২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ছিটমহলের উদ্ভব যেভাবে


ভারত-পাকিস্তান ভাগ হওয়ার পরে ১৯৪৭ সালে রেডক্লিফের মানচিত্র বিভাজন থেকেই উদ্ভব ছিটমহলের। সে সময় এক দেশের ভূখ-ে থেকে যায় অন্য দেশের অংশ। ভারতের কয়েকটি অংশ পড়ে পাকিস্তানে। আর পাকিস্তানের কয়েকটি অংশ যায় ভারতে। এতে এক অসহনীয় মানবিক সমস্যার উদ্ভব হয়। সে সময় কোচবিহার রাজ্যের কোচ রাজার জমিদারির কিছু অংশ রাজ্যের বাইরের বিভিন্ন থানা পঞ্চগড়, ডিমলা, দেবীগঞ্জ, পাটগ্রাম, হাতিবান্ধা, লালমনিরহাট, ফুলবাড়ী ও ভূঁরুঙ্গামারীতে অবস্থিত ছিল। ভারত ভাগের পর ওই আট থানা পূর্ব পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত হয়। আর কোচবিহার একীভূত হয় পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। ফলে ভারতের কিছু ভূখ- আসে বাংলাদেশের কাছে। আর বাংলাদেশের কিছু ভূখ- যায় ভারতে। এই ভূমিগুলোই হচ্ছে ছিটমহল।

বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুর ও কোচবিহারের সীমানা নিয়ে দেশভাগের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। রংপুরের মহারাজা ও কোচবিহারের রাজার মধ্যে ছিটমহলের ওই এলাকাগুলো নিয়ে মোগল আমল থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। আর দেশভাগের পরে যে মানচিত্র বিভাজন করেন রেডক্লিফ, সেখানে চূড়ান্তভাবে ছিটমহলের উদ্ভব হয়। ১৯৪৭ সালে বাংলা ও পাঞ্জাবের সীমারেখা টানার পরিকল্পনা করেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্রিটিশ আইনজীবী সিরিল রেডক্লিফকে প্রধান করে সে বছরই গঠন করা হয় সীমানা নির্ধারণের কমিশন। ১৯৪৭ সালের ৮ জুলাই লন্ডন থেকে ভারতে আসেন রেডক্লিফ। মাত্র ছয় সপ্তাহের মাথায় ১৩ আগস্ট তিনি সীমানা নির্ধারণের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। এর তিন দিন পর ১৬ আগস্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় সীমানার মানচিত্র। রেডক্লিফের মানচিত্র বিভাজন থেকেই উদ্ভব ছিটমহলের।

তাসের বাজি

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, মোগল আমলে কোচবিহারে রাজা ও রংপুরের মহারাজা নিজ নিজ এলাকার ছিটমহল নিয়ে তাস খেলায় বাজি ধরতেন। সে সময় কোন রাজা বাজিতে হেরে গেলে ছিটমহলের মালিকানাও এক রাজার কাছ থেকে অন্য রাজার কাছে চলে যেত। এভাবে একদিনের তাসের বাজির জয় পরাজয়ে ছিটমহলের মালিকানার পরিবর্তন হতো। কোচ রাজা ও রংপুরের মহারাজা ছিলেন মূলত ছিল সামন্ত। তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, ছিল ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে মহলের বিনিময়। সেই মোগল আমলে প্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই ক্ষুদ্র রাজ্যের মহারাজা মিলিত হতেন তিস্তার পাড়ে তাস খেলার উদ্দেশ্যে। খেলায় বাজি ধরা হতো বিভিন্ন মহলকে, যা কাগজের টুকরা দিয়ে চিহ্নিত করা হতো। খেলায় হারজিতের মধ্য দিয়ে এই কাগজের টুকরা বা ছিট বিনিময় হতো। সঙ্গে সঙ্গে বদলাতো সংশ্লিষ্ট মহলের মালিকানা। এভাবেই প্রতিনিয়ত একের রাজ্যের ভেতরে অন্যের ছিটমহল বিনিময় হতো। আর সেই মহলের বাসিন্দারাও অন্য রাজার অধীনে চলে যেতেন। ‘ছিট’ শব্দের শাব্দিক অর্থ খ- বা টুকরা। বিভিন্ন মহলকে এক একটি খ-ে বিভক্ত করার পরে এর নাম হয় ছিটমহল। মোগল আমল থেকেই দুই রাজার এসব জমিকে ছিটমহল বলা হতো। তবে দেশ ভাগের পরে এসব এলাকারই আনুষ্ঠানিকভাবে নামকরণ হয়ে যায় ছিটমহল। আর ওই এলাকার মানুষরা বাইরে পরিচিতি পায় ‘ছিটের মানুষ’।