১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

শ্রুতির জয় বাংলা এ্যাওয়ার্ড


তরুণরাই পারে এই দেশকে গড়তে, সমাজকে গড়তে। সকল বাঁধা-বিপত্তি এড়িয়ে তরুণরাই আজকের বাংলাদেশকে আলোর পথে নিয়ে যাবে। কালজয়ী ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে ধারণ করে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল তরুণদের স্বীকৃতি দিতে একই মঞ্চে মেধাবী তরুণদের নিয়ে এসেছে অরাজনৈতিক সংগঠন ‘ইয়ং বাংলা’। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা তরুণদের সমাজসেবা, উদ্ভাবন ও গবেষণা, ব্যবসায়িক উদ্যোগ, সামাজিক উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ, সাংস্কৃতিক উদ্যোগ ও অভূতপূর্ব উদ্ভাবনসহ সব ইতিবাচক অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে ইয়ং বাংলা প্রদান করল ‘জয় বাংলা ইয়ুথ এ্যাওয়ার্ড-২০১৫’। সেন্টার ফর রিসার্চ এ্যান্ড ইনিশিয়েটিভের উদ্যোগে গত ২ মে ২০১৫ শনিবার খামাড়বাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হয় জয় বাংলা ইয়ুথ এ্যাওয়ার্ডের জমকালো অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। সারাদেশ থেকে এক হাজার ৪৬৯ তরুণ-তরুণীর মধ্য থেকে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে ৩০ জনকে প্রদান করা হয় ‘জয় বাংলা ইয়ুথ এ্যাওয়ার্ড’।

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে শিক্ষিত করে সুনাগরিক করে গড়ে তুলতে সহায্য, সৃষ্টিশীল কাজ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনের জন্য সিলেটের মেধাবী তরুণ সংগঠক আবৃত্তিশিল্পী সুকান্ত গুপ্ত ও তার সংগঠন শ্রুতি সিলেটকে প্রদান করা হয় জয় বাংলা ইয়ুথ এ্যাওয়ার্ড। সুকান্তের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় জানা যায়Ñ এসএসসি পাস করে বেরুনোর পরই শুদ্ধ সাহিত্য সংস্কৃতির বিকাশে ভবিষ্যত প্রজন্মকে নিয়ে ২০০০ সালে শ্রুতি সিলেটের জন্ম। এর আগেই সাহিত্য-সংস্কৃতির নানা ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। চর্চা করেছেন আবৃত্তি-সঙ্গীত নিয়ে।

এ শতাব্দীর গোড়ার দিকে সুকান্ত ও তাঁর ভাই সুমন্ত গড়ে তোলেন শ্রুতি। শ্রুতি সিলেটের অন্যতম লক্ষ্য হলো মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শুদ্ধ সংস্কৃতির বিকাশে বর্তমান প্রজন্মকে নিয়ে কাজ করা। এ লক্ষ্যে শিশু-কিশোরদের আবৃত্তি সঙ্গীত চারুকলায় প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। শুধু প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নয় সৃষ্টিশীল সকল কাজের মাধ্যমে ভবিষ্যত প্রজন্মকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁর কাজকর্মের উদ্ভাবনী কৌশলের দিকে লক্ষ্য করলে বুঝা যায় তাঁর আন্তরিকতা, তাঁর আত্মনিয়োগের কথা। মহান বিজয় দিবসের দিন শেষ বিকেলের সূর্য অস্তমিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যত প্রজন্মের প্রায় চারশতাধিক শিশু-কিশোর বের করে আলোর পদযাত্রা। সবার কণ্ঠে থাকে ও আলোর পথযাত্রী এখানে থেমো না, কিংবা আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণের মতো অবিনাশী গান। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আয়োজন করে বর্ণমালার মিছিলের। নগ্ন পায়ে বর্ণমালা হাতে এগিয়ে চলে ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শকরা। উদ্বুদ্ধ করা হয় মাতৃভাষা চর্চার জন্য। এছাড়া বছরজুড়ে তাদের নানা উদ্ভাবনী কার্যক্রম যেমন শীতে পিঠা উৎসব, বৈশাখে বর্ষবরণ উৎসব, বর্ষাবরণ, শরৎবরণ মনে করিয়ে দেয় বাঙালী জাতি উৎসবের জাতি, আনন্দের জাতি। উৎসবের মাধ্যমে ফুটে ওঠে ভ্রাতৃত্ববোধের কথা, অসাম্প্রদায়িকতার কথা। এছাড়া শ্রুতি করে আসছে লোক উৎসব, রবীন্দ্র নজরুলজয়ন্তী, পাঠচক্রসহ নানা আয়োজন। সুকান্তের সম্পাদনায় দীর্ঘ সময় ধরে বের হয়ে আসছে ষান্মাসিক লিটল ম্যাগ, ত্রৈমাসিক শিশু-কিশোর পত্রিকাসহ বেশ কয়েকটি গ্রন্থ।

প্রতিটি কর্মকা-ের পদ্ধতি কিংবা কার্যকরণ দেখে বোঝা যায়, নতুন প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতির একেবারে শিকড় থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত পরিচয় করিয়ে দেয়ার কাজটি অত্যন্ত নিষ্ঠা এবং একাগ্রচিত্তে করে যাচ্ছে সুকান্ত-সুমন্ত ও সংগঠন শ্রুতি। সংস্কৃতির বিষয়ে সচেতননা গড়ে তোলে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে আমরা তুলে দিতে পারছে আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে। সকল কুসংস্কার কিংবা সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অন্যতম অস্ত্র হচ্ছে শুদ্ধ সংস্কৃতি। আর একটি সংস্কৃতিবান ব্যক্তিই পারে দেশ ও জাতিকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে।

ডিপ্রজন্ম ডেস্ক