১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ঘরে-বাইরে নারী


ঘরে বাইরে সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে নারী। শিক্ষায়দীক্ষায় নারীর এগিয়ে যাওয়া চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষাগুলোর ফলাফলের দিকে তাকালে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। শীর্ষস্থানগুলো দখল করে রেখেছে মেয়েরা। পাশাপাশি কর্মস্থলে দৃঢ়তার স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছে এ যুগের নারীরা। যার ফলশ্রুতিতে কর্পোরেট সেক্টরের শীর্ষস্থানীয় অনেক আসন আজ নারীদের দখলে। যোগ্যতার পরিচয় দিয়েই এ আসনে আসীন হয়েছে। নিঃসন্দেহে একটি জাতির জন্য ইতিবাচক একটি দিক। বাংলাদেশে নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে যে বাস্তবিকই কার্যকর অগ্রগতি হয়েছেÑ তার স্বীকৃতি এখন পাওয়া যাচ্ছে। এখানে স্কুলে মেয়েদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি অনেকেরই প্রশংসা অর্জন করেছে। সম্প্রতি ভারতের নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বে একমাত্র দেশ, যেখানে ছেলেদের তুলনায় স্কুলে মেয়েদের উপস্থিতির হার বেশি। বাস্তবিকই নানা সমস্যায় জর্জরিত বাংলাদেশে গত দু’তিন দশক ধরে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও কিছু ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে; এর মধ্যে অন্যতম হলো নারী উন্নয়ন। অনেক উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় এখানে মাতৃমৃত্যুর হার যথেষ্ট কম। একই সঙ্গে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

১৯৪৮ সালের মানবাধিকার সনদে নারীর অধিকার অর্জনের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়। জাতিসংঘ নারীর অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক নারীবর্ষ পালন, নারী দশক ঘোষণা, বিশ্ব নারী সম্মেলন, সিডও সনদসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

আবার বিভিন্ন দেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীদের সমমর্যাদায় আসীন করার জন্য বিভিন্ন রকম নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়। এর ফলে নারীরা দাস, সামন্ত ও পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা থেকে ভাল অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বজুড়ে নারীর ক্ষমতায়নের জোয়ার বইয়ে দেয়ার কথা সুধীজনেরা বললেও বাস্তবিক কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। যেমন নারীনির্যাতন ভিন্নরূপ পরিগ্রহ করছে। এখন হয়ত নারীরা গৃহবন্দী, অবরোধবাসিনী হয়ে থাকছে না, এখন হয়ত নারী শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে, কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে, কিছু নাগরিক অধিকার আদায় করতে পারছে কিন্তু এখনও নারীদের প্রতি অধিকাংশ পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি নারী ভোগ্যপণ্য। অনেকেই এটা নিয়ে হয়ত বির্তক জুড়ে দেবেন। কিন্তু সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এটি সত্যি যে কোন স্তরবিন্যাসেই হোক না কেন। নারীরা আজ বিজ্ঞাপনে মডেলিং করছে, যা অনেকটা নিজেদের পণ্য হিসেবে তুলে ধরার মতোই। টেলিভিশনে এমন কিছু বিজ্ঞাপন দেখা যায়, যেখানে নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবেই তুলে ধরা হয়। এছাড়া সিনেমা, নাটকেও নারীকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, মনে হয় যে নারীর সৌন্দর্যই মুখ্য যা প্রকৃতপক্ষে নারীর জন্য মর্যাদাহানিকর। সুন্দরী প্রতিযোগিতা হয় বিভিন্ন জায়গায়, যা নারীকে পণ্যরূপে বিবেচনা করার শামিল। নারীর শরীরি উপস্থাপনই, যে সকল ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে সেই সকল ক্ষেত্রে নারীকে প্রকৃতপক্ষে ছোট করেই উপস্থাপন করা হয়। নারীকে অধীনস্থ করে রাখা, সমমর্যাদায় আসীন না হতে দেয়া তথা নারীর মর্যাদা ক্ষুণœ করার এটি একটি আধুনিক কৌশল। সুসভ্য জাতি তো আর সেই দাস সামন্ত বা পুঁজিবাদী সমাজের পুরুষদের মতো নারীকে প্রকাশ্য অধীনস্থ করে রাখতে পারছে না। তাই গ্রহণ করা হয়েছে, ভদ্রবেশী কূটকৌশল যা নারীকে অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিলেও নারীকে উপস্থাপন করে ভোগ্যপণ্য হিসেবেই। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শারীরিক ও মানসিক দুইভাবে প্রকাশ্য নারী নির্যাতন চললেও উন্নত আদর্শ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে নারীকে অধস্তন করে রাখা হয় পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে নারীকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রহণ করা হয় না। এসব ক্ষেত্রে শুধু পুরুষদের দোষ দিলেই হবে না, এক্ষেত্রে নারীদের অতি মানবীয় নারী কেন্দ্রিক মানসিকতা অনেকটা দায়ী। নারীকে তার যথাযথ সম্মানের আসনে বসাতে হলে পুরুষদের যেমন নারীর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসতে হবে। তেমনি নারীদেরও তাদের মর্যাদার কথা মনে রাখতে হবে।

ছবি : আরিফ আহমেদ

মডেল : রুমানা

ও নাদিয়া নদী