ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এটি টাইগারদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। জামপা ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন।

বোলাররা শুরু থেকেই তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। জবাব দিতে নেমে দুই অসি ওপেনার উসমান খাজা ও শেন ওয়াটসন পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই ৫৩ রান তুলে নেন। মুস্তাফিজের করা ষষ্ঠ ওভারে শেষ বলে মিডউইকেটে ওয়াটসনের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন মিঠুন। পরে ওয়াটসন ২১ করে যখন রানআউট হন ততক্ষণে ৬২ রানের জুটি গড়ে জয়ের ভিত পেয়ে গেছে অসিরা। খাজা ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন। এর মধ্যেই মুস্তাফিজ ফিরতি স্পেলে ফিরে সরাসরি বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন অসি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথকে (১৪)। দুই ওভার পরেই আল আমিন হোসেন ফিরে বোল্ড করে দেন খাজাকে। তিনি ৪৫ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫৮ রান করেছিলেন। অভিষেক হওয়া সাকলায়েন ভাল করতে পারেননি। প্রথম স্পেলের ২ ওভারেই ২১ রান দেন। তিনি আর নিজেকে ফিরে না পেলেও ফিরতি স্পেলে সাকিব এসেই তুলে নেন ডেভিড ওয়ার্নারকে (১৭)। নিজেদের কিছুটা ফিরে পায় বাংলাদেশ। তখনও জয় পেতে ৩০ বলে ৩৬ রান দরকার অসিদের। সাকিব ফিরতি স্পেলে দুর্দান্ত বোলিং করে তুলে নেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও জন হ্যাসটিংগকে। তবে আল আমিনের সহজ ক্যাচ মিসে ম্যাক্সওয়েল ১৫ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ২৬ রান করে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত অসিরা ১৮.৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৭ রান তুলে জয় ছিনিয়ে নেয়। সাকিব ২৭ রানে ৩ ও মুস্তাফিজ ৩০ রানে ২ উইকেট নেন।

প্রকাশিত : ২২ মার্চ ২০১৬

২২/০৩/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: