২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ছোট কাগজ উচ্ছ্বাসে ঋদ্ধ ‘উছল’


সাহিত্য প্রকাশনার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে লিটল মাগ্যাজিন অত্যন্ত ব্যাপৃত ও জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। লিটল ম্যাগাজিনের কথা স্মরণ করলে, এর সাথে উঠে আসে সাহিত্য আন্দোলনসহ নানাবিধ কথন। লিটলম্যাগ তারুণ্যতায় উচ্ছ্বল কিন্তু লেখনীতে উচ্ছ্বাস সম্বলিত নয়। বরং গভীর চিন্তাশীল, ব্যতিক্রম নিরীক্ষার প্রেক্ষাগৃহ হিসেবে নিজের অবস্থা জানান দেয় প্রতিটি ছোটকাগজ। সময়ের চাকচিক্যে, বসন্তরঙিন মোড়কে থাকা লিটলম্যাগের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। দেশের প্রতিটি জেলা, এমনকি জেলার প্রত্যন্ত কোন অঞ্চল থেকেও অসংখ্য ছোটকাগজ প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করি, পাঠকের হাতে পৌঁছা অধিকাংশ কাগজগুলোই ক্ষণায়ু পেয়ে থাকে। তাই সমসাময়িককালে লিটলম্যাগ প্রকাশের ধারাবাহিকতা রক্ষা হচ্ছে না। কোন কোন লিটলম্যাগ প্রারম্ভ সংখ্যাতেই তার পথচলা থেমে গেছে। খুব অল্প কিছু ছোটকাগজকেই আমরা পাই যেগুলো নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে, টিকে আছে সংখ্যার পর সংখ্যা এবং বাধা পেরিয়ে। তবে এও অস্বীকার করা যাচ্ছে না যে, ক্ষণস্থায়ী ছোটকাগজগুলো তাদের চিন্তাকে উপস্থাপন করে, যোগ করে নতুন মাত্রা।

সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে সাহিত্য একাডেমি চাঁদপুর-এর মুখপত্র ‘উছল’। চলতি সংখ্যায় চাঁদপুরের সাহিত্যিকদের সাথে সাথে লিখেছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাহিত্যিকরাও। এ সংখ্যায় প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গল্প, কবিতা, ছড়া প্রকাশিত হলেও সর্বাপেক্ষা সমৃদ্ধ শাখা প্রবন্ধ। বিশেষত প্রবন্ধগুলো ছোটকাগজটিকে ভিন্ন এক উচ্চতা দান করেছে। প্রবন্ধ লিখেছেন সদ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও গবেষক শান্তনু কায়সার, মামুন সিদ্দিকী, কমরুদ্দিন আহমদ, পীযূষ কান্তি বড়ুয়া প্রমুখ। কবিয়াল ও কবিগান বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও বর্তমানে তা বিলুপ্ত প্রায়। কবিয়াল কিংবা কবিগান নিয়ে স্বল্প পরিসরে অনেকে লিখলেও বিস্তৃভাবে লেখা হচ্ছে খুবই কম। আলোচ্য সংখ্যায় ‘কবিয়াল ও কবিগান : যে দেউটি নিভু নিভু’ শিরোনামে চমৎকার ও শ্রমসম্য একটি প্রবন্ধ লিখেছেন পীযূষ কান্তি বড়ুয়া। তাঁর এ রচনা থেকে ক’ লাইন পাঠ করা যাক। তিনি লিখেছেনÑ

‘ধর্ম-রাজনীতি, পুরাণ-দর্শন, লোকজদেশজ, বিদেশি-আদিবাসী, দেশপ্রেমী-বেনিয়া, গ্রাম্য-শহুরে, আদিম আধুনিক সকল উপাদান মিলে-মিশে নিংড়ানো নির্যাসে তৈরি হয়েছে খাঁটি বাঙালি সংস্কৃতির কীর্তিময়-রুচিময় স্নেহধারা। এই অনিন্দ্য অনন্য সাংস্কৃতিক স্রোতধারার একটা গৌরব গ্রন্থিত অংশ বাংলা কবিগান।... কবিয়ালরা এদেশেরই ভূমিপুত্র, এ ভূমিরই অবহেলিত অংশের নান্দনিক ক্ষুদ্রগোষ্ঠী যারা শত-সহস্র দারিদ্র্যের কষাঘাতের মধ্যেও নান্দনিক বিনোদনকে বাঁচিয়ে রাখে জাগিয়ে রাখতে চেষ্টা করে।’

আলোচ্য সংখ্যায় দীর্ঘ কবিতা পর্বে লিখেছেন এসএম জয়নাল আবেদীন, শাহ বুলবুল ও সৌম্য সালেক। কবিতা লিখেছেন ইসহাক সিদ্দিকী, ইকবাল আনোয়ার, মনসুর আজিজ, তছলিম হোসেন হাওলাদার, ম. নূরে আলম পাটওয়ারী, আইউব সৈয়দ, জসিম মেহেদী, হাসান হাবিব, হাসানুজ্জামান, দন্ত্যন ইসলাম, প্রকৌঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেন, পীযূষ কান্তি রায় চৌধুরী, কবির হোসেন মিজি, কাদের পলাশ, সুমন কুমার দত্ত, রফিকুজ্জামান রনি, দুখাই মুহাম্মদ, সাদি শাশ্বত, আশিক বিন রহিম, মনিরুজ্জামান প্রমউখ, সাইফুল ইসলাম নাবিদ, সোহরাব হোসাইন, গাজী কবির, কাজী শহীদুল ইসলাম সাইফ, মোঃ হাশিম প্রধানিয়া, মাইনুল ইসলাম মানিক, মাইনুল হক তোহা, ফয়সাল মৃধা, রণজিৎ চন্দ্র রায়, আসাদুল্লা কাহাফ, মীর সাহাবুদ্দিন, রিয়াদ হোসেন রিদু, ছিদ্দিকুর রহমান, আফজাল হোসেন, শোয়েব সাইফী প্রমুখ।

গল্প লিখেছেন খালেদ চৌধুরী, রফিকুজ্জামান রনি ও মুহাম্মদ ফরিদ হাসান। ছড়া লিখেছেন মহসিন মিজি, কবির হোসেন মিজি প্রমুখ। সাম্প্রতিক সময়ের লিটলম্যাগগুলোতে ভ্রমণ কাহিনী স্থান না পেলেও ‘উছল’ এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। ‘অমসৃণ সড়কে মসৃণ আনন্দ’ শিরোনামে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের দুটি স্মৃতিধন্য স্থান ভ্রমণের কথা লিখেছেন চাঁদপুরের বিদগ্ধ লেখক কাজী শাহাদাত। ওস্তাদ আয়েত আলী খানকে নিয়ে লিখেছেন মনোহর আলী এবং চাঁদপুর রবীন্দ্রনাথের আগমনের কথা সুখপাঠ্য করে লিখেছেন ম. নূরে আলম পাটওয়ারী। ‘উছল’ দুষ্প্রাপ্য রচনা হিসেবে সংযোজিত হয়েছে চাঁদপুরের কৃতী সন্তান, সর্বজন শ্রদ্ধেয় সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনের একখানি পত্র।

সবমিলিয়ে ‘উছল’ এর চলতি সংখ্যাকে একটি সমৃদ্ধ ও ব্যতিক্রম সংখ্যাই বলা যায়। চলতি সংখ্যার প্রচ্ছদ করেছেন জিলানী আলম। উছল সম্পাদক সৌম্য সালেক। ১২৪ পৃষ্ঠার মূল্য ধরা হয়েছে ১০০ টাকা মাত্র।