মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বিশ্ববাজারে কমলেও দেশে বেড়েছে সব পণ্যের দাম

প্রকাশিত : ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
  • মূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বিশ্ববাজারে ক্রমান্বয়ে কমছে খাদ্যপণ্যের দাম। ২০১৫ সালের ফুড এ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও) অব দ্য ইউনাইটেড ন্যাশনসের প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশিরভাগ সময় নিম্নমুখী ছিল বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে ২০১৬ সালেও। চলতি বছরের প্রথম মাসে বিশ্ববাজারের মূল্যসূচক কমেছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

তবে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম কমলেও সম্প্রতি বাংলাদেশে সব ধরনের আমদানিকৃত পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে চিনি ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম গত চার মাস ধরে বিশ্ববাজারে কমলেও সম্প্রতি বাংলাদেশে এই পণ্যগুলোর দাম বেড়ে গেছে। মূলত নতুন পে স্কেল কার্যকরের পর থেকে সব পণ্যের দামই বেড়ে গেছে। কেবল কমেছে ভোজ্য তেলের দাম। রসুন, চিনি ও ডালের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যর্থ হচ্ছে পণ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে।

প্রতিমাসের মতো প্রধান পাঁচটি খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক প্রণয়ন করেছে এফএও। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে চাল, গম ও ভুট্টাসহ দানাদার শষ্য, তেল, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, মাংস ও চিনি। এর প্রতিটির জন্য রয়েছে সাব- সেক্টর ইন্ডেক্স বা উপ-খাত ভিত্তিক মূল্যসূচক। জাতিসংঘের ওই সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০১৬ সালে জানুয়ারিতে মূল্যসূচক ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে ১৫০ দশমিক ৪ পয়েন্ট হয়েছে। গত ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের তুলনায় ১৬ শতাংশ কম এটি। ফলে ২০০৯ সালের পর সবচেয়ে নিচে নেমেছে বিশ্ববাজারের মূল্যসূচক।

প্রধান পাঁচটি খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে এগুলোর যোগান বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছে এফএও। ওই সংস্থার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কম খরচে বেশি পণ্য উৎপাদন এবং পণ্যগুলো যোগান বৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে এর দর পতন হয়েছে।

এফএও এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে দর পতনের তালিকায় শীর্ষে আছে চিনি এবং দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য। গত ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে চিনি মূল্যসূচক ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।

গত ৪ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো চিনির দাম কমেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্রাজিলে চিনির উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে বিশ্বেব্যাপী এই পণ্যের সরবরাহ অনেক বেড়েছে। ফলে কমেছে এর দাম। এফএও জানিয়েছে, সর্বোচ্চ পরিমাণ সরবরাহের কারণে বড় দর পতন হয়েছে দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে। এই পণ্যের মূল্যসূচক কমেছে ৩ শতাংশ। এছাড়া চাল, গম ও ভুট্টাসহ দানাদার শষ্য এবং ভোজ্য তেলের মূল্যসূচক কমেছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ করে। একইসঙ্গে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় গতমাসে মাংসের মূল্যসূচক ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।

প্রকাশিত : ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

০৭/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: