২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ২ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

লৌহজংয়ে বৃষ্টিতে পদ্মার ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েছে


লৌহজংয়ে বৃষ্টিতে পদ্মার ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েছে

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ॥ তবে কি রাক্ষুসি পদ্মা আমাকে ছাড়বেনা? এই প্রশ্ন এখন লৌহজংয়ের খড়িয়া গ্রামের হেনা বেগমের। ৪০ বছরের সংগ্রামী এই নারী দু’ শিশু ও অসুস্থ স্বাসীকে নিয়ে দিশেহারা। বাড়ির পাশেই রাক্ষুসি পদ্মা যমফপণ। মাত্র ২০ গজ দূর হতে পদ্মায় রাহুল গ্রাস তার বাড়িটিকে কেড়ে নিতে এগিয়ে আসছে। পদ্মার পারে বসে এখন অনেক ভাবনাই জেনো তাকে বিপাকে ফেলেছে । ভিটেমাটি বলতে ওই একখন্ড বাড়িই শেষ সম্বল। এইটুকু কেড়ে নিলে কোথায় যাবেন তিনি। মাথা গ্ােজার মত কোন ঠাইতো নেই। আর ঘরিটি ভেঙ্গে কোথায় রাখবেন সেই স্থানটিও খুঁজে পাচ্ছেন না। আর ঘর ভেঙ্গে নেয়ার টাকাও নেই। তার আশপাশের ঘরও ভেঙ্গে সরিয়ে নিয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এই নারীর চোখেন জল দেখলে কেউই তা সংবরন করতে পারবে না। এখন পদ্মার ভাঙনের হুমকিতে ঘুম হারাম হয়ে গেছে এখানকার বহু পরিবারের। বৃষ্টির কারণে কষ্ট আরও বেড়েছে।

ভাঙ্গনের মুখে থাকা আশি বছরের সাহাবুদ্দিুনের কষ্ট একই রকম। তার বাড়িটি একবারে থাবার মুখে। এদিকে পদ্মার গ্রাসে বাড়ি হারিয়ে ভিটেমাটি ছাড়া হয়েছেন মো. করিম শেখের ছেলে মো. শাহীন (৪৩)। ১৯ বন্দরের ঘরসহ ইতোমধ্যে তাঁর দুটি ঘর পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। তিন ভাই আর স্ত্রী সন্ত্রানদের নিয়ে তিনি এখন আশ্রয় নিয়েছেন পাশের রাস্তার উপর। মৃত ছবদর সিকদারের ছেলে ছামাদ সিকদার (৫০) তার বিশাল গরুর খামারসহ বাড়ি ঘর ইতিমধ্যে কেড়ে নিয়েছে রাক্ষুসি পদ্মা। তিনি এখন আশ্রয় নিয়েছেন পার্শ্ববর্তী হলদিয়া গ্রামে। ভাড়া বাড়িতে উঠেছেন। গরুর খামার থেকে প্রতিদিন প্রাপ্ত দুধ বিক্রি করেই তিনি তার ১৩ সদস্যের পরিবারের সংসার চালাতেন। এখন তিনি গরুগুলো নিয়ে ভাড়া বাড়িতে উঠলেও গরুকে ঠিক মত খাবার দিতে না পারায় গরু থেকে প্রয়োজনীয় দুধও সংগ্রহ করতে পারছেনা। এরই মধ্যে এক গরু বাচ্চা দিয়েছে তা নিয়েও নানা বিড়ম্বনা। এমনি অবস্থা বাদল শেখ আর ওবায়দুর রহমানের মত বহু পরিবারের। গত এক সপ্তাহের পদ্মার ভাঙনে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খড়িয়া গ্রামের শতশত পরিবার এখন নিদ্রাহীন জীবন যাপন করছে। গৃহহারা হয়েছে অনেকেই।

সরজমিনে খড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সোমবার বৃষ্টির কারণে ভাঙ্গন কবলিত মানুষের কষ্ট বেড়েছে। বেড়েছে ভাঙ্গনের তীব্রতা। একর পর এক জনপদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পিচ ঢালা রাস্তা, গাছ পালা বাড়িঘর সবই গিলছে পদ্মা। সাজানো গোছানো বাড়ি ঘরগুলো ক্ষক বিক্ষক। ভাঙন কবলিত মানুষগুলোর করুন দশা। কেউবা দ্রুত সড়িয়ে নিচ্ছেন বাড়ির ঘর। কেউবা কাটছেন গাছগাছালি। আবার কেউবা ব্যাস্ত নিজের কোলের সন্তানকে নাকে মুখে কোন রকম এখটু খাবার গুজে দিতে। এলাকাটি দেখলেই মনে হয় কি যেনো ঘটে গেছে এখানে। কারো মুখে কোন হাসি নেই। যেনো যুদ্ধ বিদ্ধস্ত কোন এলাকা। কারো বাড়িতে পড়ে আছে এলোমেলো ইট-পাথর আর কাঠ-কাঠালি। কেউ আবার ঘর ভেঙে তুলছেন ট্রলারে। আবার কেউবা ট্রলি বা ভ্যানে করে রাড়ির আসবাবপত্র সড়িয়ে নিচ্ছে। এক মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। লৌহজংয়ের ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, জেলার দু’জন এডিসি এবং জেলা ত্রান কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগন দিনভর দূর্গত এলাকায় কাজ করেছেন। মানুষের কষ্ট নির্বারনে এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও এগিয়ে এসছেন। সরকারি সাহায্য ছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অনুরোধে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ওসমান গনি তালুকদার এবং উপজেলা আওযামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ শিকার ও কুমারভোগ ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান তালুকদার নোঙ্গরখানা খুলেছনে। সেখানে দূর্গত শতশত মানুষকে তৈরী খাবার দেয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কুদ্দুস আলী সরকার জানান, দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারের পক্ষে সবরক চেষ্টা চলছে।

সরকারিভাবে খড়িয়া গ্রামের ৮৮ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। পরিবার প্রতি ৫ হাজার করে টাকা বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।