২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জার্ডনস ব্যাবলার পাখি বিলুপ্ত হয়নি


কয়েক দশক আগে ডোডো পাখি যেভাবে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, তেমনিভাবে মিয়ানমারে বিলুপ্ত হওয়া জার্ডনস ব্যাবলার পাখিটি সে দেশে পুনরাবিষ্কৃত হয়েছে। এক দল বিজ্ঞানী সম্প্রতি মিয়ানমারে গবেষণামূলক অভিযানে এই পাখিটিকে জীবিত ও বহাল তবিয়তে দেখতে পান। তাঁরা পাখিটির ডাক শোনামাত্র আর দেরি না করে সেটাকে রেকর্ড করে রাখেন এবং পরে বাজিয়ে শোনান। সেই ডাকে সাড়া দিয়েই ওই পাখিদেরই একটি সরাসরি চলে এসে দেখে, ব্যাপারটা কি।

দীর্ঘদিন ধরে, বিলুপ্ত হিসেবে গণ্য করা কোন প্রজাতি যে, এই প্রথম পুনরাবিষ্কৃত হলো তা নয়। ওরসেসটরস বাটনকোয়েল নামে ফিলিপিন্সে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া একটি পাখি ২০০৯ সালে ধরা পড়ে। প্রথমবারের মতো পাখিটির ছবি তুলে পরে পোল্ট্রি বাজারে বিক্রি করে দেয়া হয়। গবেষকরা আশা করছেন, বিলুপ্ত শ্রেণীতে অন্তর্গত আরও কিছু পাখিকে আবার দেখতে পাওয়া যাবে। যেমন, থাইল্যান্ডের শ্বেত চক্ষুর রিভার মার্টিন, যা ১৯৭৮ সালে শেষবার দেখা গিয়েছিল এবং গোলাপী মাথাওলা হাঁস, যা সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৪৯ সালে।

বিজ্ঞানী দলটির নেতৃত্ব দিয়েছিল, ওয়াইল্ড লাইভ কনজারভেশন সোসাইটি। গত মে মাসে দলটি মিয়ানমারের একটি পরিত্যক্ত কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কাছে ছোট তৃণভূমি এলাকায় বিভিন্ন পাখির ওপর গবেষণা চালানোর সময় জার্ডনস ব্যাবলারের স্বতন্ত্র ডাক শুনে সেই পাখিটির হদিস বের করেন। পাখিটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা ছিল বিজ্ঞানীদের। কিন্তু এর ডাক শুনে তা রেকর্ড করে পুনরায় সেই রেকর্ড বাজালে একটি পূর্ণবয়স্ক মিয়ানমার জার্ডনস ব্যাবলার কাছাকাছি চলে আসে। বিজ্ঞানী দলটি তখন ১৯৪১ সালের পর থেকে প্রথমবারের মতো পাখিটিকে এক নজর দেখতে পান।

পরবর্তী দু’দিন বিজ্ঞানীদের আরও বেশি কিছু এই ‘বিলুপ্ত’ পাখি দেখতে পান। তাঁরা কয়েকটিকে ধরে রক্তের নমুনা ও হাই রেজ্যুলেশন ছবি সংগ্রহ করেন। জার্ডনস ব্যাবলারের তিনটি উপপ্রজাতি আছে। মিয়ানমার জার্ডনস ব্যাবলার তার একটি। বাদামী রঙের চড়ুই পাখির সাইজের এই পাখিটির জীবতাত্বিক নাম ক্রিসোম্মা অল্টিরোস্ট্রে। দক্ষিণ এশিয়ার সকল নদী অববাহিকায় পাখিটি দেখতে পাওয়া যায়।

পাখিটির প্রথম বর্ণনা দেন ব্রিটিশ প্রকৃতিবিজ্ঞানী টি,সি জার্ডন, ১৮৬২ সালে। এটি শেষবারের মতো দেখা যায় মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলে সিত্তাউং নদীর বন্যাবিধৌত সমভূমির বুকে অবস্থিত মিটকিউ শহরের কাছে। এলাকাটি আগে ছিল তৃণভূমি এলাকা বা মূলত পাখ-পাখালির জন্য অনুকূলে। গত এক শতাব্দীতে এলাকাটিকে মানববসতি ও খামার অঞ্চলে রূপান্তরিত করা হয়। ফলে পাখিরাও তাদের আশ্রয় এলাকা হারিয়ে ফেলে। এভাবে একসময় মিয়ানমার জার্ডন ব্যাবলারও লোকচক্ষুর অন্তরালে হারিয়ে যায়। একে ফেলা হয় বিলুপ্তির শ্রেণীতে। আজ এত বছর পর পাখিটিকে যে আবার দেখতে পাওয়া গেল, তা এক রীতিমতো বিস্ময়। তদুপরি একই শ্রেণীর বেশ কিছু পাখি দেখতে পাওয়া অত্যন্ত শুভ লক্ষণ। এ থেকে বোঝা যায় ওরা আছে। বিলুপ্ত হয়নি। ওদের বসতি এলাকা একেবারে কমে গেলেও এখনও আছে।

সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফি

প্রকৃতি ও বিজ্ঞান ডেস্ক