২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জুলুম করে লোনা পানিতে চিংড়ি চাষের দিন শেষ ॥ ডেপুটি স্পীকার


সংসদ রিপোর্টার ॥ বর্তমান সরকারের কঠোর নীতিমালার কারণে পরিবেশের ক্ষতি করে চিংড়ি চাষ বন্ধ করা হয়েছে। এখন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে স্থানীয় জনগণের মতামতকে। এক সময়ে জোর-জুলুম করে লোনা পানিতে চিংড়ি চাষের দিন আর নেই। এখন লোনা পানির পরিবর্তে স্বাদু পানিতে চিংড়ি চাষের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত দক্ষিণাঞ্চলের লোনা পানি অধ্যুষিত এলাকার মানুষের লড়াই সংগ্রাম ও জীবন কাহিনী নিয়ে লেখা ‘লোনা পানির শোষণ সন্ত্রাস’ নামের দৃশ্যকাব্যের (নাটক) মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া। চিংড়ি চাষকে ঘিরে স্থানীয় জনগণের মতামতকে সরকার এখন গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

সাংবাদিক রাহুল রাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। সাংবাদিক নিখিল ভদ্রের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির, কথা সাহিত্যিক অধ্যক্ষ তৌহিদুর রহমান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ বিরোধী আন্দোলনের নেতা মোঃ রশিদুজ্জামান, বইয়ের লেখক রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস ও কবি সাকিরা পারভীন।

অনুষ্ঠানে লোনা পানি থেকে স্বাদু পানিতে চিংড়ি চাষকে রূপান্তর করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ডেপুটি স্পীকার বলেন, এখন বিদেশে লোনা পানির চিংড়ি থেকে স্বাদু পানির চিংড়ির চাহিদা বেশি। আর স্বাদু পানিতে চিংড়ি চাষের পাশাপাশি একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণায়লয়কে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষকে কেন্দ্র করে হত্যা-নির্যাতন-নিপীড়ন ও শোষণের চিত্র এই বইটিতে ফুটে উঠেছে, যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে চলতে পারে না। কারণ চিংড়িঘের কেন্দ্র করে শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় সেসব ঘটনা ঘটেছে। একজন আইনজীবী হিসেবে অনেক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে আদালতে লড়েছি। তবে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে নিপীড়িত ওই অঞ্চলের মানুষের শোষণমুক্ত ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিশেষ অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, চিংড়ি চাষের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এখন হাজার হাজার একর লোনা পানিতে চিংড়ি চাষের সুযোগ নেই। চিংড়িঘের সর্বোচ্চ ৩৩ একর হতে পারবে। জনবহুল এলাকায় চিংড়ি চাষ করা যাবে না। চিংড়িঘের করার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত বেশি গুরুত্ব পাবে। তিনি বলেন, পরিবেশের ক্ষতি করে এখন চিংড়ি চাষের সুযোগ নেই। যে কোন চাষের ক্ষেত্রে পরিবেশকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। লোনা পানির চিংড়ি চাষের পাশাপাশি সরকার স্বাদু পানিতে চিংড়ি চাষকে উৎসাহিত করছে। সরকারের এই উদ্যোগে সকলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।