২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পাঁচ বছরে ৮০ হাজার কোটি টাকা দেবে এডিবি


হামিদ-উজ জামান মামুন ॥ আগামী পাঁচ বছরে (২০১৬-২০ পর্যন্ত ) বাংলাদেশে বড় অঙ্কের সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এর পরিমাণ হতে পারে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা (১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। প্রতিবছর ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ ১৬ হাজার কোটি টাকা করে এই অর্থ পাওয়া যাবে। গত ৫ বছরের তুলনায় আগামী ৫ বছরে সহায়তার পরিমাণ দিগুণেরও বেশি হচ্ছে। কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্রাটেজির আওতায় এ সহায়তা দেয়া হবে এডিবি। এ বিষয়ে আগামী ২০ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে বসছে সংস্থাটি।

এডিবি সূত্র জানায়, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে চায় বাংলাদেশ। এ জন্য সরকার মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রতিবছর গড়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ঠিক করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ২০২০ সালের মধ্যে বিনিয়োগের হার জিডিপির ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করতে হবে, যা বর্তমানে জিডিপির ২৯ শতাংশ। এ সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বিদেশী সহায়তা লাগবে, যা সরকার বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে। সে অনুযায়ী এডিবি এই স্ট্রাটেজি তৈরি করেছে।

তবে এখনও কত টাকা সহায়তা দেয়া হবে সে বিষয়টি চূড়ান্ত কিছু হয়নি বলে জানিয়েছেন এডিবির ঢাকা মিশনের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বার। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, বিষয়টি এখনও পরামর্শ পর্যায়েই রয়েছে। শুধু সরকার নয়, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারী খাত এবং বিভিন্ন পর্যায়ের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে এটি চূড়ান্ত করা হবে। সুতরাং এখনই কিছু বলার মতো হয়নি।

আগামী ৫ বছরে অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় বেশি সহায়তার বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে যেতে চাচ্ছে। এ জন্য অবকাঠামো উন্নয়নসহ ব্যাপক কর্মযজ্ঞ করতে হবে সরকারকে। তাই প্রচুর বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

চাহিদা পূরণে উন্নয়নসহযোগীদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তাছাড়া এডিবি বাংলাদেশের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেয়ার সহায়তার পরিমাণ বাড়াচ্ছে। তিনি জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) বৈঠক। সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ৫ বছরের অর্থনৈতিক রীপরেখা হিসেবে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়নসহযোগীরা তাদের ঋণ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এর আগে ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে এডিবির সহায়তা প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল মোট ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ম মার্কিন ডলার। এর মধ্যে সহজ শর্তের ঋণ ছিল অর্ধেক এবং বাকি অর্ধেক ছিল কঠিন শর্তের ঋণ। তার আগের পাঁচ বছর অর্থাৎ ২০০৬ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এডিবি সহায়তা দিয়েছিল মোট ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ওসিআর (সহজ শর্তের) ঋণ ছিল ২ বিলিয়ন এবং এডিএফ (কিছুটা কঠিন শর্তের) ঋণ ছিল ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সূত্র জানায়, সদস্যপদ লাভ করার পর থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে মোট ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এছাড়া ৩৭৩টি প্রকল্পের বিপরীতে কারিগরি সহায়তা মঞ্জুরি হিসেবে ২০ কোটি ৮৩ লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছে সংস্থাটি। ১৯৭৩ সালে এডিবির সদস্যপদ পায় বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা। এশীয় উন্নয়ন তহবিল থেকে রেয়াতি সুবিধায় সর্বাধিক ঋণ গ্রহণকারী দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে এডিবি প্রধানত ৬টি খাতকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে বিদ্যুত ও জ্বালানি, নগর উন্নয়ন, পরিবহন, শিক্ষা, কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ফাইন্যান্স। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, এডিবি বাংলাদেশকে দুই ধরনের আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। তা হচ্ছে একটি ঋণ ও অপরটি অনুদান। ঋণের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সাধারণত দুই ধরনের ঋণ নিয়ে থাকে। এর একটি হচ্ছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (এডিএফ) ঋণ ও অন্যটি অর্ডিনারি ক্যাপিটাল রিসোর্সেস (ওসিআর) ঋণ।

এডিএফ ঋণটি সহজ শর্তে যা ৪ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩২ বছরে পরিশোধযোগ্য। গ্রেস পিরিয়ডে সুদের হার এক শতাংশ এবং পরবর্তীতে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে ওসিআর ঋণ কিছুটা কঠিন শর্তের। এ ঋণ ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে পরিশোধযোগ্য। ওসিআর ঋণের সুদ লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফার্ড রেট (লাইবর) ভিত্তিক। এ ঋণের বর্তমান সুদের হার লাইবোর প্লাস শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ।