২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঈদের আগে ব্যাংকগুলোতে উপচেপড়া ভিড়


রহিম শেখ ॥ নতুন জামা, পাঞ্জাবি আর জুতোর সঙ্গে ঈদের আনন্দের বাড়তি যোগান দেয় নতুন টাকা। হাতে নতুন কচকচে টাকা থাকলে ছোটদের ঈদের আনন্দ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। শুধু ছোটরা নয় নতুন টাকা থাকলে বড়দেরও মন ভাল থাকে। ঈদ সালামি হিসেবে ছোট-বড় সবার কাছেই এক অন্যরকম আবেদন সৃষ্টি করে নতুন টাকা। এজন্য ঈদ এলেই কদর বাড়ে নতুন টাকার। দীর্ঘলাইন দিয়ে নতুন টাকার নোট নিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। আসন্ন ঈদের পথযাত্রায় যেমন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে একটি টিকিট পেতে হয়েছে, তেমন ব্যাংকে গিয়ে একইভাবে দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে নতুন টাকার নোট নিতে হচ্ছে। এদিকে ঈদকে সামনে রেখে ব্যাংকগুলোতে টাকা তোলা ও জমা দেয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে গ্রাহকদের। আজ বুধবার সরকারী ছুটি থাকলেও বাংলাদেশ নতুন টাকা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার খোলা থাকবে বলে জানা গেছে।

ঈদে নতুন টাকা সরবরাহ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছরই ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত এক মাস ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের কাউন্টারে নতুন টাকার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছেন অনেকে। ঈদ যতই এগিয়ে আসছে ব্যাংকের কাউন্টারে বাড়ছে দীর্ঘ লাইন। নতুন টাকার চাহিদা বাড়ায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী নতুন টাকা বিকিকিনির দোকান। টাকার পসরা সাজিয়ে বিক্রেতারা বসে আছেন। ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে যারা সময় নষ্ট করতে চান না অথবা অফিস সময়ের পরে ঝামেলামুক্তভাবে নতুন টাকা নিতে চান মূলত তারাই এসব অস্থায়ী দোকানের ক্রেতা। তবে সেক্ষেত্রে বান্ডিল (১০০ পিস নোট) প্রতি নোট ভেদে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। অস্থায়ী বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নতুন নোটের চাহিদা বেশি। এছাড়া এক ও দুই টাকার কয়েন এবং ১০০, ৫০০ ও এক হাজার টাকার নোটের চাহিদাও বেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনের অস্থায়ী নতুন টাকা বিক্রেতাদের কাছ থেকে মঙ্গলবার দুই হাজার ৬০ টাকা দিয়ে ২০ টাকার এক বান্ডিল টাকা কিনেছেন রামপুরার বাসিন্দা আরাফাত সিদ্দিক। বেসরকারী একটি কোম্পানিতে চাকরিরত এ ক্রেতা জানালেন, কয়েকদিন পরে বাড়ি যাব। বাড়িতে ছোট ভাই বোন ও প্রতিবেশিদের জন্য নতুন টাকার প্রয়োজন হবে এজন্য নতুন টাকা কিনলাম। ব্যাংকের লাইনে দাঁড়ানোর মতো সময় না থাকায় অফিসের কাজে এ এলাকায় আসায় কিছু নতুন টাকা কিনে নিলাম। পকেটে আরও টাকা থাকলে আরও কয়েক বান্ডিল কিনতেন বলেও জানান তিনি। ঈদে নতুন টাকার আবেদন সম্পর্কে কলেজ শিক্ষিকা কাজী বর্ণালী বলেন, ঈদে নতুন টাকার আবেদন ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এটি অন্যরকম অনুভূতি। যখন ছোট ছিলাম তখন মা-বাবা, চাচা-মামাদের কাছ থেকে নতুন নোট উপহার পেতাম। এখন ছেলেমেয়ে, ভাই-বোনসহ অন্য আত্মীয়-স্বজনকে টাকা দিয়ে থাকি। ছোটরা অন্যান্য উপহারের, চেয়ে ঈদের দিন নতুন টাকা পেতেই বেশি পছন্দ করে। ঈদে নতুন টাকার আবেদন ও কদর সবটাই অনেক বেশি। তাই যে করেই হোক নতুন নোট ঈদে চা-ই চাই।

