২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মৃত্যুর পর গাছ!


বৈশ্বিক উষ্ণতার আঁচ পড়ছে কম বেশি বিশ্বের প্রতিটি দেশেই। নির্মল পৃথিবী ক্রমাগত বন্দী হচ্ছে দূষণের দুষ্টচক্রে। তবে এর সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে উন্নয়নশীল কিংবা দরিদ্র দেশগুলোতে। ফলে বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ সচেতন মানুষই চিন্তিত এ পরিবেশ দূষণ নিয়ে, তাকে রোধ করতে। এদিকে দূষণ কী করে কমানো যাবে তার সূত্র খুঁজতে বসে নেই গবেষকরাও। নব নব আবিষ্কারে ব্যস্ত বিজ্ঞানীরা। এমনই এক প্রযুক্তি হলো ‘গ্রিন বারিয়াল’, যার বাংলা নামকরণ করা যেতে পারে ‘সবুজ সমাধি’।

মূলত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে পরিবেশ দূষণ হ্রাস করতে। মৃত্যু এবং সমাধিও এর ব্যতিক্রম নয়। সম্প্রতি ঈধঢ়ংঁষধ গঁহফর কোম্পানিটি উদ্ভাবন করেছে সবুজ সমাধির এক বিচিত্র পরিকল্পনা। জীবদ্দশায় কোন মানুষ যদি প্রকৃতিপ্রেমী হয়ে থাকেন, তবে তার মৃত্যুর পরও পরিবেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখার জন্য রয়েছে এক অনন্য সুযোগ। এক্ষেত্রে সমাধিক্ষেত্রে শায়িত হওয়ার পরিবর্তে মৃত ব্যক্তিটির সমাধি হবে একটি বনভূমিতে। সেই বনভূমির একটি বৃক্ষে পরিণত হবেন ওই মৃত ব্যক্তিটি। এখন সহজাতভাবেই প্রশ্ন আসে, কী করে সম্ভব হবে এই আপাত অসাধ্য কাজটি? প্রকৃতপক্ষে মৃত ব্যক্তিটিকে স্থাপন করা হবে ডিম্বাকৃতি একটি কফিনের ভেতর। ওই কফিন তৈরি হবে বায়োডিগ্রেডেবল পদার্থ দিয়ে। এরপর একে সমাধিস্থ করা হবে বনভূমিতে। ঠিক এর ওপরে রোপণ করা হবে একটি গাছের চারা। আর এই কফিন থেকে অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে বেড়ে উঠবে সেই বৃক্ষ। সাধারণ সমাধিক্ষেত্রের তুলনায় এই সবুজ সমাধি অনেকটাই ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি’ অর্থাৎ পরিবেশবান্ধব। তবে এখনও পর্যন্ত একটি ধারণা হিসেবেই আছে এই সবুজ সমাধি। কিন্তু ঈধঢ়ংঁষধ গঁহফর আশা করছে, ভবিষ্যতে বিলুপ্তি ঘটবে সাধারণ সব সমাধিক্ষেত্রের। পাশাপাশি সবুজ সমাধি দিয়ে গড়ে উঠবে স্মৃতির বনভূমি। প্রিয়জনের স্মৃতির পাশাপাশি তা বাঁচিয়ে রাখবে আমাদের এ সুন্দর পৃথিবীকেও।

সূত্র : এলিট ডেইলি