জানা গেছে, এবারের ঈদে ২২ হাজার কোটি টাকা বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি টাকাই নতুন নোট। নতুন টাকা যাতে সাধারণ মানুষ সহজে পেতে পারেন সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও শাখা অফিসগুলোতে কাউন্টার খোলা হয়েছে। ২ জুলাই থেকে এসব কাউন্টারে টাকা দেয়া শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন উৎসব বিশেষ করে ঈদের সময় নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে যায়। তাই এ সময় বাজারে নতুন নোট ছাড়া হয়। আর এ সুযোগ নিয়ে মুদ্রা বিনিময়কারীসহ বিভিন্ন দালাল চক্র নতুন নোটের ব্যবসা করতে চায়। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা স্বজনদের নতুন টাকার চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে তারাও ক্যাশ কাউন্টারে ভিড় করতে পারে। এ কারণে আমরা ক্যাশ কাউন্টারে তাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ গ্রাহকরা কোন ধরনের হয়রানি ছাড়াই যেন নতুন টাকা পেতে পারেন এজন্য ক্যাশ কাউন্টারে প্রবেশাধিকারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সাংবাদিকসহ অন্যান্য পেশাজীবীদের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আগামী সপ্তাহে পৃথক একটি কাউন্টার চালু করা হবে বলে তিনি জানান। নতুন টাকার চাহিদা বেশি থাকলে পরিকল্পনার চেয়ে বেশিও টাকা ছাড়া হবে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীতে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রয়োজনীয় লেনদেনের পাশাপাশি নতুন টাকার জন্যও ভিড় করতে দেখা গেছে গ্রাহকদেরকে। মতিঝিল ও দিলকুশা এলাকার ব্যাংকের শাখাগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, টাকা তুলতে ব্যাংকের কাউন্টারে সামনে দীর্ঘ লাইন। সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসের জেনারেল ম্যানেজার ফনীন্দ্র ত্রিবেদী বলেন, প্রতিবারের তুলনায় এবারও ঈদ উপলক্ষে লেনদেন বেড়ে গেছে। ছুটির কারণে অনেক গ্রাহক নগদ টাকা তুলে রাখছেন। এর ফলে ব্যাংক থেকে প্রচুর টাকা উত্তোলন হয়েছে। তাই লেনদেন হয়েছে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি। এবার গ্রাহকদের সুবিধার্থে তিনটি অতিরিক্ত ক্যাশ কাউন্টার খোলা হয়েছে। তারপরও গ্রাহকদের সামলাতে কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে নিষ্পত্তি করছি। তবে এবার টাকার সমস্যা নেই। গ্রাহকের চাহিদা মতো পরিশোধ করা হচ্ছে। এদিকে রাজধানীর অনেক শাখায় যানজটের কারণে টাকা পাঠাতে সমস্যা হচ্ছে। তাই সময়ের আগেই টাকা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এবার নতুন টাকার চাহিদা অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি। সব গ্রাহকই নতুন টাকা চায়। সবাইকে টাকা দেয়া সম্ভব কী? বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সরবরাহ করছে। কিন্তু তার চেয়ে গ্রাহকের চাহিদা কয়েকগুণ বেশি। সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় টাকা তুলতে আসা বেসরকারী চাকরিজীবী রহমত উল্ল্যাহ বলেন, কাল রাতে গ্রামের বাড়ি যাবো। বুধবার ব্যাংক বন্ধ তাই প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে এসেছি। আধা ঘণ্টা যাবৎ দাঁড়িয়ে আছি। যে লম্বা লাইন, মনে হচ্ছে আর বেশকিছু সময় দাঁড়াতে হবে। গ্রাহকের ভোগান্তি কমাতে ঈদ উপলক্ষে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত কাউন্টার খোলার দাবি জানান এ গ্রাহক। সিটি ব্যাংকের মতিঝিল শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, সকাল থেকেই গ্রাহকের দীর্ঘ লাইন। দম ফেলানোর কোন সময় নেই। টাকা জমা দেয়ার চেয়ে উত্তোলনের পরিমাণ বেশি।